সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে নোবিপ্রবিতে মানববন্ধন


Noakhali | Published: 2021-10-17 14:41:40 BdST | Updated: 2021-11-29 15:04:14 BdST

রাজু, নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) 'শিক্ষক সমিতি’ এবং ‘আমরা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের’ সকল শিক্ষকবৃন্দ  সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধকরনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। আজ রবিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষকগণ দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চলমান সহিংসতা নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করেন।তারা তাদের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বিচার দাবি এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার  জোর দাবির কথা তুলে ধরেন। সহিংসতা রোধে আয়োজিত এই মানববন্ধন ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সকল নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ইনস্টিটিউট, বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

প্রতিবাদ সভা শেষে তাঁরা একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, "আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি সনাতন ধর্মের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আয়োজনে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৩ অক্টোবর থেকে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জায়াগায় সনাতন ধর্মের শতাধিক উপাসনালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, শ্লীলতাহানি ও সীমাহীন লুটপাট চলছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জায়াগায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা মনে করি বাঙালি জাতিসত্তার ভিত্তিভূমি নির্মাণে এই দেশের সব ধর্ম, সব মতের মানুষের অবদান রয়েছে। কোন নির্দিষ্ট জনোগোষ্ঠীর উপর বাংরবার হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয়। এর পূর্বে রামু, নাসিরনগর, শাল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন হামলা হলেও যথাযথ বিচার হয়নি। বিচারহীনতা এই সংস্কৃতি এসব সন্ত্রাসকে আরো উৎসাহিত করে। ফলে ধর্মনিরপেক্ষতার উপর এই দেশের যে বৈচিত্র্য বিরাজমান, সেটা ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। এই দেশ যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই একদল উগ্রবাদীর এহেন কর্মকাণ্ড বহিঃর্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অর্জনকে ম্লান করে দেয়। তাই আমরা চাই,

১/ চলমান সন্ত্রাসের যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এরকম গর্হিত অপরাধ করার সুযোগ আর কেউ না পায়।
২/ পূর্বে রামু, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শাল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার সংঘটিত হামলায় জড়িত সকলের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩/ হামলার শিকার মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪/ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জান-মাল রক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করতে হবে। সেই সাথে যদি কোন প্রশাসনিক ব্যক্তি হামলা ঠেকাতে গাফিলতি থাকে তাও খতিয়ে দেখে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৫/ সামনের বছরগুলোতে যেন দুর্গোৎসবসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অনুষ্ঠানগুলোতে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হবে।

আমরা মনে করি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান সবাই মিলেই বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশে বাংরবার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া ও জান-মালের ক্ষতি হওয়া রাষ্ট্রীয় অবহেলার সামিল। এবিষয়ে রাষ্ট্র আরো তৎপর ও সোচ্চার হবে এটাই প্রত্যাশিত।
সকলের মঙ্গল হোক"।