পুলিশি বাধায় স্মারকলিপি দিতে পারেনি ছাত্রদল


Dhaka
Published: 2020-05-20 23:10:33 BdST | Updated: 2020-05-28 11:21:20 BdST

পুলিশি বাধায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে পারেনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার (২০ মে) দুপুরে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি দিতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

পরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘স্মারকলিপি হস্তান্তরের জন্য ছাত্রদল নেতারা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পুলিশ তা অগ্রাহ্য করে। পুলিশের এই বাধা চরম অগণতান্ত্রিক। পুলিশের এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

স্মারকলিপিতে যা ছিল

ছাত্রদলের স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে সোচ্চার। করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে; শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও। লকডাউনের কারণে স্থবির হয়ে আছে বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতি। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বেতনসহ পড়ালেখার খরচ চালানো তাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তাই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি সদয় হয়ে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের বেতনা মওকুফ করে দিলে তা হবে মানবতার জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

‘সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে টেলিভিশন, অনলাইনে কিছুটা কার্যক্রম চালু থাকলেও সেটি সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দুই হাজারের বেশি কলেজ এর বাইরে আছে। এক জরিপে দেখা গেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে ক্লাস চালানো সম্ভব নয়। এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরও অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হওয়ার সঙ্গতি নেই। এটির অন্যতম কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবার থেকে আসে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে আছে। তাদের অনেকেরই স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ডেটা ক্রয়ের আর্থিক সামর্থ্য নেই। এর ওপর অনেকের এলাকায় নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে,‘ — বলা হয় ওই স্মারকলিপিতে।

এতে আরও বলা হয়, ‘অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি করে শিক্ষা ব্যয় নির্বাহ করে, সেটিও করোনা মহামারির কারণে সম্ভব হচ্ছে না। ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্য, মূল্যবান ডিভাইস কেনাও অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে অসম্ভব। এর ওপর অনেক স্থানে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকার কারণে অনলাইনভিত্তিক ক্লাস বা পড়াশোনা অব্যাহত রাখা একেবারেই অসম্ভব। তাই সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজে এই মূহুর্তে অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস, ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

একইসঙ্গে করোনা মহামারির বর্তমান পরিস্থিতিতে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি রাজস্ব থেকে বেতন পায় না এবং ওই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর নির্ভরশীল, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঘাটতি সরকারি তহবিল থেকে পূরণের দাবি জানানো হয় ছাত্রদলের স্মারকলিপিতে।