অছাত্র ও বয়স্কদের নেতৃত্বই দুর্বল করে দিয়েছে ছাত্রদলকে


ঢাকা
Published: 2019-07-05 00:11:20 BdST | Updated: 2019-09-21 16:51:12 BdST

অনিয়মিত কাউন্সিল, বয়স্ক,  অছাত্র ও অনিয়মিত কর্মীদের নেতৃত্ব দিন দিন দুর্বল করে দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।দলটির নেতৃত্বে নিয়মিত ছাত্ররা না আসায় যেসব শিক্ষার্থী ছাত্রদল করতে উদ্বুদ্ধ তারা এ দলে ভিড়তে শংকা অনুভব করছেন।

সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ছাত্রদলের উজ্জীবিত ও নিয়মিত কর্মীরা নেতৃত্বে না আসার শংকায় পড়েছেন।

শোনা যাচ্ছে, এবারও ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসছেন অছাত্র ও বয়স্কদের মধ্য থেকেই। বয়স্করা নেতৃত্বে আসার জন্য পল্টনে বিএনপি অফিস ঘেরাও করেছিল। তাদের সাথে সমঝোতায় যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অভিভাবক সংগঠন বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, এভাবে অনিয়মিত ছাত্র ও বয়স্কদের যদি নেতৃত্বে আনা হয় তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনো ছাত্রদলের প্রতি আকৃষ্ট হবে না। এতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন যথাযথভাবে করা হয় না।

এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে তারা কোনো কর্মসূচিও দিতে পারে না।

অছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব গেলে কোন কর্মসূচি তারা সংঘবদ্ধভাবে পালন করতে পারে না। ফলে রাজনীতিতে বিএনপি'র জন্য কোন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে না ছাত্রদল।

গত ১০বছরে এ রকমই দেখা গিয়েছে।

ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী যারা নিয়মিত ছাত্র তারা বলছেন, বয়স্কদের হাতে নেতৃত্ব গেলে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা যাা আছে তাও হারাবে।

এদিকে ছাত্রদলের নেতা হতে ২০০০ সালে এসএসসি পাশকে মানদণ্ড করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বয়স হবে ৩৬। এই বয়সের নেতাদের দ্বারা কি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব, প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের।     

এদিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, অছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত কোন সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করতে পারবে না। অছাত্ররা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করবে? ছাত্র রাজনীতি করতে হলে অবশ্যই নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে কাজ করতে হবে। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করবে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।

জানা গেছে, ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা যাদের তাদের অধিকাংশই এখন আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেই। কিন্তু তারা তদবিরের মাধ্যমে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে চাচ্ছেন।

গত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল প্রার্থী সংকটে পড়ে। তখন হল লেভেল থেকে দুইজনকে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়। তখন তাদের পরিচিতি ক্যাম্পাসে তেমন ছিল না। নির্বাচনের মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচিতি লাভ করেছেন। অপরিচিতিই নির্বাচনে ভরাডুবির অন্যতম একটি কারণ ছিল।

এবারও যদি বয়স্কদের ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়া হয় আর যদি আগামী বছর ডাকসু নির্বাচন হয় সে ক্ষেত্রে আবারো প্রার্থী সংকটে পড়বে ছাত্রদল। তাই রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডাকসু নির্বাচনের যে বয়স নির্ধারণ করা আছে তার থেকে দুই বছর কমিয়ে ছাত্র দলের নেতৃত্ব বাছাই করা উচিত। যাতে ছাত্র দলের শীর্ষ নেতারা ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একাধিক নেতা বিষয়টি স্বীকার করেছেন যে, বয়স্ক ও অছাত্রদের নেতৃত্বে আনা উচিত নয়। আর বয়স্কদের কারণে ছাত্রদলের গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অনেকটাই কমে গিয়েছে। ফলে তারাও চাচ্ছেন তরুন ছাত্রনেতা। যাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল উজ্জীবিত হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সহযোগিতা করতে পারে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারে।

এদিকে দেখা গিয়েছে, কাউন্সিল ঘনিয়ে আসায় ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীরা ফেসবুকে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা পোস্টার বানিয়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাচ্ছেন। বিষয়টিকে নজরে নিয়ে রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্রদলের কাউন্সিল যদি নিয়মিত হত তাহলে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা এরকম প্রচার প্রচারণা চালাতো। নেতারা নিয়মিত প্রকাশ্যে রাজনীতি করতেন।  বিএনপি নেত্রীর মুক্তি চাইত। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রদলের সম্পর্ক আরো বাড়তো। ফলে বিএনপির রাজনীতি আরো শক্তিশালী হত।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।