এবার আমরণ অনশনে ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধরা


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-06-28 17:23:43 BdST | Updated: 2019-07-21 06:30:23 BdST

এক মাস তিন দিনের অবস্থান কর্মসূচির মাথায় এবার আমরণ অনশন শুরু করেছেন ‘ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা’। চার দফা দাবি পূরণে আওয়ামী লীগ কিংবা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে তাদের নতুন এই কর্মসূচি।

আজ শুক্রবার বেলা দুইটা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তাঁরা আমরণ অনশনে বসেন। তাঁরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি মানতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন ছাত্রলীগের কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অংশের সদস্যরা। তবে এই সময়ের মধ্যে দাবির পক্ষে কোনো আশ্বাস না মেলায় আজ তাঁরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।

তাঁদের চার দফা দাবি হলো, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, পদ শূন্য ঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটির ১৯ জনের পদসহ নাম প্রকাশ, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে পদবঞ্চিতদের মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটিতে পদায়ন এবং মধুর ক্যানটিনে (১৩ মে) ও টিএসসিতে (১৯ মে) তাঁদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার ৷

আমরণ অনশন কর্মসূচির বিষয়ে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অংশের মুখপাত্র ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন  বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল কোনো পর্যায় থেকে দাবি পূরণের কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় আমরা আমরণ অনশন শুরু করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। আমাদের প্রাণের বিনিময়ে যদি ছাত্রলীগ কলঙ্কমুক্ত হয়, তবে তা-ই হোক।’

অনশনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের বিগত কমিটির উপদপ্তর সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম বলেন, আলোচনার দরজা এখনো খোলা আছে। আওয়ামী লীগ কিংবা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলদের আশ্বাসের অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। ছাত্রলীগের কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অন্তত ৩৫ জন নেতা অনশনে অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।

‘যা যা ঘটেছে’
এই সংকটের শুরু গত ১৩ মে। ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশের প্রায় ১০ মাস পর সেদিন ঘোষণা করা হয় সংগঠনের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কমিটি করতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কমিটি ঘোষণার দিন সন্ধ্যায় কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন নারী নেত্রীসহ ১০-১২ জন আহত হন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেদিন রাতে আহতদের দেখতে হাসপাতালে গেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী পদবঞ্চিতদের তোপের মুখে পড়ে ফিরে যান। পরদিন সকালে সংবাদ সম্মেলন করে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ারা। এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে অনশন ও সংগঠন থেকে গণপদত্যাগের মতো কর্মসূচির হুমকিও দেন তাঁরা।

এর পরদিন দুপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে গণভবনে ডেকে ছাত্রলীগের কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন রাতেই সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্তদের বহিষ্কারে ২৪ ঘণ্টা সময় নেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সেখানে বিতর্কিত ১৬ জনের নামও প্রকাশ করেন তাঁরা। তার পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটিতে থাকা ‘বিতর্কিত’ ও ‘অযোগ্য’ ৯৯ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেন পদবঞ্চিতরা।

১৯ মে টিএসসিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের হাতে ফের মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন পদবঞ্চিতরা। এক দিনের মাথায় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আশ্বাসে তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান। পরের দিন মধুর ক্যানটিনের ঘটনায় ৫ জনকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। বহিষ্কৃত হওয়ার দুঃখে রাতেই জারিন দিয়া নামের এক নেত্রী ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এরপর ২৬ মে রাতে নবগঠিত কমিটির সবাইকে নিয়ে পরদিন ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ। সেদিন দিবাগত রাত থেকে এখনো পর্যন্ত টানা অবস্থানে রয়েছেন পদবঞ্চিতরা। ৫ জুন ঈদুল ফিতরের দিনটিও তাঁরা সেখানেই কাটান। এর মধ্যে ২৮ মে দিবাগত রাতে কমিটির বিতর্কিত ১৯ জনের পদ শূন্য ঘোষণা করেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তবে যাঁদের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের নাম প্রকাশ করেনি ছাত্রলীগ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।