নবান্ন উৎসবে শেকৃবি ছাত্রলীগ সভাপতির হামলা-ভাঙ্গচুর


Dhaka
Published: 2019-11-16 11:36:46 BdST | Updated: 2019-12-15 18:32:37 BdST

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শুক্রবার জাতীয় কৃষি দিবস ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শেকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম মাসুদুর রহমান মিঠু তার দলবল নিয়ে হামলা চালায়। এসময় শেকৃবি ছাত্রলীগের স্টল ভাঙ্গচুর করে তারা। পরে শেকৃবি উপাচার্য ও ছাত্র পরামর্শকের সাথে বাকবিতণ্ডা এবং সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান গ্রুপের সাথে সভাপতি গ্রুপের চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। এসময় প্রতিহত করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন ৫ জন শিক্ষক। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। পিঠা উৎসব বন্ধ থাকে আধা ঘন্টার বেশি সময়।

শেকৃবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক ড. মিজানুর রহমান বলেন, নবান্ন উৎসবের আলোচনা সভা চলাকালিন শেকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিঠু এসে আমাদের সাথে চড়া গলায় কথা বলে। অভিযোগ করে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। অথচ তাকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে দাওয়াত করা হয়েছে। ফোন করলে রিসিভ করেনি। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মিঠুর গ্রুপ উপাচার্য স্যারের উপর চড়াও হলে সাধারণ সম্পাদক মিজানসহ উপস্থিত শিক্ষকরা আমাদের নিরাপদে সরিয়ে আনে। এসময় মিজান ও মিঠুর অনুসারীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়।

শেকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, আজকের সংঘর্ষ ছাত্রলীগের কোনো সংঘর্ষ না। এটা সভাপতি মিঠুর সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভুল বুঝাবুঝির ফল। তবে স্টলে যারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভেঙেছে তারা কখনোই ছাত্রলীগের কেউ বলে দাবি করতে পারে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষে ৫ জন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন। তাঁরা হলেন ছাত্র পরামর্শক ড. মিজানুর রহমান, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনিসুর রহমান, কৃষি বনায়ন বিভাগের গোলাম জিলানী হেলাল, মোফাসসির রহমান শিশির, কৃষি সম্প্রসারণ ও তথ্য বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নিপা মোনালিসা।

উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ শুক্রবার সন্ধ্যায়  বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতির সাথে আমাদের ভুল বুঝাবুঝির ফলে ঝামেলা হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কিছুটা আহত হয়েছে। আর কোনো সংঘর্ষ যাতে না ঘটে সেজন্য আমরা সতর্ক আছি।

এ বিষয়ে শেকৃবি ছাত্রলীগ সভপিতি এস এম মাসুদুর রহমান মিঠুর সাথে কয়েকটি মাধ্যমে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।