প্লাস্টিক বেচে অনলাইনে পড়ার খরচ জোগাচ্ছে শিশুরা


Dhaka
Published: 2020-09-19 21:31:47 BdST | Updated: 2020-10-21 05:51:14 BdST

করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল-কলেজ সব বন্ধ রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এমনকি অনলাইনে পড়াশোনা করার জন্য নেই স্মার্টফোনও। এ জন্য বিপাকে এসব শিক্ষার্থী। তাই বলে পড়াশোনা বন্ধ রাখার উপায় নেই। সমস্যা সমাধানেই নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে ফেলল ইন্দোনেশিয়ার দিমাস আনোয়ার পুত্রা।

দুই মাস ধরে ১৫ বছর বয়সী দিমাস আনোয়ার পুত্রা প্লাস্টিক কুড়িয়ে বেড়ায়। রাজধানী জাকার্তায় নিজ এলাকার আশপাশে দিমাস ও তার এক বন্ধু মিলে প্লাস্টিক কুড়ায়। এর বিনিময়ে ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগ পায় তারা। সপ্তাহে তিন দিন তিন ঘণ্টার জন্য অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগও মেলে ওই ওয়াইফাইয়ে।

দিমাস আনোয়ার পুত্রা বলে, ‘যদি আমরা প্লাস্টিক কুড়িয়ে পাই, তবেই আমরা ইন্টারনেটের সংযোগ পাই।’

‘ওয়াইফাই স্টেশন’–এর ধারণা নিয়ে আসে ইং সোলিহিন নামের এক ব্যক্তি। শিশুদের কুড়িয়ে আনা প্লাস্টিক বিক্রি করে এক মাসের জন্য ২২ ডলারের ইন্টারনেট কেনেন তিনি। আর এ ইন্টারনেট ব্যবহার করেই অনলাইনে ক্লাস করে শিশুরা। তবে অনেক সময় মাস শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায় ইন্টারনেটের প্যাকেজের মেয়াদ। ফলে আর পড়াশোনা চালাতে পারে না শিশুরা।

কুড়ানো প্লাস্টিক বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছে দোকানে
কুড়ানো প্লাস্টিক বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছে দোকানেছবি: রয়টার্স
গত মার্চ মাস থেকেই ইন্দোনেশিয়ার স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। ফলে শিশুরা বাধ্য হয়ে বাড়িতে দূরশিক্ষণ বা অনলাইনে পড়াশোনা করছে। কিন্তু দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী বা অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের সংযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি দেশটির সরকার।

রাজধানী জাকার্তা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের পাহাড়ি অঞ্চল বোগোর। সপ্তাহে এক দিন গাড়িতে ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক ট্রান্সমিটার যন্ত্রপাতি নিয়ে যান একদল স্বেচ্ছাসেবী। তাঁদের স্থানীয় লোকজন ডাকেন ‘স্কুল ভলান্টিয়ার’ বলে। শিশুদের মুঠোফোন ও ল্যাপটপের সুবিধাও দেন তাঁরা।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি নাগাদ করা এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রতি ছয়টি বাড়ির মধ্যে মাত্র একটি বাড়িতে ইন্টারনেটের সংযোগ আছে।