প্রতারক স্বামীকে তালাক দিলেন সেই ঢাবিছাত্রী


DU Correspondent | Published: 2022-01-14 23:09:17 BdST | Updated: 2022-01-21 20:30:14 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক শিক্ষার্থী এবং সোনালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে ধরা পড়েছেন এক যুবক। আসলে তিনি একজন কফি দোকানদার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ওই যুবককে আটক করে বেঁধে রাখেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয় তাকে। শুক্রবার দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের তালাক হয়েছে।

বিয়েকাণ্ডে ধরা পড়া মো. জয়নাল চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদার জানান, বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সাহায্যে থানায় সোপর্দ করা হয়। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করতে রাজি না হওয়ায় শুক্রবার তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, বছর দুয়েক আগে ফেসবুকে জয়নালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর প্রেম। গত অক্টোবরে পরিবারের কাউকে না জানিয়েই বিয়ে করেন তারা। তিনি হলে থাকতেন, আর জয়নাল থাকতেন চাঁদপুরে। সম্প্রতি তিনি জয়নালের আসল পরিচয় জানতে পারেন। তালাকের সময় তার বড় ভাই উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার থানায় নিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার দুই পরিবারের মিমাংসায় অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। তাকে ছেড়ে দেয়ার সময় থানায় উপস্থিত থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান রবিন বলেন, ‘আমরা তাকে পুলিশে দিয়েছিলাম। শুক্রবার অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগীর অভিভাবক এসে দুই পক্ষের সম্মতিতে দুজনের তালাক হয়। এরপর অভিযুক্তের কাছ থেকে এ ধরনের কাজ আর করবেন না মর্মে হলফনামা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

অভিযুক্তকে থানায় সোপর্দ করার সময় উপস্থিত সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলিয়াস সিজার তালুকদার বলেন, ‘আমাদের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ছাত্রী তার সমস্যার কথা বললে আমরা তাকে বলি, যেন কৌশলে তাকে ঢাবি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এখানে নিয়ে আসার পর আমরা তাকে ধরে ফেলি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সবকিছু স্বীকার করেন। এরপর আমরা প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় তাকে থানায় সোপর্দ করি।’

বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, ‘প্রতারক আমাকে বলেছেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এবং সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। এখন তিনি সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা। এসব বলে আমাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর আমি বুঝতে পারি তিনি আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি আমাকে নির্যাতনও করতেন।’

অভিযুক্ত জয়নাল বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি নাই। না বুঝে আমি এটা করেছি। তবে আমার সংসার করার ইচ্ছে ছিল।’