গণরুম সংকট নিয়ে ভিসিকে ডাকসু নেতার স্মারকলিপি, ৬ প্রস্তাবনা


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-09-06 01:09:40 BdST | Updated: 2019-11-12 09:20:39 BdST

এবার গণরুম সমস্যার সমাধানে উপাচার্য বরাবর ছয়টি প্রস্তাব দিয়ে স্মারকলিপি দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য তানভীর হাসান সৈকত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপাচার্য কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি জানা দেন তিনি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ। প্রশাসনের দায়িত্ব প্রতিটি শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রশাসন এ কাজে নিদারুণ ব্যর্থ। গণরুমের মত কৃত্রিম সমস্যা তৈরীর পুরো দায়ভার প্রশাসনের। গণরুম যতটা না রাজনৈতিক কারনে তার চেয়েও বেশি প্রশাসনিক কারনে।

স্মারকলিপিতে তিনি আরও বলেন, ৮-১০ জনের রুমে যখন পর্যাপ্ত সিটের অভাবে ৩০-৪০ থাকে তখন সেখানে যেমন ঘুমানো যায় না, তেমনি পড়ালেখাও হয়না। গণরুমে পঁচতে থাকা এ প্রজন্ম যখন দেশের হাল ধরবে তখন দেশ যে ভুল পথে এগোবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অন্যদিকে রাজনীতিও বিষিয়ে উঠবে অযোগ্য লোকদের ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্বে।

তাই আপদকালীন সংকট সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ছয়টি প্রস্থাবনা তুলে ধরেন। তার প্রস্তাবগুলো হলো :

১. গণরুমে পর্যাপ্ত বাংক বেডের ব্যবস্থা করতে হবে। দোতলা এই বেডগুলো স্থাপনের মাধ্যমে চারটি বেডে শিক্ষার্থী অপেক্ষাকৃত সুন্দরভাবে অবস্থান করতে পারবে। এবং সেখানে তাঁদের পড়াশোনা করার পরিবেশ বজায় থাকবে।

২. এছাড়া গণরুমে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে হবে। প্রতিটি গণরুমে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি শিক্ষার্থী রাখা যাবে না।

৩. বাড়তি শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য বাংক বেডের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ে হলসংখ্যা এখনো পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। শিক্ষক-কর্মচারী জন্য বহুতল আবাসনের প্রকল্প আমরা সাধুবাদ জানাই কেননা তাঁদের অধিকার আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, তাদের আবাসনের দিকেও সমান দৃষ্টি দিয়ে নতুন হল নির্মাণ করতে হবে।

৫. যেহেতু শিক্ষার্থী অনুযায়ী হলসংখ্যা বাড়ছে না তাই বিশ্ববিদ্যলয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তির আসন সংখ্যা কমিয়ে পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করে উন্নত শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে বহিরাগত মুক্ত করতে হবে।

এর আগে আবাসিক হলের বৈধ সিট ছেড়ে গণরুমে থাকার ঘোষণা দেন এই নেতা। সে সময় তিনি বলেন, যেহেতু নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে গণরুম সমস্যার কোন সমাধান আমি করতে পারিনি সেহেতু এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রতিবাদ স্বরুপ গণরুমে থাকা শুরু করেছি। প্রশাসন যতদিন পর্যন্ত গণরুম নিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেবে, ততদিন থাকব। এটা আমার প্রতিবাদের ভাষা।