রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকেল চুরির অভিযোগে হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার


RU Correspondent | Published: 2022-11-24 21:05:04 BdST | Updated: 2022-11-30 13:05:13 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক ছাত্রলীগ নেতাকে সাইকেল চুরির অভিযোগে হল থেকে বহিষ্কার করেছেন হল প্রাধ্যক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু হল থেকে বহিষ্কার করে বিছানাপত্রসহ তাকে বের করে দেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শায়খুল ইসলাম মামুন জিয়াদ।

 

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল মারুফ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ও বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

সাইকেল চুরির সময় তার সঙ্গে আরিফুল ইসলাম সুমন নামের আরেকজন ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ফোকলোর বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

হল প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার (২৩ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু হল থেকে একটি সাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলের প্রধান ফটকে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করেন। এতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা হলের ছাদ থেকে নিচে ফেলে সাইকেল বের করে নিয়ে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও হল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে আসে। পরে তাকে হল থেকে বহিষ্কার করে বের করে দেওয়া হয়।

হলের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, মারুফ মাদকাসক্ত। এরআগেও তার বিরুদ্ধে মোবাইল চুরির অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মারুফ বলেন, ‘আমি কারও সাইকেল চুরি করিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই ভাই আমাকে সাইকেল দিয়ে গেছেন। সে সাইকেলগুলো আমি নিয়েছি।’

তবে কোন বড় ভাই দিয়ে গেছেন জানতে চাইলে তিনি তাদের নাম বলতে পারেননি। ছাদ থেকে সাইকেল ফেলা দেওয়ার বিষয়েও কোনো উত্তর দিতে পারেননি অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা।

আরেক অভিযুক্ত সুমন বলেন, ছাত্রলীগ নেতা মারুফের নির্দেশে তিনি হলের ছাদ থেকে একটি সাইকেল ফেলেছেন। পরে মারুফ ওই সাইকেল নিয়ে বিক্রি করে দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল প্রভোস্ট। এরই মধ্যে তাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ কখনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। আমরা যদি যথাযথ প্রমাণ পাই তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সুপারিশ করবো।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইখুল ইসলাম মামুন জিয়াদ বলেন, আমরা ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করেছি। এমন কর্মকাণ্ড যেন হলে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সতর্ক থাকবো।