হল কমিটি করতে জয়-লেখক, সঞ্জিত-সাদ্দামকে প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি


শাহীন আব্দুল্লাহ, বিশেষ প্রতিবেদক-ক্যাম্পাস টাইমস | Published: 2022-01-14 00:06:05 BdST | Updated: 2022-08-11 05:17:30 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের কমিটি নেই প্রায় চার বছর। এতদিন বিভিন্ন হলের পদপ্রার্থীরা মিটিং মিছিল এবং শীর্ষ নেতাদের প্রটোকল দিয়ে সময় কাটিয়েছেন। ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময় দিয়েছেন ছাত্রলীগক।  এখনো পর্যন্ত কমিটি না হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে তাদের মাঝে। আর এরই প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে অতি দ্রুত কমিটি করার জন্য আহবান জানিয়েছেন পদপ্রার্থীরা। অন্যথায় তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পদপ্রার্থীরা।

বিভিন্ন হলের একাধিক পদপ্রার্থী ক্যাম্পাসটাইমসকে জানিয়েছেন, তারা কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদেরকে সময় বেঁধে দিয়েছেন। 

হলের পদপ্রার্থীর জানান, তারা ১৪ তারিখ শুক্রবারের মধ্যে চার নেতার কাছে সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন। যদি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে তবে সবকিছু আগের মত চলবে অন্যথায় ১৪ তারিখ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসলে তারা মধুর ক্যান্টিনে তালা ঝুলাবেন এবং মধুর ক্যান্টিনের সামনে অনশনের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে পদপ্রার্থীরা হুঁশিয়ারি দিলে তিনি বলেছেন ''তোমরা নুরুর মত আচরণ করছ কে?" আল নাহিয়ান খান জয়কে অনশনের হুঁশিয়ারি দিলে তিনি বলেন   ''তোমরা অনশন কর।'' এ কথা বলায় আরো ক্ষিপ্ত হয়েছেন পদপ্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন বিভিন্ন হলের পদপ্রার্থীরা। তখন প্রার্থীরা তাদের সিদ্ধান্ত তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন তাদের একটি মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। 

বুধবার রাতে হল পদপ্রার্থীদের আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেছেন তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে এসে এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন। যদিও ডিসেম্বরে আল নাহিয়ান খান জয় বলেছেন তারা জানুয়ারির মধ্যে হল কমিটি করবেন কিন্তু তার কোন লক্ষণই নেই। সঞ্জিত চন্দ্র দাস এক ফেইসবুক মন্তব্যে লিখেছিলেন জানুয়ারিতে কমিটি না হলে তিনিও আন্দোলনে যাবেন। 

সবমিলিয়ে হল পদপ্রার্থীদের পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসলে ক্যাম্পাস টাইমসের কাছে থাকা তথ্য অনুসারে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ নেতা ও ঢাবি ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা। 

হল পদপ্রার্থীদের সম্পর্কে লিখতে গিয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের এক নেতা লিখেছেন,

''অনেকগুলো সম্ভাব্য যুবক।তাদের ছন্নছাড়া জীবন। বয়স বেড়ে যাচ্ছে, সাথের বন্ধু-বান্ধবরা চাকরিতে প্রবেশ করেছে। তাদের প্রেমিকাদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে৷তাদের পিতামাতার বয়স বেড়ে যাচ্ছে। তাদের শূন্য পকেট, বুকভরা হতাশা। বাড়ি থেকে কল আসলেই তাদের বুকের ভিতর আঁতকে উঠে।''

''তাদের অনুসরণ করা অনুজরাও ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে দিতে ক্লান্ত। সবমিলিয়ে এক বিশাল সংকট। এই সংকট কাটানো অতীব জরুরী। এতগুলো হতাশা বুকে চেপে, মিথ্যা হাসি বেঁচে থাকা সকল যুবকের মুখে হাসি ফুটুক। এই মাসেই ফুটুক। এই পৌষে-ই ফুটুক।''

"আসছে ফাল্গুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অন্তর্গত সকল হলে নতুন নতুন ফুল ফুটুক। বিশাল বিশাল ফুল ফুটুক। মুজিববাদীরা প্রস্ফুটিত হোক।মুজিববাদীরা ডানা মেলতে চায়;তা দের ডানা মেলে উড়তে দিন দয়া করে। হল কমিটিগুলো দিয়ে দিন।প্লিজ, দিয়ে দিন। "

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট সোহান খান লিখেছেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল ছাত্রলীগের প্রার্থী'রা যে এতো দিন ধৈর্য ধরে মুখ বুঝে সব সহ্য করেছে, এটাও অনেক শীর্ষ নেতার জন্য ভাগ্য..!নইলে....... বুঝে নিন।"

আরেক ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আরিফ হোসেন লিখেছেন, "হল ছাত্রলীগের প্রার্থীরা নেতাদের কাছে জিজ্ঞেস করতেই পারে যে, হল কমিটি কবে দিবেন।এটাই সংগঠনের সৌন্দর্য।প্রত্যুত্তরে সাধারণ সম্পাদক এই ছেলেদের নুরুর অনুসারী বলে অপবাদ দেয় আবার প্রেসিডেন্ট তাদের অনশন করতে বলে।একবার ভাবুন,কর্মীদের সম্পর্কে নেতাদের বক্তব্যটা কি ভয়ংকর।অথচ,এই কর্মীরাই বছরের পর বছর নেতাদের নির্দেশনা মেনে আসছে। দুর্ভাগা আমরা যে,এমন অগনতান্ত্রিক নেতৃত্বে আমাদের সংগঠন করতে হচ্ছে। এমন নেতৃত্বের বিনাশ হোক। এটা এখন সময়ের দাবি।"