শীতলক্ষ্যায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধার, নিহত ২৬


নারায়ণগঞ্জ | Published: 2021-04-05 17:03:05 BdST | Updated: 2021-04-11 20:52:33 BdST

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ১৮ ঘণ্টা পর টেনে তোলার পর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। লঞ্চটির ভেতর থেকে ২১টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এই লঞ্চডুবিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ জনে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে সরাসরি প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মাঝ নদী থেকে সাবিত আল হাসান নামে লঞ্চটি টেনে পারের দিকে নিয়ে আসা হয়।

সেসময় আশেপাশে ভিড় করে স্থানীয়রা। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি লঞ্চটি তোলার পর সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজে হাত লাগান স্থানীয়রা। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্রেন দিয়ে উল্টো করে ঝোলানো লঞ্চটিতে মানুষের দেহ আটকে আছে।

বিআইডাব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান গোলাম মো. সাদেক পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টেনে তোলার পর লঞ্চটি থেকে ২১টি মরদেহ বের করে আনা হয়েছে। গতকাল আরো ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। লঞ্চটির ভেতরে আর কোন মরদেহ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে উল্লেখ করে উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথে এত দুর্ঘটনার দায় কার
সাবিত আল হাসান নামে এই ছোট লঞ্চটি গতকাল নারায়ণগঞ্জের কাছে শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। মি. সাদেক বলছেন, মালবাহী জাহাজটিকে শনাক্ত করা যায়নি।

তবে স্থানীয় টেলিভিশনগুলোতে লঞ্চটিকে ধাক্কা দেবার এবং ডুবে যাওয়ার দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। এতে দেখা যায় মালবাহি জাহাজটি নদীর মাঝ বরাবর দিয়ে ছোট লঞ্চটিকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বেশ কিছুটা দূর নিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে নদীতে নিমজ্জিত হয় লঞ্চটি। ভিডিওটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কর্মকর্তারা বলছেন, লঞ্চটিতে ৪৫ জনের মত যাত্রী ছিল। এর মধ্যে কুড়ি থেকে ত্রিশ জন সাঁতরে নদীর তীরে এসে প্রাণ রক্ষা করেন।

মৃতদেহগুলো উদ্ধারের পর সেগুলো জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে মরদেহ শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হজস্তান্তর করা হবে।

গোলাম মো. সাদেক বলেন, "এ ধরণের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অনেক সময় কয়েক দিন পর মরদেহ ভেসে উঠে। সেক্ষেত্রে মরদেহ ভেসে থাকতে দেখা গেলে তা প্রশাসনকে জানাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে।"

এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম বেপারী জানিয়েছিলেন, ভোররাত পর্যন্ত চেষ্টা করেও লঞ্চটিকে অর্ধেকের বেশি তোলা যায়নি। কর্মকর্তারা বলছিলেন, 'টেকনিক্যাল' সমস্যার কারণে লঞ্চটিকে কিছুদূর ওঠানোর পর আবার ডুবে যাচ্ছিল।

সকাল থেকে লঞ্চটি আবার টেনে তোলার কাজ শুরু হয়।

শেষ পর্যন্ত দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ও দুরন্তের আঠারো ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা সাড়ে বারোটার দিকে লঞ্চটিকে টেনে তোলা হয়। স্থানীয় টেলিভিশনে সরাসরি এই উদ্ধার অভিযান দেখা যায়। তুলে আনার সময় একটি ক্রেন থেকে উল্টো করে ঝুলে থাকতে দেখা যাচ্ছিল লঞ্চটিকে।

লঞ্চটিকে উদ্ধার করতে নিয়োগ করা হয়েছিল দমকল, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীকে।

উদ্ধার চলাকালে নদীর দুই তীরে বহু উৎসুক মানুষ জড়ো হয়। এদের অনেকেই ছিলেন নিখোঁজদের স্বজন। তারা হাহাকার করছিলেন।

স্বজনেরা অভিযোগ করছিলেন, উদ্ধার অভিযানে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। তারা এক পর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও ছোঁড়ে।

এদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য লকডাউন উপেক্ষা করে জড়ো হওয়া এসব মানুষ যেমনি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়িয়ে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে, তেমনি উদ্ধার তৎপরতাও কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয়েছে।

তবে ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ ভিড় করায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ঘটনাস্থলে বেড়েছে নিখোঁজদের স্বজনদের উপস্থিতিও। তাদের অভিযোগ, লঞ্চটি উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

রোববার সন্ধ্যে সাড়ে ছ'টার দিকে ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়, এবং এ সময় নদীতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষ।