ডাকসু কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-10-02 15:39:29 BdST | Updated: 2019-10-21 05:53:57 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে মুক্তমনা শিক্ষার্থীবৃন্দ।আজ ০২ অক্টোবর,রোজ বুধবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে টিএসসির রাজু ভস্কর্যে ‘মুক্তমনা শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম,যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান এবং আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ্র আহসান সহ বিভিন্ন বিভাগের আরো অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী জামালুদ্দিন মুহাঃ খালিদ বলেন,'কে কোন রাজনীতি করবে বা না করবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা ডাকসুর নেই। বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেককে তার আদর্শ অনুযায়ী রাজনীতি করার অধিকার দেয়। সুতরাং ডাকসুর এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশর সংবিধানের ধারা ৭ এর ১,২, ২৮ এর ১ ও ৩ , ৩৭ , ২৬ এর ১ও ২ , ৩৬ , ৩৮ এর ক , খ, গ, ঘ , ৩৯ এর ১ ও ২ এর ক , ৪১ এর ১ এর ক, খ, এবং ৪১ এর সাথে সাংঘর্ষিক।

যতক্ষণ পর্যন্ত না কোন সংগঠন সন্ত্রাস ও উগ্রবাদে না জড়ায়, সেখানে নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ খেলা করে একদল ছাত্রের রাজনৈতিক মতকে রুদ্ধ করা একটি ফ্যাসিবাদী আচরণ।'

শফিকুল ইসলাম বলেন,'আমরা বিশ্বাস করি ক্রমাগত তর্ক-বিতর্ক ও দ্বন্দের মাধ্যমে একটা সমাজ তার অভীষ্ট লক্ষ্যের পথ খুজে পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে দেশকে সহাবস্থান ও সহযোগিতার রাজনীতির দিকে পথ প্রদর্শন করবে, এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা। ঠিক সেই সময় এরকম একটি সিদ্ধান্ত ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে আমরা মনে করি।'

তিনি আরো বলেন,'আমরা যারা মুক্তচিন্তার ঢাবিতে বিশ্বাস করি, তারা এই ফ্যাসিবাদী আচরণ মেনে নিতে পারিনা। আমাদের মত ভিন্ন, কিন্তু লক্ষ্য একমাত্র ফ্যাসিবাদের বিলোপ। সেই লক্ষ্য কে সামনে রেখে আমরা ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ জানাতে একত্রিত হয়েছি।'

মাহমুদুল হাসান বলেন,' যখন ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে আলো জ্বলে উঠলো তখন আমরা কি দেখতে পেলাম, আমরা দেখতে পেলাম ডাকসুর অনৈতিকতা। তারা হলগুলোতে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। একটি সংগঠন ভোট প্রদানে বাধা প্রদান করেছে। অবৈধভাবে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে। আমরা বলেছিলাম নদীতে যখন পানি আছে একদিন নৌকার ভরাডুবি হবেই। ডাকসু নির্বাচন যখন শুরু হয়েছে একদিন না একদিন আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন পাবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন যদি হয়ে থাকেন, তাহলে কোন সংগঠনকে নিষেধাজ্ঞা নয়, আদর্শিকভাবে প্রতিহত করেন। যদি আদর্শিকভাবে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হন তাহলে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করুন।'

শেষে তিনি নিম্নলিখিত দাবিগুলো তুলে ধরেনঃ

১। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।

২। রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট প্রদান বন্ধ করে সম্পূর্ণ প্রসাশনের নিয়ন্ত্রণে ১ম বর্ষ থেকে বৈধ সিটের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩। ফাঁস হওয়া সকল দূর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সকলকে বহিষ্কার করতে হবে।

৪। ডাকসু নির্বাচনে অনৈতিকতার সাথে জড়িত সকলকে পদত্যাগ করতে হবে।

সবশেষে একটি বিক্ষোভ মিছিলে তারা ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে একসাথে’, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই হবে একসাথে’, ‘গণতান্ত্রিক দাবিতে ইসলামী রাজনীতি চলবে’, ‘বিতর্কিত সিদ্ধান্ত মানি না মানবো না’, ‘ইসলামী রাজনীতি চলছে চলব ‘ বলে স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এসে আজকের কর্মসূচী স্থগিত করেন।