তারেকের কাছে ক্ষমা চাইলো ছাত্রদলের বহিষ্কৃতরা, তারেক চাইলেন সহযোগিতা


ঢাকা
Published: 2019-08-06 08:16:12 BdST | Updated: 2019-08-18 03:27:20 BdST

ছাত্রদলের আসন্ন কাউন্সিল সফল করতে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত নেতা ও তাদের অনুসারীদের সহযোগিতা চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তারেক রহমান।

সোমবার (০৫ আগস্ট) বিকেল পাঁচটায় শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয় রাত সাড়ে ৯ টায়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন বহিষ্কৃত নেতা জানান, বৈঠকের শুরুতেই তারা তারেক রহমানের কাছে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। চলমান সংকট উত্তরণে ছাত্রদলের ভেঙে দেওয়া কমিটির সিনিয়র নেতাদের দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তারা। এই কমিটিই একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করে তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেবে।

বহিষ্কৃত নেতাদের এমন প্রস্তাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ছাত্রদলের আসন্ন কাউন্সিলে আপনারা সহযোগিতা করুন। আপনাদের বিষয়টি আমি দেখব। আপনাদেরকে কোথায় কীভাবে রাখলে ভালো হয়, সে বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দিন।’

তারেক রহমানের এমন আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা এবং তাদের অনুসারীরা আসন্ন কাউন্সিলে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি বয়সসীমা তুলে নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের সময় সংগঠিত অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য তারেক রহমানের কাছে ক্ষমা চান তারা।

ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা ও ভেঙে দেওয়া কমিটির সহ-সভাপতি ইকতিয়ার কবির সারাবাংলাকে বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) আমাদের অভিভাবক। আসন্ন কাউন্সিলের ব্যাপারে তিনি আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। আমরা সহযোগিতা করব। এরপর আমাদের রাজনীতি কী হবে, সেটা তিনিই ঠিক করে দেবেন।’

ছাত্রদলের ভেঙে দেওয়া কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান হাওলাদার  বলেন, ‘বৈঠকে আমরা আমাদের কথা বলেছি। তিনি (তারেক রহমান) মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আমাদের দায়-দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন। আমরা কাউন্সিলে সহযোগিতা করব। তিনি আমাদের দিকটা দেখবেন।’

ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় গত ২৩ জুন রাতে ১২ জনকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। বহিষ্কৃতরা হলেন- ছাত্রদলের ভেঙে দেওয়া কমিটির সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইকতিয়ার কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক এবং সদস্য আজীম পাটোয়ারি, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহিরউদ্দিন তুহিন।

এর আগে গত ৩ জুন ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলা হয় সেদিন। সেখানে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ২০০০ সালের পর থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পাবে।

এরপর বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা গত ১০ জুন নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। কার্যালয়ের ভেতরে রিজভীকেও তারা অবরুদ্ধ করে রাখে।

বহিষ্কার হওয়ার ৪৩ দিন পর সোমবার বিকেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করার সুযোগ পেলেন বহিষ্কৃতরাসহ তাদের অনুসারীরা। বৈঠকে বহিষ্কৃত নেতা এজমল হক পাইলট ছাড়া বাকি ১১ জন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রদলের ভেঙে দেওয়া কমিটির প্রায় ৭০/৮০ জন নেতাকর্মী বৈঠকে অংশ নেন। যারা গত ২ মাস ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

সূত্রমতে, বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে অন্তত ৩০/৩৫ জন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। এদের অনেকেই বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে জেল, জুলুম, মামলা, গ্রেফতার এমনকি গুমের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তারেক রহমানের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় একটা আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তারেক রহমান তাদেরকে সান্তনা দেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।