চবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট পাইয়ে দিতে ছাত্রলীগের আন্দোলন


চবি
Published: 2019-10-02 17:09:31 BdST | Updated: 2019-10-21 05:33:48 BdST

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন আবাসিক হল সমূহে বরাদ্দকৃত সীট থাকা সত্ত্বেও হলে থাকতে পারছেন না অনেক শিক্ষার্থী। নিজেদের বৈধ সীট ফিরে পেতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে শাখা ছাত্রলীগের একাংশ। বুধবার (২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে বেলা ১ টায় জড়ো হয়ে নিজেদের দাবি আদায়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় তারা নিজেদের দাবি সংক্রান্ত স্লোগান দিতে থাকে। প্রশাসনের গাফিলতি, হলের বাইরে থাকা আমাদের পরিনতি' আমার সীটে আমি নাই, সন্ত্রাসীদের দেখতে পাই' সাধারণ-রাজনৈতিক ভাই ভাই, রাজনৈতিক বলেই কি সীট নাই?

সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী রেদোয়ানু জান্নাত রিপন বলেন, আমাদের অন্তত ৩০ টা রুমের ৭৫ জনের মত এলোটেড শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারছে না। যাদের জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে। বিজয়গ্রুপের ছেলেরা বহিরাগতদের নিয়ে হঠাৎ অতর্কিত হামলা চালায়। ইতোমধ্যে আমি আমার কাগজপত্রের সাথে সার্টিফিকেটও হারিয়েছি। অথচ সামনে আমাদের অনেকের পরীক্ষা। যেখানে আমাদের থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সেখানে পরীক্ষার নিশ্চয়তা কে দিবে?

এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী আরিফুর ইসলাম বলেন, ২২৪ নং রুমে আমার বৈধ এলটমেন্ট রয়েছে। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে একদফা রুম ভাংচুর চালায় বিজয় গ্রুপের কর্মিরা। সেসময় বের হয়ে যেতে হয় রুম থেকে। এরপর হলের প্রভোস্ট আমাকে সীটটা উদ্ধার করে দেয় কয়েকমাস আগে। কিন্তু মাসখানেক আগে আবারও অতর্কিত হামলা করে আমার রুমের মালামাল লুটপাট করে বিজয়ের কর্মিরা। আমার মত এফ রহমান হলের প্রায় ৪৫ জন এখনো হলে থাকতে পারছেনা।

আলাওল হলের ৪৩৬ নং হলের শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রমজান আলী বলেন, আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী। কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত না আমি। কিন্তু গত মাসে আমার রুম ভাংচুর করা হইছে। আমি এখনো রুমে উঠতে পারছি না।

এছাড়াও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ইতোপূর্বে প্রশাসনের নিকট যারা হলে উঠতে পারছেনা, তাদের একটি তালিকা জমা দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তালিকা অনুযায়ী সোহরাওয়ার্দী হলের ৭৫ জন, এফ রহমান হলে ৪৫ জন এবং আলাওল হলে এরকম ৪০ টা সীটে বৈধরা থাকতে পারছে না। আমরা তাদের মত সংঘর্ষ চাই না। আমরা চাই প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে বিষয়টা সমাধান করুক। অন্যথায় আমাদের অান্দোলন চলবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা জানিয়ে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, শিক্ষার্থীরা বৈধ দাবিতে আন্দোলন করছে। আমরা তাদের সাথে আছি। আর যারা হলে সীট দখল করে আছে তারা কারা? যারা এতই শক্তিশালী যে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেছে না? কাজেই প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমাদেরও একই দাবি রইলো।

এবিষয়ে বিশ্বিবদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম বলেন, তারা একটা লিস্ট দিয়েছে। সেটা আমরা যাচাই বাছাই করে দেখছি। সকল বিষয় বিবেচনায় করে আমরা সিদ্ধান্ত দিব।