দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস আ’লীগ নেতাদের, আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা


Desk report | Published: 2022-01-18 18:07:22 BdST | Updated: 2022-05-29 05:06:51 BdST

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে তাদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে উল্টো উপাচার্য বিরোধী স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে উপাচার্যের সঙ্গে তার বাসভবনে দেখা করেন।

বিকেল ৩টায় উপাচার্যের বাসভবন থেকে ফিরে ফের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানালে তারা ‘না’ ‘না’ বলে উপাচার্য বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে আসছে। যেকোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়ে থাকে। উভয়পক্ষকে সহনশীল হতে হবে। একসঙ্গে বসতে হবে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের প্রথম যেসব দাবি ছিল তা মেনে নিয়েছে, তাই সবার উচিত ঘরে ফিরে যাওয়া।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে আমি আজকে ঢাকা থেকে এসেছি। সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এ সংকট থেকে বের হয়ে আসার একটি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো।

তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের দাবির প্রতি একমত। দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আনার চেষ্টা করবো। তবে আমাদের একটু সময় দিতে হবে।

আন্দোলনে যাতে কোনো সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী ঢুকে না পড়ে সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সজাগ থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ক্যাম্পাস থেকে এরই মেধ্য সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আপনাদের সন্তোষজনক সমাধানের লক্ষ্যে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কর্মসূচিস্থলে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সিলেট সিটি করেপোরেশনের ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ প্রমুখ।

বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হল প্রভোস্ট বডির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি ও অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। রোববার চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে বিকেলের পর থেকে উত্তপ্ত হয় ক্যাম্পাস।

বিকেল ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য, ১০ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৫ জন শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২৭টি রাবার বুলেট ও ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ার পাশাপাশি লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে উপাচার্যকে মুক্ত করে তার বাসভবনে নিয়ে আসে।

শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে রাত থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার বিচার ও উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন বলে জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি জানান তারা।

এদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।