কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে ভর্তি পরীক্ষা


Dhaka | Published: 2020-12-27 11:27:04 BdST | Updated: 2021-03-06 04:14:06 BdST

কবে হবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা? এই দুশ্চিন্তা নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর আসে অটোপাসের ঘোষণা। এরপর ফের দুশ্চিন্তায় পড়েন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। তবে ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে সেই মেঘ। স্পষ্ট ঘোষণা আসতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বন্ধ অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হওয়া চলমান এই ছুটি কয়েক ধাপে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত। বাতিল করা হয়েছে এইচএসসি, পিইসি, জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

কীভাবে হবে ভর্তি পরীক্ষা? এই নিয়ে জল্পনা দীর্ঘদিনের। অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে এসেছিলেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলররা (ভিসি)। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন তারা।

এরপর স্বশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২০২১ সাল থেকে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার বিষয়ে একমত হয় ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্বদ্যিালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্বদ্যিালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এই গুচ্ছের অধীনে মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান এ তিনটি বিষয়বস্তুর ওপর পরীক্ষা নেয়া হবে। এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না লিখিত পরীক্ষা। পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ)। বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করবে। সেইসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলের ওপর নম্বরও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করবে।

অর্থাৎ একজন ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী একটি পরীক্ষা দিয়েই যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নিজ বিভাগের পাশাপাশি অন্য বিভাগভুক্ত বিষয়েও ভর্তি হওয়া যাবে। সেভাবেই বিষয়ভিত্তিক আসন রাখা হবে। তবে ভর্তি পরীক্ষা কবে হবে সেটি নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে তিনদিনে তিনটি পরীক্ষা নেয়া হবে। সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র থাকবে। শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামতো পরীক্ষাকেন্দ্র পছন্দ করতে পারবেন।

শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয়বার (২০১৯ ও ২০২০) পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেয়া শিক্ষার্থীদের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেবে সেটি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করবে।

যারা ২০১৯ এবং ২০২০ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করবেন তারাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে মানবিক বিভাগের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম মোট জিপিএ-৬ থাকতে হবে। তবে যেকোনো পরীক্ষায় জিপিএ-৩ এর কম হলে হবে না। বাণিজ্যে বিভাগের জন্য ওই দুই পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৬ দশমিক ৫ থাকতে হবে। এখানেও কোনো পরীক্ষায় জিপিএ-৩ এর নিচে থাকলে হবে না। আর বিজ্ঞানে দুই পরীক্ষায় ন্যূনতম মোট জিপিএ-৭ থাকতে হবে। এখানেও কোনো পরীক্ষায় জিপিএ-৩’র নিচে থাকলে আবেদন করা যাবে না।

মানবিক বিভাগের পরীক্ষা হবে বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ এবং আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। ব্যবসায় শিক্ষায় (বাণিজ্য) হিসাববিজ্ঞান (২৫ নম্বর), ব্যবস্থাপনা (২৫ নম্বর), ভাষা ( ২৫ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১৩ ও ইংরেজিতে ১২ নম্বর) এবং আইসিটি (২৫ নম্বর) বিষয়ে পরীক্ষা হবে। আর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ভাষা (২০ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১০ ও ইংরেজিতে ১০ নম্বর), রসায়ন (২০ নম্বর), পদার্থ (২০ নম্বর) এবং আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞানের মধ্যে যেকোনো দু’টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। যার প্রতিটির নম্বর হবে ২০ করে।

আগের মতো গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। আর সেই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আগের মতো ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি করাবেন শিক্ষার্থী।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার বিষয়ে একমত হয়েছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (রুয়েট)। তবে এরপর তিন বিশ্ববিদ্যালয় একমত হলেও সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে বুয়েট। তবে তিন ভাইস চ্যান্সেলর একমত হয়ে জানিয়েছেন বুয়েট’র জন্য দরজা খোলা রয়েছে। তারা চাইলেই যোগ দিতে পারেন।

তবে এই তালিকায় নেই চার স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। চার বিশ্ববিদ্যালয়ই জানিয়েছে পূর্বের মতো পরীক্ষা নেয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের। ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হবে এমসিকিউ ও ৪০ নম্বরের বর্ণনামূলক। আর ২০ নম্বর সমবণ্টন হবে এসএসসি ও এইচএসসি ফলে। আর বাকি তিন বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে হবে- না জানালেও এইচএসসি’র ফলের পর জানানো হবে বলে জানানো হয়।