এমপি শিমুল ও রিমনের কুশপুত্তলিকা দাহ শেষে দুদকে অভিযোগ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | Published: 2021-10-10 12:33:07 BdST | Updated: 2021-12-06 09:10:09 BdST

বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাটোরের সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল ও বরগুনার সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ায় সাংসদ শিমুল ও রিমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ ১০ অক্টোবর রবিবার দুপুর ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকাদাহ শেষে দুর্নীতির তথ্য প্রমাণসহ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। মানববন্ধন শেষে সংগঠনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অভিযোগ কেন্দ্রে যেয়ে দুইশ পৃষ্ঠার তথ্য-প্রমাণসহ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর সাংসদ শিমুল ও রিমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদান করা হয়।অভিযোগ প্রদানের সময় প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন, সহ-সভাপতি শাহীন মাতুবর, নূর আলম সরদার, রোমান হোসাইন ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বেলাল হোসেন।

এর আগে মানববন্ধনের বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাটোরের সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল এবং বরগুনার সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় তা তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। দুদকের নিকট দাবি, অবিলম্বে বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করুন। জনগণের রক্ত চুষে দুর্নীতিবাজরা ফুলে ফেঁপে উঠেছে। এমপি শিমুল ও রিমনদের অপকর্মের কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এদেরকে দল থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে হবে। আমাদের পিতারা বঙ্গবন্ধুর আহবানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছেন। কোন দুর্নীতিবাজের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না। এই দেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মান করবো। দেশের প্রতি যাদের কোন ভালোবাসা নেই তারাই জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে অর্থ পাচার করে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি দুর্নীতিবাজের মুখোশ উন্মোচন করে তথ্য প্রমাণসহ দুদকে অভিযোগ দিবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। দুর্নীতিবাজদের আমরা সহ্য করবো না। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতিবাজ যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সাংসদ শিমুল ও রিমনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।"

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন,
"বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যতীত দেশের সার্বিক উন্নয়ন অসম্ভব। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করার পূর্বশর্ত হচ্ছে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু কতিপয় দুর্নীতিবাজদের কারণে দেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকা আবারও খামচে ধরতে চায় একাত্তরে পরাজিত সেই পুরনো শকুনের দোসররা। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা রাজাকারের বংশধররা দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপকর্ম সংঘটিত করে প্রতিনিয়ত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। দুর্নীতিবাজরা দেশ ও জাতির শত্রু। এদেরকে দমন করা দুদকের নৈতিক দায়িত্ব। দুর্নীতি দমন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দুদকের নিকট দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনেক। রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন করা দুদকের নৈতিক দায়িত্ব। জনগণের টাকা লুট করে যারা বিদেশে অর্থ পাচার করে তারা কখনোই দেশপ্রেমিক হতে পারে না। এরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

আল মামুন আরোও বলেন,
"কানাডার বেগমপাড়াসহ অন্যান্য দেশে যারা অবৈধভাবে অর্থ পাচার করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সম্প্রতি নাটোরের সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলের বিরুদ্ধে স্ত্রীর নামে কানাডায় বাড়ি কেনার অভিযোগ ওঠেছে। কিন্তু দুদক এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নাটোর শহরে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, জায়গা-জমি কেনার অভিযোগ ওঠেছে। তার বর্তমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নির্বাচনী হলফনামার সাথে অসামঞ্জস্য। সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে তার সম্পত্তির পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা দেশের প্রচলিত আইন পরিপন্থী। অবিলম্বে তার সম্পত্তির হিসাব জাতির সামনে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সাংসদ শিমুলের স্ত্রী পেশায় একজন গৃহিণী। কানাডার বেগমপাড়ায় তার স্ত্রী কিভাবে বাড়ি কিনলেন? জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে অর্থ পাচার করা কোন সাংসদের দায়িত্ব হতে পারে না। তাকে অবশ্যই দুদকের নিকট জবাবদিহি করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার পিতার বিতর্কিত ভূমিকা ছিল বলে নাটোরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নামক বইয়ে উল্লেখ আছে। নাটোরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নামক সেই বইয়ের লেখক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. সুজিত কুমার সরকারকেও বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এমপি শিমুলের বিরুদ্ধে। এছাড়াও নাটোরে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী তার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অবিলম্বে সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলের ন্যায় বরগুনার সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
এমপি রিমনের বিরুদ্ধে জামায়াতপ্রীতি এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের নামে হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তিনি ‘যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তান’ বলেও ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে।পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগীর নির্যাতিত মুক্তিযুদ্ধপ্রেমী মানুষদের পক্ষে জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে এমপি শওকত হাচানুর রহমানের বৈধ ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পত্তির অনুসন্ধান, অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছিল। এমপি রিমনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর একজন কর্মচারীকে মারধর, গৃহবধূকে বিচারের নামে নির্যাতন, ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর, নামে বেনামে সম্পত্তি বানানো ইত্যাদি বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এমপি রিমনের বিরুদ্ধে। তার নির্বাচনী হলফনামার সাথে বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সাংসদ শিমুল ও রিমন কি রাষ্ট্র ও দুদকের চেয়ে শক্তিশালী? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রাষ্ট্র ও দুদককে প্রমাণ করতে হবে তারা সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী। জনগণ দুদকের দিকে তাকিয়ে আছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিকট দাবি, কানাডার বেগমপাড়াসহ অন্যান্য দেশে যারা অবৈধভাবে অর্থ পাচার করেছে তাদের নামের তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। অবিলম্বে নাটোরের সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল ও বরগুনার সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে যাবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।"

প্রেস রিলিজ