তাসনিমের মেডিকেলে চান্স পাওয়ার গল্প


মৌলভীবাজার | Published: 2021-04-08 23:13:34 BdST | Updated: 2021-07-27 08:26:39 BdST

ছোটবেলা থেকেই তাসনিমের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার, সাদা অ্যাপ্রোন গায়ে জড়ানোর। অবশেষে তাসনিমের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ঢাকায় চান্স পেয়ে।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫নং কালাপুর ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামান (ফুলন) ও সালমা খাতুনের মেয়ে তাসনিম ইবনাত এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

এনজিওতে চাকরিজীবী পিতার এক মেয়ে ও এক ছেলে। অত্যন্ত মেধাবী তাসনিম ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখা করতে ভালোবাসে। মেধাবী এই ছাত্রী এলাকার কাকিয়াবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন-এ প্লাস ও বৃত্তি পেয়ে পিএসসিতে সফলতার সহিত উত্তীর্ণ হয়। এরপর শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে জেএসসি ও এসএসসি উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন-এ প্লাস ও বৃত্তি পায়।

স্কুলের সব প্রতিযোগিতা, অনুষ্ঠান, গার্লস গাইড সবকিছুতেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। স্কুলের সবাই একনামে চিনে তাকে। স্যার-ম্যামদের প্রিয় তাসনিম ইবনাত, জুনিয়রদের আদরের জামি আপু। তারপর সে ভর্তি হয় শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে। স্কুল-কলেজের দূরের ছাত্রী ছিল সে। আধাঘণ্টা মাটির রাস্তায় হেঁটে আরও আধাঘণ্টা গাড়িতে চড়ে শহরে আসতে হতো তাকে প্রতিদিন।

তাসনিমের ভাষ্যমতে, স্যার-ম্যাম আর বান্ধবীদের আদর ভালোবাসায় কোনো কষ্টই মনে হতো না তার। তাসনিমের প্রিয় বিষয় ছিল গণিত। স্যাররা বোর্ডে একদিকে প্রশ্ন লিখতেন আর অন্যদিকে তার অংক করা শেষ হয়ে যেত। একদিন তো তার এক বান্ধবী স্যারকে জিজ্ঞাসা করে- স্যার তাসনিম এত তাড়াতাড়ি লিখে ফেলে কীভাবে?

সে স্কুল ও কলেজ জীবনে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, লয়ার, প্রোগ্রামার, ম্যাথমেটিশিয়ান আরও কত কিছুই হওয়ার স্বপ্ন দেখত। তবে সাদা অ্যাপ্রোনের মায়া উপেক্ষা করতে পারেনি সে। অত্র কলেজ থেকে অনেক কম শিক্ষার্থী মেডিকেল চান্স পায়, বছরে ২-৩ জন।

ঢাকার কোনো মেডিকেলে কেউ আছেন বলেও জানা নেই। তাই চান্স পাবে কিনা- এ ভয়টা কলেজের সবার মতো তারও হতো না এমন নয়। কলেজ লাইফটা ছিল তার কাছে স্বপ্নের মতো। কলেজের প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া, বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, কম্পিটিশনে প্রথম হওয়া, বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করাসহ সবকিছু মিলিয়ে লাইফটা অনেক সুন্দর ছিল তার। সে ছিল কলেজে গ্রুপ লিডার ও রেড ক্রিসেন্টে দলেরও।

কলেজের সবাই একনামে চিনত তাসনিম ইবনাত। প্রিন্সিপাল স্যার থেকে শুরু করে সব স্যার-ম্যামরা এবং তার বান্ধবীরা অনেক অনেক বেশি আদর করতেন তাকে। সব সময় মোটিভেট করতেন। তাসনিম কোনোদিন মন খারাপ করে থাকলে স্যার-ম্যামরা জিজ্ঞাসা করতেন- কী হয়েছে তাসনিম মন খারাপ কেন? তুমি কি অসুস্থ? এ জিনিসগুলো যে কত বড় পাওয়া!

পিতা-মাতার একমাত্র আদরের মেয়ে তাসনিম। তারা কখনো পড়ালেখা করতে চাপাচাপি করেননি। ইনফ্যাক্ট তার আম্মু আব্বু বলতেন এত পড়তে হবে না। মেডিকেলে না হলে আরও অনেক ভার্সিটি আছে। কোনো চাপ নেয়ার দরকার নেই। রেজাল্টের আগের দিন রাতেও বুঝিয়ে বলেছেন অন্য কোথাও পড়াবেন সমস্যা নেই। সব সময় সাপোর্ট করতেন তাকে; যা চাইতো উনাদের কাছে তার চেয়েও বেশি দিতেন।

তাসনিম বলেছেন, আমি মনে করি কলেজ লাইফেই অ্যাডমিশনের রুট গড়ে নেওয়া উচিত। আর এতে আমার সম্মানিত স্যাররা, আম্মু-আব্বু আমাকে সর্বোচ্চ সাহায্য করেছেন। উনাদের দোয়া ও মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমি মেডিকেলে চান্স পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

তাসনিম সবার কাছে দোয়া চেয়ে জানান, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সে যেন একজন ভালো ডাক্তার হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সবার সেবা ও পেশাদারি দায়িত্ব পালন করতে পারেন।