বাহারি দেয়াল চিত্রে সেজেছে জাবি ক্যাম্পাসের দেয়াল গুলো


Jahangirnagar | Published: 2021-05-07 21:08:02 BdST | Updated: 2021-06-23 04:58:10 BdST

সবুজের বুক চিরে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লাল ইটের উঁচু নিচু দেয়াল গুলো। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম লগ্নে দেয়াল গুলো হারিয়েছে তার আপন রুপ আপন সত্তা। মরীচিকাময় দেয়াল গুলো নতুন রূপে সাজবে বলে প্রহর গুনছে। গ্রীষ্মের দাবদাহ আর কোরোনার অশুভ ছায়ায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যে যেন ভাটা পড়েছে।

প্রকৃতি তার আপন রুপ গুটিয়ে নিয়েছে ঠিকই তবে জেগে উঠেছে মানব কৃত্রিমতা। রং তুলি হাতে নিয়ে যোদ্ধার বেশে বেড়িয়ে পড়েছে একদল তারুণ্য নিজেদের কল্পনা আর ইচ্ছা শক্তির মিশ্রন ঘটাতে। তারা দায়িত্ব নিয়েছে ক্যাম্পাসকে সাজানোর। লোকজ নকশা আর বাংলা সাহিত্যের আদলে রাঙাতে শুরু করলো একেরপর এক দেয়াল। ক্যাম্পাসের মূল ফটক থেকে শুরু করে প্রতিটি দন্ডায়মান যাত্রীছাউনির

ফাঁকা দেয়াল গুলোতে জায়গা করে নিল ঘনাদা ,টেনিদা আর ফেলুদার বাহারি চিত্রকর্ম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত টিএসসির ভেতরের দেয়াল গুলোতে জায়গা হলো সং অব দ্য সী, আর মাই নেইবর তোতোরোর মতো জগত বিখ্যাত অ্যানিমেশন মুভির বাহারি চিত্রকর্ম। মনোমুগ্ধকর চিত্রকর্মগুলো সত্যি মন কেড়েছে সবার।

.

অনেক তো হলো লোকজ নকশা আর বাংলা সাহিত্যের রং খেলার যুদ্ধ । ক্যাম্পাসের দেয়াল গুলো এবার নতুন কোন প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াচ্ছে। চিত্র শীল্পীরাও আটঘাট বেঁধেই নেমেছে রং তুলির যুদ্ধে। এবার এটিএম শামসুজ্জামান, হুমায়ূন ফরীদি, দিলদারের চিত্রকর্ম ছাপানো হলো বিজনেস ফ্যাকাল্টির নিকটবর্তী বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারের জন্য ব্যবহৃত ভবনের দেয়ালে। এরা হলেন বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনের সেরা তিন কিংবদন্তি যারা দীর্ঘদিন মানুষকে বিনোদিত করেছেন। ভবনের চার দেয়াল জুড়ে ফুটে উঠেছে কিংবদন্তিদের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। চমৎকার সব দৃশ্যপট গুলো ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে শতগুণে বৃদ্ধি করেছে।

রাতের অন্ধকারে লাল, সাদা,কালো ও হলুদ বর্ণের চিত্রকর্ম গুলো যেন ঝিকিমিকি সাজে সেজে ওঠে। যা দেখতে ও উপভোগ করতে প্রতিদিনই ক্যাম্পাস সংলগ্ন পর্যটকরা ভীর জমাচ্ছেন। কেউ বা ক্যামেরা বন্দি করে রাখছেন সেই বিশেষ মুহূর্ত গুলো। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন পেয়েছে নতুন সৌন্দর্য নতুন প্রাণ। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছে না। আর তাই তো বাড়িতে বসেই ক্যামেরা বন্দি ছবি গুলো দেখে উপভোগ করছেন এবং ভালোবাসার ক্যাম্পাস সম্পর্কে নিজেদের অনুভূতি গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে প্রকাশ করছেন।

ইমন ইসলাম,
লেখক: শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয