ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে আরও সময় নেবেন শেখ হাসিনা


টাইমস ডেস্ক
Published: 2018-07-05 12:19:08 BdST | Updated: 2018-09-20 16:15:25 BdST

গণভবনে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের কথা শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কমিটি গঠনে আরও কিছু সময় নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (০৪ জুলাই) রাতে গণভবনে ছাত্রলীগরে পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সংগঠনটির সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হয়। রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে সাড়ে ১১টায় শেষ হয় এই বৈঠক। এতে ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রায় ২০০ ছাত্রনেতার কথা শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক নেতা জানান, আমাদের সবার কথা শুনেছেন নেত্রী। এরপর আমাদের দিকর্দেশনা দিয়ে রাতের খাবার খাইয়ে বিদায় দিয়েছেন। পদপ্রত্যাশী নেতাদের দুইটি প্রশ্ন করেছেন শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি জানান, বৈঠকে নেত্রী সবার উদ্দেশে দুটো প্রশ্ন করেছেন। এক. ৩০০ প্রার্থী, এত প্রার্থী কেন? দুই. তুমি প্রার্থী কেন? ৪০/৫০ জন ছাড়া সবাই উত্তর দিয়েছেন। আপা সবার কথা শুনলেন। বললেন, এতগুলো লোকের ভেতর আমি দুইজন নেতা বানাবো। সবাই মেনে সামনে নির্বাচন, ভালোভাবে কাজ করবা। বাদ পড়লে মন খারাপ করার কিছু নাই। আমি কিছুটা যাচাই-বাছাই করেছি, আরও সময় নিয়ে যাচাই বাছাই করবো। তারপর কমিটি দেব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদপ্রত্যাশী বলেন, নেত্রী দুই প্রশ্নের জবাবে প্রায় বেশির ভাগ নেতাই কথা বলেছেন। কেউ নিজের পরিচয় ও যোগ্যতার কথা তুলে ধরেছেন। কেউ বয়স ঠিক রাখা, কেউ বয়স বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। কেউবা আবার পরিবারের রাজনৈতিক গ্রাউন্ডের পাশাপাশি ব্যক্তির রাজনৈতিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি দেখারও দাবি তুলেছেন। কিছু ছাত্রনেতা সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়ার কথা বলেছেন। কেউ আবার নেত্রীর বাইরে সিন্ডিকেট নেই বলেও দাবি করেছেন। বর্তমান কমিটি কোটা আন্দোলনসহ নানা সময়ে ভালো কাজ করেছে বলেও প্রশঙসা করেছে কেউ কেউ।

তিনি আরও জানান, সবার কাছ থেকে এক মিনিট করে শুনেছেন নেত্রী। প্রত্যেকের কথার জবাবে নেত্রী ‘ওকে ওকে’ বলেছেন। আর বলেছেন, তোমরা সবাই মিলে দুইজনের নাম বলো। তখন সবাই বলেছে, আপনার সিদ্ধান্তেই আমরা মানি। তখন নেত্রী বলেছেন, ঠিক আছে আমি আরও যাচাই বাছাই করবো। আমি দুজনকে দিয়ে কমিটি দেব। সামনে নির্বাচন সবাই মিলে এক হয়ে তাদের নেতৃত্বে কাজ করবা।

প্রসঙ্গত, গত ১১ মে ছাত্রলীগের ২৯ জাতীয় সম্মেলন হয়। এরপর ৫৪ দিন অতিবাহিত হলেও হয়নি কমিটি। সাংগঠনিক ইতিহাসে ২৯তম এই জাতীয় সম্মেলনের পরই কমিটি গঠনে বিলম্বের নজির স্থাপন হয়েছে। এতে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে না থাকলেও বেশ ছন্দপতন হয়েছে। মধুর ক্যান্টিন আর পার্টি অফিস থেকে আড্ডা ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন দরবারে। নেতৃত্বে আসছে শিথিলতা।

এরপরও কমিটি গঠনে ছাড় দিতে নারাজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা। তার ইচ্ছা- আওয়ামী পরিবার থেকে নেতা বানাবেন। এ বিষয়টি একাধিবার প্রকাশ্যে বলেও দিয়েছেন তিনি। সে অনুযায়ী বার বার গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন।

সম্প্রতি জানা গেছে, সব খোঁজ-খবর নেয়া শেষ। কমিটিও প্রায় চূড়ান্ত। সভাপতি-সম্পাদক হিসেবে মনোনয়নের জন্য ৭/৮ জনের একটি শর্ট লিস্টও হয়েছে। এরমধ্যে থেকে সভাপতি-সম্পাদক মনোনয়ন দেয়া হবে। সে অনুযায়ী তালিকায় চট্টগ্রাম ও রংপুরে বিভাগের একাধিক ছাত্রনেতার নাম ওঠে এসেছে। সূত্র: পরিবর্তন.কম।

টিঅাই/ ০৫ জুলাই ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।