25212

অপ্রতিরোধ্য রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

অপ্রতিরোধ্য রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

2022-05-17 00:39:28

সেদিন বাংলার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়েছিল স্বাধীনতার অমর স্লোগান “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” ধ্বনিতে। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘পিতৃহত্যার বদলা নিতে, লক্ষ ভাই বেঁচে আছে,
শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই।’

১৯৮১ সালের ১৭ মে সকল ষড়যন্ত্র, ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরে বাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনায় শেখের বেটি জননেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’ ‘আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’ তিনি আরো বলেছিলেন, ‘জীবনে ঝুঁকি নিতেই হয়, মৃত্যুকে ভয় করলে জীবন মহত্ব থেকে বঞ্চিত হয়।’

দেশে তখন জেনারেল জিয়ার সামরিক শাসন চলছিল। এর মাঝে শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরা ছিল একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। কুচক্রান্ত ও নানা প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করছিল সামরিক শাসক জিয়া। এমনকি ১৯৮১ সালে ‘শেখ হাসিনা আগমন প্রতিরোধ কমিটি’ পর্যন্ত করানো হয়েছিল। নানা হুমকি-ধামকি, লিফলেট বিতরণ ও নানা অপপ্রচার চালিয়ে মানুষের মনকে বিষিয়ে তোলার চেষ্টাও তারা কম করেনি। তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করেই বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরেছিলেন। এদেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁকে সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করার সাহস ও শক্তি যুগিয়েছিল।

তার দুঃসাহসী সিদ্ধান্তের কারণেই আওয়ামী লীগ আজ দল হিসেবে অনেক বেশি শক্তিশালী। তার নেতৃত্বে সামরিক শাসনের স্মৃতি পেছনে ফেলে দেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে, জাতি হিসেবে বাঙালিকে এবং দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে এক ভিন্ন উচ্চতায়।

বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষিখাতে পর্যাপ্ত ভূর্তকি প্রদান, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও উন্নত বীজ সরবরাহ ও বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের মাধ্যমে আমাদের ফসল উৎপাদন এখন পর্যাপ্ত। তাঁর গৃহীত উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। যা শিল্পখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনে ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছে। একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ বর্তমানে চলমান আছে। যা শিল্পখাতে বিপ্লবসাধনের পাশাপাশি অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, গঙ্গার পানিচুক্তি, ঐতিহাসিক সমুদ্র বিজয়, ছিটমহল সমস্যার সমাধান জননেত্রী শেখ হাসিনার গৌরবময় অর্জন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই এদেশে কুখ্যাত বিচারকার্য সম্ভব হয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর সুযোগ নেতৃত্বের কারণেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে অনুকরণীয়, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধ করে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মানের পথে তিনি অপ্রতিরোধ্য রাষ্ট্রনায়ক। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভ প্রায় অর্ধশত বিলিয়ন ডলার।

তার দেয়া রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার আমাদের নেত্রী আপনি দীর্ঘজীবী হোন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আমাদের সবার এই কামনা।

লেখকঃ হাসিবুল হোসেন শান্ত, সাধারণ সম্পাদক- মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগ

সম্পাদক: ইসমাঈল হোসাইন রাসেল
যোগাযোগ: ক্যাম্পাস টাইমস
৪৩ শহীদ নজরুল ইসলাম সড়ক, হাটখোলা রোড, চৌধুরী মল, টিকাটুলি, ঢাকা-১২০৩
মোবাইল: ০১৬২৫ ১৫৬৪৫৫
ইমেইল:[email protected]