হুয়াওয়ে স্মার্টফোনে থাকছে না ফেসবুক অ্যাপ


মো. ইকবাল হোসেন, বশেমুরবিপ্রবি
Published: 2019-06-08 15:42:29 BdST | Updated: 2019-06-20 17:32:16 BdST

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হুয়াওয়ের নতুন স্মার্টফোনে প্রিইনস্টল করা থাকবে না ফেসবুক অ্যাপ।

মার্ক জুকারবার্গের ফেসবুক কর্তৃপক্ষ শুক্রবার  এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন  হুয়াওয়ের নতুন স্মার্টফোনে থাকবে না ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়্যাটসঅ্যাপের অ্যাপ্লিকেশন মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপসমূহ । কিন্তু ডাউনলোড করে এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করা যাবে।  
  
এখনো যেসব হুয়াওয়ে স্মার্টফোনগুলো বাজারজাত করণ করা হয়নি সেসব ফোনগুলোতে ফেসবুক ও মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন অ্যাপগুলো প্রিইনস্টল করা থাকবে না। অন্যদিকে যেসব হুয়াওয়ে স্মার্টফোনগুলো ইতিমধ্যে বিক্রেতা ও গ্রাহকদের হাতে রয়েছে সেসব ফোনে গুগল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়্যাটসঅ্যাপ ব্যবহারে কোন অসুবিধা হবে না।

তবে এখনো পর্যন্ত হুয়াওয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   

উল্লেখ্য হুয়াওয়ে কোম্পানির এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে কানাডার সরকার গ্রেফতারের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ কোম্পানির বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ করেন।

কিন্তু চীন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন হুয়াওয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাং ওয়ানজুকে কানাডায় গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে চীন-মার্কিন বাণিজ্য স্নায়ুযুদ্ধ  প্রতিযোগিতা এক নতুন মাত্রা পেল।
           
রেন ঝেংফেই ১৯৮৭ সালে হুয়াওয়ে  কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চীনের সেনাবাহিনীর একজন সাবেক অফিসার। হুয়াওয়ের সদর দফতর চীনের শেনজেনে অবস্থিত। প্রায় এক লাখ আশি হাজার মানুষ এ কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। হুয়াওয়ে আগে মূলত মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের যন্ত্রপাতি তৈরি করতো। কিন্তু এরই মধ্যে হুয়াওয়ে স্মার্টফোন ব্যবসায় নকিয়া ও এরিকসনের মতো কোম্পানিকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বে মোবাইল ফোন বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশই ইতিমধ্যে এই কোম্পানির দখলে।

কিন্তু মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন গুগল, মাইক্রোসফট,  প্যানাসনিকসহ অনেক কোম্পানির উপর নির্ভরশীল হুয়াওয়ে। গত ১৫ মে ট্রাম্প প্রশাসন এ কোম্পানিকে "এনটিটি লিস্ট" করেন। মার্কিন সরকারি প্রযুক্তি সেবা থেকে কোম্পানির  উপর নিষেধাজ্ঞা  জারি করা হয়। পরে তা আগামী তিন মাসের জন্য শিথিল করে ট্রাম্প প্রসাশন। এরই মধ্যে ফেসবুকও হুয়াওয়ে স্মার্টফোনের পাশ থেকে দূরে সরে গেছে। তিন মাস পরে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে অন্যান্য কোম্পানিগুলোও  হুয়াওয়েকে প্রযুক্তি ও অন্যান্য সেবা বন্ধ করে দেবে।   
 
যুক্তরাষ্ট্র সংবাদ মাধ্যমে উল্লেখ করেছে  গত বছর চীনে পাশ হওয়া এক আইনে চীনের সব কোম্পানিকে দেশটির জাতীয় ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের সঙ্গে সহযোগিতার আহবান করা হয়। যা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ হুয়াওয়ে কোম্পানির প্রধান  সেনাবাহিনীর সাবেক অফিসার কিন্তু চীনের সরকার নয়। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড চীনে আইন পাশের পরে তাদের দেশে ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

এদিকে হুয়াওয়ে স্মার্টফোনে ফেসবুক অ্যাপ প্রিইনস্টল করা না থাকায় হুয়াওয়ের বাজার চাহিদা অনেকাংশে কমে যাবে বলে অনেকে আশঙ্কা করছে। ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে স্মার্টফোন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে বাজারে হুয়াওয়ে স্মার্টফোনের সরবরাহ  প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।