কোটা আন্দোলন দমাতে না পারায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঢাবি ছাত্রলীগকে দোষারোপ!


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-07-07 21:07:21 BdST | Updated: 2018-09-20 16:54:23 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে না পারায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাদের দোষারোপ করেছে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম রকিব। যদিও তিনি নিজেই প্রাথমকি পর্যায়ে কোটা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন, দাবি ছাত্রলীগের আকাংশ নেতাদের। 

গত ৪ জুলায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের সভায় তিনি ঢাবি ছাত্রলীগকে দোষারোপ করে বক্তব্য দেন। এতে চটেছেন ঢাবি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতারা। বিষয়টি ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। 

তবে ছাত্রলীগ বলছে, রাকিব নিজেই কোটা আন্দোলন দমাতে পারেন নি। রাকিব কোটা আন্দোলনে ছিলেন এমন ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুজ্জামান লিমনসহ একাধিক নেতা।

আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বসে আছেন রাকিব 

রকিবের এই ছবিটি ইতিমধ্যেই ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

তবে ক্যাম্পাসটাইমসের ঢাবি প্রতিনিধি গত আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করে বলছেন, কোটা আন্দোলন যাতে সহিংস না হয় এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে ঢাবি ছাত্রলীগ। এমনকি ৭,৮,৯ এপ্রিল নির্ঘুম দিন-রাত কাটিয়েছেন ঢাবি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতারা।  

আন্দোলনে বিশাল জনস্রোত সৃষ্টি হওয়ায় জাতীয় স্বার্থ ও রাজনীতির কথা ভেবে চিনতে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হয়েছে ছাত্রলীগকে। যা দোষের কিছু নয়, বলছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।   

৮ এপ্রিল রাতে যখন ঢাবি ছাত্র আবু বকর মারা গেছে গুজব ছড়ানো হয় তখন জীবন বাজি রেখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঠান্ডা করেন ঢাবি ছাত্রলীগের সভপতি আবিদ আল হাসান ও অন্যান্য নেতারা। রোকেয়া হলের সামনে সেসময় বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় তাদেরকে। 

তবে কোটা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের নেতারা সক্রিয় ছিলেন এটাও সত্য বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পাসটাইমসের ঢাবি প্রতিনিধি। তবে তারা প্রথম শ্রেণীর কোন নেতা নয়। তাদেরকেও এক পর্যায়ে বুঝিয়ে আন্দোলন থেকে ফিরিয়ে আনেন নেতারা। 

অনলাইনেও সরব ছিলেন ছাত্রলীগের নেতারা। 'গুজবে কান দিবেন না' গ্রুপ খুলে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতারা। যা এখনও অব্যাহত রেখেছে। কোটা আন্দোলনের গ্রুপে ছড়ানো নানান গুজবকে তারা শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট করে দিচ্ছেন এই গ্রুপের মাধ্যমে।

আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ বলতে বাধ্য হয় তারাও কোটা সংস্কার চান তবে সহিংস আন্দোলন তারা সমর্থন করেন না। 

সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন বলছিলেন তারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া আন্দোলন থামাবেন না তখন ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে। এবং ক্যাম্পাসে এসে তারা ছাত্রদের বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোটা সংস্কার করবেন। 

প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পর ছাত্রলীগ আনন্দ মিছিলও বের করে। 

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।