১২ বছর বয়সেই ‘অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ে পড়ার সুযোগ


Dhaka
Published: 2020-10-16 19:12:56 BdST | Updated: 2020-10-20 05:47:34 BdST

‘অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা মহাকাশ সংক্রান্ত পড়াশোনার জন্য কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন। আর সে যোগ্যতা পূরণ করতে করতে ১৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় পেরিয়ে যায়। এর আগে এ বিষয়ে পড়াশোনা করাটা কঠিন। কিন্তু যদি শোনেন যে ১২ বছর বয়সী ছাত্র আগামী দিনে ‘অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং’ পড়বে। তা হলে কি বিশ্বাস হবে। শুনতে অবাক লাগলেও আসলে এটাই সত্যি। ক্যালেব অ্যান্ডারসন নামে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ বছর বয়সী শিশু ‘অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং’ পড়ার সুযোগ পেয়েছে। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী ছাত্র হিসেবে কঠিন এ বিষয়টি নিয়ে পড়ার নজির গড়েছে অ্যান্ডারসন।

ক্যালেব অ্যান্ডারসন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে দুই বছর। পড়া শেষে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করতে চায় ক্যালেব অ্যান্ডারসন। পড়ার জন্য তার প্রিয় বিষয় গণিত।

ছোট বেলা থেকেই বিরল প্রতিভার অধিকারী অ্যান্ডারসন। সহজেই যেকোনো বিষয় বুঝতে এবং শিখে নিতে পারে। ৯ মাস বয়সেই সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে ফেলেছিল। আর দু’বছর বয়সে ভগ্নাংশের অঙ্কও আয়ত্ত করে ফেলে। এরপরই তার এই বিরল প্রতিভার কথা বুঝতে পারেন সবাই। ওই বয়সেই ফার্স্ট গ্রেড ক্লাসে ভর্তিও হয়েছিল ক্যালেব অ্যান্ডারসন। তবে এসবের মধ্যে বিপাকেও পড়তে হয়েছে অ্যান্ডারসনকে। সে জানিয়েছে, স্কুলে পড়ার সময় অনেক সময়ই বয়সে বড় শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করত।

সব বাধা পেরিয়ে ম্যারিয়েটার চ্যাট্টাহোক টেকনিক্যাল কলেজ থেকে স্কুল পাশ করে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছে অ্যান্ডারসন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও অ্যান্ডারসনের সুযোগ পাওয়া নিয়ে খুশি। এর মধ্যে একদিন কলেজ ক্যাম্পাসেও গিয়েছিলেন অ্যান্ডারসন। তার সঙ্গে দেখা করেন ক্যাম্পাসের প্রেসিডেন্ট। ঘুরিয়ে দেখান ল্যাবসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। পরে জানান, ওই ছাত্রের মতো বিরল প্রতিভা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ায় সবাই খুব খুশি। অ্যান্ডারসনের মা-বাবাও ছেলের কৃতিত্বে গর্বিত। তারা আশাবাদী ছেলে আরও অনেক নাম করবে। এদিকে, নেট দুনিয়াতেও ভাইরাল অ্যান্ডারসনের কাহিনি। এ খুদে প্রতিভা এখন কত দুর যায়, তাই দেখার বিষয়।

জর্জিয়া টেক কলেজ অব অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক মার্ক কস্টেলো বলেন, অ্যান্ডারসন যোগ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সে সাফল্য পাবে বলেই বিশ্বাস করি।
ক্যালেবের মা ক্লেয়ার বলেন, আমি অ্যান্ডারসনের প্রতিভার ব্যাপারটি বুঝতে পারি ওর এক মাস বয়সে। এতটুকুন বয়সেই সে আমাকে নকল করত। ৯ মাস বয়সেই সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শেখে সে।

বাবা কোবি ক্লেয়ার ক্যাম্পাসের ছেলে পড়ার খোঁজ খবর রাখবেন। অতীতে হোম ওয়ার্ক বা বাড়ির কাজে অ্যান্ডারসনকে কখনো সাহায্য করতে হয়নি। তাই বাবার বিশ্বাস ছেলে এবারও ভালোই করবে।

ক্যালেব অ্যান্ডারসনের আরও দুই ভাই অ্যারন (৮) এবং হান্নাথও (৭) স্কুলে নানা কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ, ইউএসএ টুডে