ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রত্যাখ্যান ছাত্র ফ্রন্টের


DU Correspondent | Published: 2022-06-17 23:01:12 BdST | Updated: 2022-08-14 14:53:43 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেটে গতকাল (১৬ জুন) ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৯২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বাজেট পাশ হয়েছে। এ বাজেট থেকে ৬৭১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে। গবেষণা বাবদ ব্যয় হবে ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।

গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে এ বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। শুক্রবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাজিব কান্তি রায় ও সাধারণ সম্পাদক সুহাইল আহমেদ শুভ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ বাজেট প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ৯২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বাজেট একটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নয়। বাজেটের একটা বড় অংশই ব্যয় হবে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ। প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও গবেষণা, শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সে তুলনায় বরাদ্দ বাড়ছে না। এ বছর গবেষণাখাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় টাকার অঙ্কে কিছুটা বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি নগণ্য।

একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মনোযোগের জায়গা হওয়া উচিত গবেষণা অথচ এ খাতে অপ্রতুল বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে তার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বরাবরের ন্যায় উপেক্ষিত হয়েছে বাজেটে। হল গুলোতে রয়েছে তীব্র আবাসন সংকট। হল ক্যান্টিনে দফায় দফায় খাবারের দাম বৃদ্ধি হওয়ার ফলে ক্যান্টিনে ভর্তুকি দিয়ে খাবারের দাম কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। এরকম আশু সংকটগুলোর জন্য বিশেষ মনোযোগ দেওয়া দরকার ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার জন্য পারিপার্শ্বিক এ আয়োজনগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার ছিটেফোঁটা প্রতিফলন ঘটেনি উত্থাপিত এ বাজেটে।

নেতারা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমাগত তার ‘গণ’ চরিত্র হারিয়ে ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরিকল্পনা মাফিক প্রতিবছর বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা। এই অভ্যন্তরীণ আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নামে বেনামে হাতিয়ে নেয়া অতিরিক্ত ফি। বাজেট বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ ঘাটতি বাজেট পূরণে অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির নতুন নতুন উপায় খুঁজতে বলেছেন। তার এই বক্তব্য সেটিকেই ইঙ্গিতবহ করে। এছাড়াও বক্তব্যে অভিভাবকদের আয়ের সাপেক্ষে বেতন-ফি নির্ধারণ করার যে প্রস্তাব তিনি উত্থাপন করেছেন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বাজেট সংশোধনের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অবিলম্বে এ বাজেট সংশোধন করে গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ, আবাসন-ডাইনিং-পরিবহন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির নামে শিক্ষা ধ্বংসের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বাড়াতে হবে।