ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বানালেন ইসলামিক অ্যাপ


ঢাকা | Published: 2021-05-12 03:59:48 BdST | Updated: 2021-06-23 06:06:01 BdST

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত দুই বন্ধু মেহেদী হাসান উৎস ও হুমায়রা তাসনিম মালিহা তৈরি করেছেন একটি ইসলামিক অ্যাপ। 'দ্বীন' নামের এই অ্যাপ তৈরির পেছনে বেশ পরিশ্রম করলেও মূল ভাবনাটি ছিল খুব সহজ। 'আমাদের মধ্যে অনেকেই দৈনন্দিন ব্যস্ততায় যথাসময়ে নামাজ পড়তে ভুলে যান। স্থান ও সময় অনুযায়ী নামাজের সময়সূচি, কিবলা নির্দেশক, সম্পূর্ণ কোরআন ও হাদীস শরীফ, তসবিহ, সেহেরি ও ইফতার অ্যালার্টসহ অনেকগুলো বিষয়ের সমন্বয়ে একটি অ্যাপ তৈরি করতে চেয়েছি।'—এমনটাই বলছিলেন এটির অন্যতম নির্মাতা মেহেদী হাসান।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের কারণে পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স। একই বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা সেনা কর্মকর্তা বাবার মেয়ে হওয়ায় ছোটবেলা কাটিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তখন থেকেই নিত্যনতুন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার। আর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নানা জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজতেই বেছে নিয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্সের পড়াশোনা। শেষ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত দু'জনই থিসিস করছেন আইওটি সিকিউরিটি নিয়ে। নতুন গড়া একটি স্টার্টআপও রয়েছে তাদের, যার নাম 'লেট্স ফ্লাটার'। এর মাধ্যমেই তৈরি করেছেন ইসলামিক অ্যাপ 'দ্বীন', যা অ্যান্ড্রোয়েড ডিভাইসের জন্য গত গেল মাসে গুগল প্লে-স্টোরে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

গতবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মেহেদীর বাবা মারা যান। বেঁচে থাকতে সবসময় ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ ও নামাজ পড়ার ব্যাপারে ছেলেকে উদ্বুদ্ধ করতেন বাবা। তিনি মারা যাওয়ার পর সেই বিষয়গুলো মেহেদীকে তাড়িত করছিল। সেসময় ভাবলেন এমন একটা কিছু করবেন, যেটি সকলকে নামাজের ব্যাপারে আগ্রহী করতে সাহায্য করবে, জানিয়ে দিবে সঠিক সময়সূচি। সঙ্গে থাকবে ধর্মীয় নানা বিষয়। অন্যদিকে হুমায়রাও একইধরনের কিছু নিয়ে কাজ করার প্রেরণা পান তার নানার কাছে। রাতে নামাজের জন্য ফোনে অ্যালার্ম সেট করা, কিংবা দরুদ পড়ে গুনে হিসাব রাখার ক্ষেত্রে প্রায়ই সমস্যা হতো নানার। তাই হুমায়রা ভাবলেন, একটি অ্যাপে নামাজের অ্যালার্টের পাশাপাশি যদি তসবিহ বা দরুদ পড়ার সংখ্যাও গুনে রাখা যেতো!

দুই সহপাঠী নিজেদের এই ভাবনা আদানপ্রদানের পর গেলবছরের ডিসেম্বরে কাজ শুরু করেন। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি সময় বের করে কোডিংয়ে মনোযোগ দেয়া কিছুটা দুষ্কর ছিল, তবু তারা কাজে লেগে পড়লেন। কোডিং ও ডাটাবেজ নিয়ে কাজ করেন মেহেদী, অন্যদিকে ইউজার ইন্টারফেস তৈরি করেন হুমায়রা। হুমায়রা বলেন, এটিকে সব বয়সী মানুষের জন্য সহজে ব্যবহার উপযোগী ও আকর্ষণীয় ইন্টারফেস তৈরি করার কাজটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এইবছর রোজা শুরুর আগে, ১০ এপ্রিল এটি তৈরির কাজ শেষ হয়। রমজান মাসেই এটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।

অ্যাপের ফিচারগুলো সম্পর্কে দুই নির্মাতা বলেন, এটি স্মার্টফোনের লোকেশন অনুযায়ী নামাজের সময় দেখাবে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন দিবে। সুরা ও পারা অনুযায়ী সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ পড়া যাবে, রয়েছে হাদীসও। এছাড়া কম্পাস, প্রতিদিনের দোয়া, নামাজের হিসাব রাখার জন্য ট্র্যাকার, তসবিহ গণনার ব্যবস্থা, কোরআন ও নামাজ শিক্ষা এবং প্রতিদিনের জন্য একটি করে হাদীস দেখার ব্যবস্থা রয়েছে এতে। এছাড়া রমজান মাসে সেহেরীর ৪৫ মিনিট আগে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট ও সময়সূচি দেখারও ব্যবস্থা আছে।

গুগল প্লে-স্টোরে গিয়ে 'DEEN' লিখে সার্চ করলেই অ্যাপটি পাওয়া যাবে। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই ব্যবহার করা যাবে, বেছে নেয়া যাবে লাইট অথবা ডার্ক থিম। ইতোমধ্যেই এটিকে দ্বিতীয় সংস্করণে হালনাগাদ করা হয়েছে। নির্মাতা মেহেদী হাসান উৎস বললেন, 'অ্যাপ আপডেট ও এতে নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করার বিষয়টি চলমান থাকবে। এরইমধ্যে কয়েক হাজার ব্যবহারকারী এটি ডাউনলোড করেছেন ও রিভিউ দিয়েছেন সাড়ে ৩'শ ব্যবহারকারী। সবার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আমরা আরও অনুপ্রাণিত হচ্ছি।’ হুমায়রা তাসনিম মালিহা বললেন, 'আমাদের সফটওয়্যার কোম্পানি লেট্স ফ্লাটারকে নিয়ে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখছি। দেশের বিভিন্ন সেক্টরকে আরও উন্নত ও গতিশীল করতে কার্যকরী সফটওয়্যার তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চাই।’

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত দুই বন্ধু মেহেদী হাসান উৎস ও হুমায়রা তাসনিম মালিহা তৈরি করেছেন একটি ইসলামিক অ্যাপ। 'দ্বীন' নামের এই অ্যাপ তৈরির পেছনে বেশ পরিশ্রম করলেও মূল ভাবনাটি ছিল খুব সহজ। 'আমাদের মধ্যে অনেকেই দৈনন্দিন ব্যস্ততায় যথাসময়ে নামাজ পড়তে ভুলে যান। স্থান ও সময় অনুযায়ী নামাজের সময়সূচি, কিবলা নির্দেশক, সম্পূর্ণ কোরআন ও হাদীস শরীফ, তসবিহ, সেহেরি ও ইফতার অ্যালার্টসহ অনেকগুলো বিষয়ের সমন্বয়ে একটি অ্যাপ তৈরি করতে চেয়েছি।'—এমনটাই বলছিলেন এটির অন্যতম নির্মাতা মেহেদী হাসান।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের কারণে পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স। একই বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা সেনা কর্মকর্তা বাবার মেয়ে হওয়ায় ছোটবেলা কাটিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তখন থেকেই নিত্যনতুন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার। আর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নানা জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজতেই বেছে নিয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্সের পড়াশোনা। শেষ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত দু'জনই থিসিস করছেন আইওটি সিকিউরিটি নিয়ে। নতুন গড়া একটি স্টার্টআপও রয়েছে তাদের, যার নাম 'লেট্স ফ্লাটার'। এর মাধ্যমেই তৈরি করেছেন ইসলামিক অ্যাপ 'দ্বীন', যা অ্যান্ড্রোয়েড ডিভাইসের জন্য গত গেল মাসে গুগল প্লে-স্টোরে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

গতবছরের ফেব্রুয়ারিতে মেহেদীর বাবা মারা যান। বেঁচে থাকতে সবসময় ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ ও নামাজ পড়ার ব্যাপারে ছেলেকে উদ্বুদ্ধ করতেন বাবা। তিনি মারা যাওয়ার পর সেই বিষয়গুলো মেহেদীকে তাড়িত করছিল। সেসময় ভাবলেন এমন একটা কিছু করবেন, যেটি সকলকে নামাজের ব্যাপারে আগ্রহী করতে সাহায্য করবে, জানিয়ে দিবে সঠিক সময়সূচি। সঙ্গে থাকবে ধর্মীয় নানা বিষয়। অন্যদিকে হুমায়রাও একইধরনের কিছু নিয়ে কাজ করার প্রেরণা পান তার নানার কাছে। রাতে নামাজের জন্য ফোনে অ্যালার্ম সেট করা, কিংবা দরুদ পড়ে গুনে হিসাব রাখার ক্ষেত্রে প্রায়ই সমস্যা হতো নানার। তাই হুমায়রা ভাবলেন, একটি অ্যাপে নামাজের অ্যালার্টের পাশাপাশি যদি তসবিহ বা দরুদ পড়ার সংখ্যাও গুনে রাখা যেতো!

দুই সহপাঠী নিজেদের এই ভাবনা আদানপ্রদানের পর গেলবছরের ডিসেম্বরে কাজ শুরু করেন। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি সময় বের করে কোডিংয়ে মনোযোগ দেয়া কিছুটা দুষ্কর ছিল, তবু তারা কাজে লেগে পড়লেন। কোডিং ও ডাটাবেজ নিয়ে কাজ করেন মেহেদী, অন্যদিকে ইউজার ইন্টারফেস তৈরি করেন হুমায়রা। হুমায়রা বলেন, এটিকে সব বয়সী মানুষের জন্য সহজে ব্যবহার উপযোগী ও আকর্ষণীয় ইন্টারফেস তৈরি করার কাজটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এইবছর রোজা শুরুর আগে, ১০ এপ্রিল এটি তৈরির কাজ শেষ হয়। রমজান মাসেই এটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।

অ্যাপের ফিচারগুলো সম্পর্কে দুই নির্মাতা বলেন, এটি স্মার্টফোনের লোকেশন অনুযায়ী নামাজের সময় দেখাবে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন দিবে। সুরা ও পারা অনুযায়ী সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ পড়া যাবে, রয়েছে হাদীসও। এছাড়া কম্পাস, প্রতিদিনের দোয়া, নামাজের হিসাব রাখার জন্য ট্র্যাকার, তসবিহ গণনার ব্যবস্থা, কোরআন ও নামাজ শিক্ষা এবং প্রতিদিনের জন্য একটি করে হাদীস দেখার ব্যবস্থা রয়েছে এতে। এছাড়া রমজান মাসে সেহেরীর ৪৫ মিনিট আগে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট ও সময়সূচি দেখারও ব্যবস্থা আছে।

গুগল প্লে-স্টোরে গিয়ে 'DEEN' লিখে সার্চ করলেই অ্যাপটি পাওয়া যাবে। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই ব্যবহার করা যাবে, বেছে নেয়া যাবে লাইট অথবা ডার্ক থিম। ইতোমধ্যেই এটিকে দ্বিতীয় সংস্করণে হালনাগাদ করা হয়েছে। নির্মাতা মেহেদী হাসান উৎস বললেন, 'অ্যাপে নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করার বিষয়টি চলমান থাকবে। এরইমধ্যে কয়েক হাজার ব্যবহারকারী এটি ডাউনলোড করেছেন ও রিভিউ দিয়েছেন সাড়ে ৩'শ ব্যবহারকারী। সবার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আমরা আরও অনুপ্রাণিত হচ্ছি।’ হুমায়রা তাসনিম মালিহা বললেন, 'আমাদের সফটওয়্যার কোম্পানি লেট্স ফ্লাটারকে নিয়ে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখছি। দেশের বিভিন্ন সেক্টরকে আরও উন্নত ও গতিশীল করতে কার্যকরী সফটওয়্যার তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চাই।’