সৌদি আরবে চালকের আসনে নারীরা


টাইমস ডেস্ক
Published: 2018-06-24 07:05:17 BdST | Updated: 2018-12-11 02:26:16 BdST

আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের নারীরা চালকের আসনে বসেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বহাল থাকা গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। রোববার থেকে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে, যাতে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। আর চলতি মাসের শুরু থেকেই নারীদের লাইসেন্স দেওয়া আরম্ভ হয়। সৌদি আরবই একমাত্র দেশ ছিল, যেখানে নারীরা গাড়ি চালাতে পারতেন না।

সম্প্রতি গাড়ি চালানোর অধিকারের পক্ষে যাঁরা সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকার। অন্তত আট নারীকে কারাবন্দি করা হয়েছে, যাঁদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচারের মুখোমুখি বিচার করা হবে।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সৌদি আরবে বিস্তৃত পরিসরে সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে পুরুষ অভিভাবকের কাছে নারীদের অধীন করে রাখার ক্ষেত্রে।

ধারণা করা হচ্ছে, হাজার হাজার নারী রাস্তায় গাড়ি চালাতে নামবেন।

সৌদি টিভি উপস্থাপক সাবিকা আল-দোসারি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘প্রত্যেক সৌদি নারীর জন্য এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’ মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তিনি কয়েক মিনিট গাড়ি চালান বলে জানান।

এখন সৌদি নারীরা গাড়ি চালাতে পারবেন। তবে এখনো তাঁরা ভ্রমণ, বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ইত্যাদি পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া করতে পারেন না।

সৌদি আরবের মানবাধিকারকর্মী বলেন, গাড়ি চালানোয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরও নারীদের আটকে রাখার বিষয়টি লজ্জাজনক ও হৃদয়বিদারক।

এদিকে, এরই মধ্যে কিছু পুরুষ নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আরবি ভাষায় তাঁরা ‘তুমি গাড়ি চালাবে না’ হ্যাশট্যাগ লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

সৌদি সমাজকে আধুনিকতার দিকে নিয়ে যেতে এটা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্যোগ বলে জানা গেছে। তাঁর মস্তিষ্ক থেকেই ‘ভিশন-২০৩০’ কর্মসূচি এসেছে, যাতে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিআই/ ২৪ জুন ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।