ঢাকার উন্নয়ন সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে: বুয়েট উপাচার্য


BUET Correspondent | Published: 2022-06-22 20:46:41 BdST | Updated: 2022-07-04 22:22:29 BdST

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেছেন, দেশের সব উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অবদান রাখছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে সমানতালে ভূমিকা রেখেছে। তবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ভূমিকায় এ সেতু বাস্তবে রূপ পেয়েছে।

বুয়েট উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু করছেন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। একটি সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন বলেই আজ পদ্মা সেতু রূপ পেয়েছে। উনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে। ঢাকার যে উন্নয়ন হচ্ছে তা সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে এবং ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বুয়েট সবসময় অবদান রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

বুধবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে বুয়েটের ভূমিকা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর।

বুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন, আলোচক হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন বলেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ পদ্মা সেতু নির্মাণে ১ হাজার ২০০ প্রকৌশলী এবং ২০ হাজার কর্মচারী কাজ করেছেন। এ সেতু আমাদের সাহসের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা জাতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। ৭০এর নির্বাচনে জাতিগত ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। পদ্মা সেতু সেই জাতিগত ঐক্যবদ্ধ থাকার মতো প্ল্যাটফর্ম। দেশের ৭২ শতাংশের বেশি মানুষ পদ্মা সেতুর সঙ্গে থাকবে। পদ্মা সেতু আমাদের চিন্তা ও মননে সেতুবন্ধন তৈরি করবে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন টর্নেডো ছাড়া কোনো বাধা জনস্রোত থামাতে পারবে না।

 

আলোচকরা পদ্মা সেতু নির্মাণে বুয়েটের যেসব প্রকৌশলী অবদান রেখেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য যে নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়। ২০১৪ সালে যে স্বপ্নযাত্রার শুরু হয় আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে সে মধুর স্বপ্নযাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একইসঙ্গে বক্তারা পদ্মা সেতু নির্মাণে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, অধ্যাপক ড. এম এম শফি উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আলমগীর মুজিবুল হক, অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতসহ অন্যান্য বুয়েটিয়ানদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

আলোচনা শেষে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীসহ ১৫ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।