কারা আসছেন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে


নিজস্ব প্রতিবেদক
Published: 2018-01-12 11:43:51 BdST | Updated: 2018-12-10 23:48:17 BdST

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ৩১ মার্চ। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা চলছে সব মহলে।

গত সোমবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা হয়। এর আগে ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মার্চে ছাত্রলীগের সম্মেলন করার ব্যাপারে নেত্রীর ইচ্ছা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমি নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। নেত্রীর ইচ্ছা আগামী মার্চে স্বাধীনতার মাসে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সম্মেলন করুক।’

৯০ দশকের পর এবারই কেন্দ্রীয় কমিটি নির্ধারিত সময়ে সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে শীর্ষ পদ দুটি ‘লাভজনক’ হওয়ায় গদি ছাড়তে চাইতেন না সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা। তবে এবারের সাইফুর রহমান সোহাগ-এস এম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতিক্রম। ‘চাপের মুখে হলেও’ তারা ২ বছর ৮ মাসের মাথায় সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, এবার সম্মেলনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে সাবেক তিন নেতাকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এবং ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মারুফা আক্তার পপি। তারা পরবর্তী নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করবেন। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ‘মুকুট’ কার মাথায় উঠবে সেটি নির্ধারণ করবেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যারা নেতৃত্বের যোগ্যতায় এগিয়ে থাকবে তারা শীর্ষ পদ পাবে। সে ক্ষেত্রে একাডেমিক ও সাংগঠনিক যোগ্যতা, দক্ষ, শিক্ষার্থী বান্ধব এবং দলের প্রতি নিবেদিতরাই এ পদে আসবেন। বিতর্কিতরা যেন এ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে না পারে সে বিষয়ে তাগিদ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনের ক্রিটিক্যাল মুহূর্তে সংগঠন সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে কি-না এটিও বিবেচনায় থাকবে।

২৯ তম জাতীয় সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ দুই পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু, ত্রাণ সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, কৃষি সম্পাদক বরকত হাওলাদার, কর্মসূচি সম্পাদক রাকিব হোসেন, পরিবেশ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ বিপ্লব, বিজ্ঞান সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ আরেফিন ও অমর একুশে হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান পিয়াল।

এছাড়া বয়স থাকায় ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সও কেন্দ্রীয় পদ প্রত্যাশী বলে তার কর্মীরা প্রচার করছেন।

এদিকে বয়সের মারপ্যাচে বাদ পড়বেন সংগঠনটির এমন নেতাদের দাবি আগামী জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৩০ বছর রয়েছে তাদের বিষয়টি যেন বিবেচনা করা হয়।

এর মধ্যে ২০১৩ সালের দিকে সরকার হটাতে বিএনপি-জামায়াত জোটের আগুন সন্ত্রাসের সময় জীবনবাজি রেখে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজপথে রুখে দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু। ওই সময় নাশকতা বিরোধীদের ‘দবল ধোলাই’ করতেও করিৎকর্মা ছিলেন এ নেতা। ফলে তাকে ঘিরে নেতৃত্বের স্বপ্ন বুনছেন দলটির বেশিরভাগ নেতা-কর্মীই।

ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রব্বানী ও ইয়াজ আল রিয়াদ দলীয় স্বচ্ছ ইমেজধারী নেতা হিসেবেই পরিচিত। যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোকাবেলা করা নেতাদের সামনের সারিতেই ছিলেন কৃষি সম্পাদক বরকত হাওলাদার।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, যারা যোগ্য, মেধাবী, নিয়মিত ছাত্র, ভালো সংগঠক তারাই নেতৃত্বে আসবে। দুঃসময়ে যারা ছাত্রলীগের জন্য কষ্ট করেছেন তারাই নেতৃত্বে আসবে। এছাড়াও যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবে, শেখ হাসিনার ভিশনকে বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং আগামী দিনের যে কোনো দুঃসময় মোকাবেলা করতে পারে এমন যোগ্যতা সম্পন্নরা নেতৃত্বে আসবে।

এইচএম/ ১২ জানুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।