আড়াই বছরেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি, কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ


Desk report | Published: 2024-06-02 13:55:13 BdST | Updated: 2024-07-23 20:42:28 BdST

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অংশিক কমিটি ঘোষণার দুই বছর ৫ মাস পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির দেখা পায়নি নেতাকর্মীরা। ফলে হতাশ পদপ্রত্যাশীরা। এর মধ্যে আবার বয়সসীমা পার হওয়ায় অনেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ইতি টানছেন। চাপা অভিমানে কেউ সরে দাঁড়িয়েছেন, কেউ আবার বিয়ে করে ঘর-সংসারে মনোযোগী হয়েছেন।

সবশেষ এফএম শরীফুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলামের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়েছিল ১০ বছর নয়মাস আগে। কিন্তু তাদের পর দেয়া দুই কমিটির একটি বিলুপ্ত আরেকটি হয়েছে স্থগিত। এসব কারণে প্রায় এগারো বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি জবি শাখা ছাত্রলীগ। পদ-পদবি না থাকায় বর্তমানে নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ বাড়ছে।

সর্বশেষ ২০২২ সালের পহেলা জানুয়ারি ইব্রাহিম ফরাজিকে সভাপতি ও এস এম আকতার হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের ৩৫ সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। সভাপতির ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে ৭ বছর আগে এবং আর সাধারণ সম্পাদকের ৬ বছর আগে। ইব্রাহিম-আকতারের কমিটিতে স্থান পাওয়া ৩৫ জন নেতার অধিকাংশই এখন নিষ্ক্রিয়। কেউ কেউ আবার জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উপ-কমিটিতে।

এদিকে দফায় দফায় কমিটি পূর্ণাঙ্গ দেয়ার অঙ্গীকার করেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি শাখা ছাত্রলীগ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সিভি সংগ্রহ করা হয়। তবে এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি সে কমিটি। এক্ষেত্রে শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ কর্মীদের।

আংশিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাসেল বলেন, তারা আমাদের ক্যাম্পাসের অনেক সিনিয়র। নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে চায় না সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। কমিটি ভেঙে যাওয়ার ভয়েই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করছেন না তারা।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে ক্যাম্পাসের আশেপাশে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সমিতি ও হাসপাতাল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি করছে কিছু দুষ্কৃতিকারী। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক দোকানদার জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনের দোকান (টিএসসি) থেকে ছাত্রলীগের নামে প্রতিদিন চাঁদা উঠানো হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি চায়ের দোকান থেকে ২০০ টাকা ও ভাতের হোটেল থেকে নেয়া হয় ৮০০ টাকা।

জবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. ইব্রাহিম ফরাজী বলেন, আমরা খুব শিগগির পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিব। কমিটি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে হয়। টিএসসি-এর চাঁদা তোলার বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ কখনো চাঁদাবাজি, অন্যায় দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন বলেন, খুব দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নামে কেউ চাঁদাবাজি করে না, কারো বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জবি ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ফোরামে আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুতই জবি ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পরিবর্তে কমিটি ভেঙে দেয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, কমিটি দ্রুতই হবে। তবে কত দ্রুত হবে সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি তিনি। তবে বিষয়টি কথা বলতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে কয়েক দফায় মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।