শতবর্ষী ঢাবিকে এগিয়ে নিতে ১০০টি প্রস্তাবনা ছাত্র অধিকার পরিষদের


Dhaka
Published: 2020-06-30 23:03:54 BdST | Updated: 2020-08-09 05:12:50 BdST

শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে ১০০ টি প্রস্তাবনা দিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ, ঢাবি শাখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একশত বছরে প্রথমবারের মতো মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে যা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি সংবাদ। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে ৫ বছর মেয়াদী ‘স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’ গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়ার কথা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১০০ টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাহ।

সেগুলো হলো:

১। জাতীয় স্বার্থ পূরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধ প্রণয়ন করে বিস্তারিতভাবে তা শিক্ষার্থী ও জাতির সামনে উপস্থাপন করা।
২।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার আন্দোলনের জীবন্ত জাদুঘর। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার আন্দোলনের সকল স্মৃতি রক্ষণাবেক্ষণ ও চর্চার ব্যবস্থা করা।
৩।বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি করা এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেটের অন্তত ২০ শতাংশ গবেষণা খাতে রাখা।
৪। গবেষণা কেন্দ্র সংখ্যা আরো বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করা।
৫।শিক্ষার্থী অনুপাতে সকল ডিপার্টমেন্টে ক্লাস রুম ও শিক্ষকের ব্যবস্থা করা।
৬।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অফিসিয়াল ইমেইল এর ব্যবস্থা করা।
৭।সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল আইডি কার্ড সরবরাহ করা।
৮।একটা পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরী করে প্রত্যেক ছাত্র ও শিক্ষকের জন্য নিজস্ব একাউন্টের ব্যাবস্থা করা। সেখানে তার রেজাল্ট, যাবতীয় নোটিশ, আর্থিক পাওনা সব কিছুর হিসেব থাকবে। এবং লগ ইন করে সেখান থেকেই সব কাজ করতে পারবে।
৯।বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পঠন-পাঠনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা।
১০।লাইব্রেরী সংখ্যা বাড়িয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে, হলে হলে ও ডিপার্টমেন্টে পর্যাপ্ত লাইব্রেরীর ব্যবস্থা করা।

১১।প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে ও হলে হলে কম্পিউটার ল্যাব নির্মাণ করা ও প্রতিটি হলে শরীরচর্চা কেন্দ্র স্থাপন করা।১২। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় দ্রুতগতির বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা।

১৩।রেজিস্টার ভবন এর সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা।
১৪। ক্যাম্পাসে যানজট নিরসন করা।
১৫।ক্যাম্পাসে নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করা।
১৬।ক্যাম্পাসের পরিবেশ দূষণ বন্ধ করা।
১৭।পরিবেশ উন্নয়নের স্বার্থে ক্যাম্পাসে সবুজায়ন কর্মসূচি বাড়ানো।
১৮।ক্যাম্পাসে যত্রতত্র উপচে পড়া জনসমাগম সুশৃংখল করা।

১৯।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য জরুরি নিরাপত্তা ডেস্ক চালু করা।
২০।বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিরাগত ভবঘুরে ও অছাত্র দূর করা।
২১।ক্যাম্পাসের ভিতরে মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তন করা।
২২।যানবাহন পার্কিং এর সুব্যবস্থা করা।
২৩।স্মোকিং এর জন্য জোন নির্দিষ্ট করে দেয়া
২৪।ক্যাম্পাসে যত্রতত্র দোকানপাট বন্ধ করা।
২৫।ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ভাড়া নির্দিষ্ট করা।
২৬।ক্যাম্পাসে মাদক ও চুরি-ছিনতাই বন্ধে সিসি ক্যামেরা বাড়ানো ও নিরাপত্তা চৌকি বসানো।
২৭। ক্যাম্পাসকে ভিক্ষুকমুক্ত করা।
২৮। ক্যাম্পাসের পথশিশুদের জন্য পাঠশালা নির্মাণ করা।
২৯।ক্যাম্পাসের প্রতিটি ভবনের ভূমিকম্প ও অগ্নি নিরোধক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
৩০।প্রতিটি স্থাপনায় বজ্রবিদ্যুৎ নিরোধক স্থাপন করা।

৩১।ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সমূহ সংস্কার করা।
৩২। ক্যাম্পাসে মেয়েদের নিরাপত্তা ও হয়রানি বন্ধে বিশেষ সেল গঠন করা।
৩৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংখ্যা, রুট সংখ্যা ও রুটের সময় বাড়ানো।
৩৪।প্রতিটি বাসে ওয়াইফাই ও ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা।
৩৫।শতভাগ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা করা।
৩৬। সাত কলেজ অধিভুক্তি সমস্যার সমাধান করা। এক্ষেত্রে অধিভুক্তি বাতিল আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া।
৩৭। গেস্টরুমে নির্যাতনের সংস্কৃতি ও গণরুমের ফ্লরিং ও গাদাগাদি ব্যবস্থা চিরতরে উঠিয়ে দিয়ে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ ভাবে সিট দেওয়া।মেধা ও প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সিট দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া।

৩৮।খাবারের মান নিশ্চিত করা।
৩৯। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে প্রয়োজনীয় ক্যান্টিন ওয়াশরুমে ব্যবস্থা করা।
৪০। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সিট সংখ্যা ২০০ শয্যায় উন্নীত করা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা।

৪১।প্রতিটি হলে মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সকল উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা।।
৪২।আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রতিটি হলেও ডিপার্টমেন্টে কাউন্সেলিংয়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা।
৪৩।লাইব্রেরি ও শরীরচর্চা কেন্দ্র ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা।
৪৪। ইভিনিং কোর্স বাতিল করা।
৪৫।শিক্ষা ব্যবস্থা ও সিলেবাস আরও উন্নত ও বাস্তবমুখী করে তোলা।
৪৬।চাহিদা ও প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে নতুন নতুন বিভাগ খোলা।

৪৭।অপরিকল্পিতভাবে বিভাগ খোলা বন্ধ করা ও বিভাগে আসন বৃদ্ধি বন্ধ করা।
৪৮। প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে নতুন নতুন সাবজেক্টের সন্নিবেশ ঘটানো।
৪৯। বিশ্বের সেরা চাকুরীদাতা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাথে এম ও ইউ এর ভিত্তিতে মানবসম্পদ তৈরি করা।
৫০। গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা।
৫১।শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আইটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৫২।বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ও বিভিন্ন অবকাঠামো বাণিজ্যিক ব্যবহার সীমিত করা।
৫৩।বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত কনসালটেন্সি ডেস্ক স্থাপন করা।
৫৪।বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।
৫৫।ক্যাম্পাস হতে পুলিশ ফাঁড়ি উচ্ছেদ করা।
৫৬।শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনা বন্ধ করা।

৫৭। শিক্ষকদের ক্লাসে উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিতকরণে অ্যাটেনডেন্স শিট পদ্ধতি চালু করা।
৫৮। শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক উপস্থিতিও এর উপর মার্কিং ব্যবস্থা শিথিল করা।
৫৯।হল ও বিভাগের বিভিন্ন অযৌক্তিক ফি ও জরিমানা বাতিল করা।

৬০। শিক্ষকদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দানের পূর্বে ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে ছাত্রদের দ্বারা মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা।
৬১।আবাসিক হলে প্রতি জন শিক্ষকের দায়িত্বে নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্রদের সার্বিক দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া।
৬২।পাহাড়ি ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য "পাহাড়ি আদিবাসী সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র" গড়ে তোলা।

৬৩।সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণের শিক্ষার্থীদের সম্মান ও মর্যাদার সহিত ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও চলাফেরার অধিকার নিশ্চিত করা।
৬৪।বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সকল ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা।
তাদের স্বেচ্ছাসেবা দিতে আগ্রহীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও শ্রুতিলেখক দল গঠন করা।

৬৫। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাক্তিদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিয়ে আসার প্রবণতা আরো বাড়ানো।
৬৬।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা সংস্থা কে আরো শক্তিশালী করা।
৬৭। বিশ্ব র্যাংকিং এ ভালো অবস্থান তৈরি করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৬৮।সাপ্লিমেন্টারি ইমপ্রুভ পরীক্ষা সহজ করা।
৬৯।সহজে ক্রেডিট ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করা।
৭০।নির্দিষ্ট সময়ের ভিতর অনার্স-মাস্টার্স শেষ করার বাধ্যবাধকতা লাঘব করা।
৭১।নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু রাখা।
৭২। ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে টিএসসি কে সংস্কার করে আরও আধুনিক করা।
৭৩।শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রজেক্টে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে পার্টটাইম অর্থ আয়ের ব্যবস্থা করা।

৭৪।সকল শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমার গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা।।
৭৫।ডিপার্টমেন্টে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচয় ঘটানোর জন্য শিক্ষক কর্তৃক পরিচিতি পর্বের আয়োজন করা।
৭৬। হলে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচয় ঘটানোর জন্য হল প্রশাসন ও ছাত্র সংসদ কর্তৃক পরিচিতি পর্বের আয়োজন করা।
৭৭।শিক্ষকদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব পরিহার করা।
শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে নীল সাদা গোলাপী ইত্যাদি
রঙের অন্তরালে ক্ষতিকর রাজনৈতিক চর্চা বন্ধ করা।
৭৮।আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ কায়েমের জন্য ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীদের দমন করা বন্ধ করা।
৭৯।শিক্ষকদের গবেষণায় কঠোরভাবে রচনাচুরি যাচাই-বাছাই করা ও মান নিয়ন্ত্রণ করা।

৮০।পরীক্ষার ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করা।
৮১।বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার পর শিক্ষকদের আর দেশে না ফেরা নিয়ন্ত্রণ করা।
৮২।নিয়মিত শিক্ষার্থীদের যথাযথ সময় না দিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ভার্সিটি ও প্রতিষ্ঠানে সময় দিয়ে অর্থ উপার্জন করা ও সেই অর্থ পুরোপুরি নিজেদের পকেটে পুরার প্রবণতা বন্ধ করা।

৮৩।বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই ও বিভাগীয় ও হল ভিত্তিক অ্যালামনাই কে আরো শক্তিশালী করা।
৮৪।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্ন ফাঁস ও ভর্তি জালিয়াতি যেন আর কোন ভাবে মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক ভূমিকায় থাকা।
৮৫।কোন শিক্ষার্থীর মৃত্যুবরণ করলে তার পারিবারিক অবস্থা বিবেচনায় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা।
৮৬।বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ কৃতিত্ব রাখা শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করার জন্য সহযোগিতা করা।
৮৭।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংকট দ্রুত নিরসন করা।।

৮৮।বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদানের কলেবর আরও বৃদ্ধি করা।
৮৯।বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম ও খ্যাতি ছড়িয়েছেন তাদের স্মৃতি সংগ্রহশালা তৈরি করা।
৯০।বিজ্ঞান গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা ও বিশ্বের প্রতিনিয়ত উদ্ভূত সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান প্রধানের জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
৯১।ধর্ষণ- যৌন নির্যাতনের শিকার বা মানসিক আঘাত প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা।

৯২। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি করতে উদ্যোক্তাবান্ধব শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা।
৯৩।ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত পরিবেশ পরিষদের আলোচনার আয়োজন করা।
৯৪। বিশ্ববিদ্যালয় গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে ক্রিয়াশীল সকল সংগঠনের জন্য শিক্ষার্থী ও গণস্বার্থ বান্ধব সকল কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ অবারিত রাখা।
৯৫।বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম সমুন্নত রাখতে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম চালু রাখা।

৯৬।শিক্ষামূলক ও ক্যারিয়ার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা।
৯৭।যেকোনো অনিয়ম বিশৃংখলার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী যিনি জড়িত থাকুন না কেন যথাযথ বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করা।
৯৮।বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত জ্ঞানচর্চা ও কথা বলার স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা।
৯৯।বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল টেন্ডার ও আর্থিক কার্যবিবরণী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে নিয়মিত প্রকাশ করা।
১০০। কেবলমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় ভিসি নিয়োগ বন্ধ করা।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠা হয় তখন বিশেষ করে পূর্ব বঙ্গের মুসলমান কৃষকদের সন্তানদের শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়। এবং এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই তৎকালীন পূর্ব বঙ্গের মানুষের রাজনৈতিক ও আর্থ সামাজিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন তরান্বিত হয়।
পরবর্তীতে ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়৷ পাকিস্তান আমলে ও একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীকার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। এক্ষেত্রে বলা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার জাতীয় স্বার্থ পূরণের লক্ষ্যে সেই সময় গুলোতে সফল ছিলো।

স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা হবার পরে জাতীয় স্বার্থ ও প্রয়োজন পূরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং মূল্যবোধকে বিস্তারিত ভাবে শিক্ষার্থী ও জাতির সামনে বারংবার তুলে ধরো প্রয়োজন ছিলো ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে ইংরেজিতে যে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লেখা আছে সেখানে কিছু শব্দ চোখে পড়ার মতো, free though, democratic practice, towards progress, evolving society, demand of the society, spirit of freedom, Justice & Truth.
এই শব্দ গুলো আমার কাছে মনে হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধকে বুঝানো হয়েছে।
আর প্রতিষ্ঠাকালে ১৯২১-১৯৫২ সাল পর্যন্ত মনোগ্রামে শ্লোগান ছিলো "truth shall prevail "
১৯৫২-১৯৭২ পর্যন্ত ছিলো "ইকরা বিসমি রাব্বাকাল্লাজি খালাক" ১৯৭২ এর পরে হয়েছে "শিক্ষাই আলো "

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্লোগানে যেহেতু তিনবার বদল এসেছে এবং সেটা রাজনৈতিক ও আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করেই। সুতরাং স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক চাহিদাকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মূল্যবোধের উপর দাড়িয়ে বিস্তারিতভাবে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রণয়ন করে তা ছাত্র ও জাতির সামনে উপস্থাপন করা অতীব জরুরি।  এতে করে সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মাঝে বারবার তাড়না সৃষ্টি হবে।

যা একটি জাতি ও দেশে কে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনেক বেশী কার্যকর হবে। কারণ এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই এখনো ক্রান্তিলগ্নে দেশ ও জাতির পথ নির্দেশক হয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

লেখক: ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাহ।