লিমনের মৃত্যু দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে : হল প্রভোস্ট


DU Correspondent | Published: 2022-11-23 18:06:46 BdST | Updated: 2022-11-30 14:06:06 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের ছাত্র লিমন কুমার রায় (২০) একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। এখন পর্যন্ত তার মৃত্যু দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট মিহির লাল সাহা।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের ছাত্র লিমন রায় একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার এই মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার বাবা-মা ও যেমন এটি আশা করে না, আমরা শিক্ষক হয়েও এরকম ঘটনা আশা করি না। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

তিনি আরও বলেন, লিমনের একটি এলকেআর কালেকশন নামে ইউটিউব পেজ ছিল সেটিও সে ডিলিট করে দিয়েছে।

আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকালে তার একটি পরীক্ষা ছিল, সে পরীক্ষাও দিতে যায়নি। কী কারণে সে ছাদে গিয়েছিল সেটিও বুঝতে পারছি না। এটি নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি একটি দুর্ঘটনা।

 

অন্যদিকে নিহত লিমনের বন্ধু নাঈম সাংবাদিকদের বলেন, লিমন রায় সবসময় হাসিখুশি থাকতো। কখনো বুঝতে পারিনি এরকম একটা ঘটনা ঘটে যাবে। লাস্ট ক্লাস একটা পরীক্ষায় সে সবার থেকে হায়েস্ট নম্বর পেয়েছিল, সেটা নিয়ে আমরা অনেকক্ষণ হাসাহাসি করেছি। এর আগের ক্লাসেও সে গান গেয়েছিল। কখনো বুঝতে পারেনি সে ডিপ্রেশনে ছিল।

নাঈম আরও জানায়, সকালে আমাদের গ্রুপে মেসেজ দিয়েছিল ক্লাস আছে কিনা। পরে জানানো হয় ক্লাস নেই। তার বন্ধুরা তাকে ডেকেছিল পরবর্তী ক্লাসে যাবে কিনা, সে বলল ক্লাস নেই ঘুমাবো। লিমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য বিল্ডিংয়ের চার তলায় থাকতো। কখন যে সবার আগে চলে এসে ছাদে গিয়েছিল সেটা এখনো জানতে পারিনি।

নিহত লিমনের আরেক বন্ধু আলভী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সোয়া ১০টায় জানতে পারলাম আমাদের বন্ধু আর নেই। খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে ছুটে আসি।

কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্ট বা বাইরের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল কিনা জানি না। তার একটি রিলেশন ছিল সেটি তার এলাকায় নীলফামারীতে। সেখানে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কিনা সে বিষয়ে বলতে পারছি না। তার বাড়ি নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা দোয়ার পাড়া গ্রামে। সে ওই এলাকার প্রতাপচন্দ্র রায়ের ছেলে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনার খবর জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে যেয়ে তদন্ত শুরু করি। তবে এখন পর্যন্ত তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে কিনা বা অন্য কোনো ঘটনা আছে কিনা সেটি জানা যায়নি। সেটির তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লিমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (আইইআর) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।