ভারতজুড়ে উদ্বিগ্ন জম্মু-কাশ্মীরী শিক্ষার্থীরা


ঢাকা
Published: 2019-08-06 07:48:57 BdST | Updated: 2019-08-18 03:22:00 BdST

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অধ্যয়নরত জম্মু-কাশ্মীর শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। যেকোন ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার। নজরে রাখা হয়েছে কাশ্মীর-জম্মু থেকে আসা শিক্ষার্থীদের।

ঈদুল আজহার ছুটিতে অনেকেরই তাদের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা বাড়িতে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না এসব শিক্ষার্থীরা।

কলকাতা, চন্ডিগড়, তেলেগুসহ বিভিন্ন জায়গায় থাকা শিক্ষার্থীরা ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে এরকম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত। অস্ত্রের মাধ্যমে কাশ্মীর জয় করা যাবে না, ভালোবাসা দিয়েই কাশ্মীরকে আগলে রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আমাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

এদিকে কাশ্মীর ছাড়তে শুরু করেছেন পর্যটক এবং শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশের রাজধানীতে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে মিছিল করেছে বাম শিক্ষার্থীরা

রাষ্ট্রপতির নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে মোদির সরকার বাতিল করে দিল ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা, যা জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দিয়েছিল। শুধু তা–ই নয়, জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দুই টুকরোও করে দেওয়া হলো। রাজ্য থেকে লাদাখকে বের করে তৈরি করা হলো নতুন এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যার কোনো বিধানসভা থাকবে না। জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদাও কেড়ে নেওয়া হলো। এখন থেকে তার পরিচিতি হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে। তবে তার বিধানসভা থাকবে। দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিচালিত করবেন দুই লেফটেন্যান্ট গভর্নর।

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংবিধানের ৩৫ (ক) ধারাও বাতিল হয়ে গেল কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যদিও কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩৫ (ক) ধারারাও বিলোপ করে দেওয়া হলো। এর মধ্য দিয়ে সরকার জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। এর পরিণাম ভালো হতে পারে না।

সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ওই রাজ্যকে দেওয়া হয়েছিল। তাদের আলাদা পতাকা ছিল। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ছিল সংবিধান। কালে কালে সব হারিয়ে অবশিষ্ট ছিল সাংবিধানিক ধারা ও কিছু বিশেষ ক্ষমতা। এবার তাও গেল। সরকারি প্রস্তাব বিল আকারে পেশও করা হয়েছে। এই মুহূর্তে চলছে তা নিয়ে আলোচনা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ সোমবার প্রথমে রাজ্যসভা ও পরে লোকসভায় এই ঘোষণা দেন। বিরোধীদের প্রবল প্রতিরোধের মধ্যে এ-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা তিনি পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ৩৭০ ধারা কাশ্মীরকে দেশের অন্য অংশের সঙ্গে একাত্ম করতে পারেনি।

এমন ধরনের কিছু একটা যে ঘটতে চলেছে, দিন কয়েক ধরেই তা রাজনৈতিক আলোচনায় ছিল। ২৭ জুলাই ১০০ কোম্পানি সশস্ত্র বাহিনী উপত্যকায় পাঠানো হয়।

পরের দিনই রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা নষ্ট করে দেওয়া হলে তা দেশের পক্ষে অমঙ্গলজনক হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।