ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে শঙ্কা, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ


জাগো নিউজ
Published: 2019-09-02 23:13:36 BdST | Updated: 2019-09-22 07:30:20 BdST

দীর্ঘ ২৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে কাউন্সিল। কাউন্সিল ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। আছে শঙ্কাও। কারণ এর আগে ছাত্রদলের যেসব কমিটি হয়েছে তা ছিল ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়া। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো সংগঠন। দলীয় বিভাজনে গণতান্ত্রিক সংগঠনে চাপিয়ে দেয়া হতো অগণতান্ত্রিক কমিটি!

পাশাপাশি রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র, মামলা, হামলা ও গ্রেফতার। এত সব শঙ্কার মধ্যেও দীর্ঘদিন পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সিদ্ধান্তে উজ্জীবিত সংগঠনের তৃণমূল। যেখানে তৃণমূলের কোনো খোঁজখবর রাখতেন না কেন্দ্রের নেতা, এখন তারাই ছুটে যাচ্ছেন তৃণমূলে। হঠাৎ যেন কদর বেড়েছে তৃণমূল নেতৃবৃন্দের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল বাধাগ্রস্ত হতে পারে, এ কারণে অনলাইনে বিকল্প প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে কাউন্সিল সফল করতে বিকল্প এ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ছাত্রদলের বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আলোচনায় আছেন আট সিন্ডিকেটের ৩৩ প্রার্থীও। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল।

কাউন্সিল নিয়ে শঙ্কা রয়েছে ছাত্রদলের প্রার্থীদের মধ্যেও। সভাপতি প্রার্থী মো. এরশাদ খান বলেন, ‘আপনারা জানেন, কাউন্সিল নিয়ে সংগঠনের মধ্যে একটা বিরোধিতা ছিল। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে গণতান্ত্রিক এ প্রক্রিয়ার পক্ষে। কাউন্সিলের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে আমাকে কাউন্সিলবিরোধীদের তাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয়েছে। এখন তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকার গণতন্ত্রবান্ধব নয়, সে কারণে কাউন্সিল নিয়ে একধরনের শঙ্কা থেকেই যায়।’

‘তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। ওনার যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। সেক্ষেত্রে অনলাইনে কাউন্সিল হলে আমার আপত্তি থাকবে না।’

একই ধরনের মতামত ব্যক্ত করেন সভাপতিপ্রার্থী মাহামুদুল হাসান বাপ্পী, এস এম সাজিদ বাবু এবং সাধারণ সম্পাদকপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান।

সূত্র মতে, কাউন্সিল বাধাগ্রস্ত করতে দলের মধ্যে একটি মহল তৎপর। এছাড়া সংগঠনের ১২ জন বহিষ্কার হয়েছেন; বিবাহিত ও অন্যান্য বিবেচনায় প্রার্থিতা হারিয়েছেন, সংগঠনের মধ্যে রয়েছে সিন্ডিকেটও। সর্বোপরি বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত কাউন্সিলরদের সরকার গ্রেফতারসহ নানাভাবে হয়রানি করতে পারে- এ আশঙ্কা থেকে অনলাইনে কাউন্সিল সম্পন্নের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এজন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান এপোলোকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মামলা জটিলতার কারণে তিনি ২০১৬ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। গত সোমবার ভোটারদের ছবি ও অনলাইন নম্বরের তালিকা তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির (বিলুপ্ত) দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী এ প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনায় তিনি সারাদেশের কাউন্সিলরদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংগ্রহ করেছেন। এ তালিকা দলের কাছে তিনি জমা দিয়েছেন। তবে কী কারণে অনলাইন নম্বরের তালিকা করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।

ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো প্রকার শঙ্কা থেকে অনলাইনে বিকল্প প্রস্তুতি রয়েছে কি-না জানতে চাইলে কাউন্সিল পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন বলেন, ‘এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের এখনও হয়নি। কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সরকার যদি বাধা দেয় সেক্ষেত্রে আমরা পরবর্তীতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

ছাত্রদলের কাউন্সিলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় মোট ২৭ জন প্রার্থী স্থান পেয়েছেন। এদের মধ্যে সভাপতি পদে ৮ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন বৈধ প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

সোমবার ছাত্রদলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে যাচাই-বাছাই কমিটি বৈধ সভাপতি হিসাবে ১৩ জন ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ৩০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা প্রার্থীতার ক্ষেত্রে শর্তাবলি পূরণ করতে পারেনি তারা পরবর্তীতে আপিল করেন, আপিলেও যারা বাদ পড়েছিলেন তারা রিভিউ’র জন্য আবেদন করেন। আপিল ও রিভিউ শেষে সাধারণ সম্পাদক পদে ৬ জন প্রার্থীতা ফিরে পান।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সভাপতি পদে বৈধ ৮ জন প্রার্থী হলেন- হাফিজুর রহমান, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, রিয়াদ মোঃ তানভীর রেজা রুবেল, মোঃ এরশাদ খান, মোঃ ফজলুর রহমান খোকন, এসএম সাজিদ হাসান বাবু, এবিএম মাহমুদ আলম সরদার ও কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। সাধারণ সম্পাদক পদে বৈধ ১৯ জন প্রার্থী হলেন- মোঃ আমিনুর রহমান আমিন, শাহনাওয়াজ, মোঃ তানজিল হাসান, মোঃ জাকিরুল ইসলাম জাকির, মোহাম্মদ কারিমুল হাই (নাঈম), মাজেদুল ইসলাম রুমন, ডালিয়া রহমান, শেখ আবু তাহের, সাদিকুর রহমান, কেএম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মোঃ ইকবাল হোসেন শ্যামল, মোঃ জুয়েল হাওলাদার, মুন্সি আনিসুর রহমান, মোঃ মিজানুর রহমান শরিফ, শেখ মোঃ মশিউর রহমান রনি, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা, কাজী মাজহারুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ জাতীয় কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পুনরায় তফসিল মোতাবেক- ভোট গ্রহণ করা হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।