প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ ৭ দাবিতে জাবি ছাত্রীদের বিক্ষোভ


jun correspondent | Published: 2022-08-06 09:43:06 BdST | Updated: 2022-10-05 18:51:26 BdST

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাহিদ হকের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রীরা। ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা হলের সামনে বিক্ষোভ করেন।

শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হলো—নতুন ক্যান্টিন চালু, ডাইনিংয়ের খাবারের মান বাড়ানো, হল সংস্কারের নামে দীর্ঘসূত্রিতার দ্রুত অবসান ও সংস্কার কার্যক্রম যথাযথ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা, নতুন নতুন নিয়মের নামে ছাত্রীদের হয়রানি বন্ধ, হল পূর্ণরূপে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা ও রিডিং রুম নির্মাণ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবারের বিষয়ে বেশ কয়েকবার হল সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা আগ্রহ প্রকাশ করেননি। শিক্ষার্থীদের যেকোনও কাজে প্রাধ্যক্ষকে পাওয়া যায় না। এছাড়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রাধ্যক্ষকের মোবাইল ফোন করলে কল কেটে দিয়ে তিনি ব্লক করে দেন।

তারা আরও জানান, ঈদুল আজহার বন্ধের পর নওয়াব হলে কালু মিয়া নামে এক ব্যক্তি হল প্রশাসনের নিয়োগের ভিত্তিতে নতুন ক্যান্টিন চালু করেন। প্রথম দিকে ক্যান্টিনে খাবারের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করায় শিক্ষার্থীরা সাধারণ সভায় খাবারের দাম কমানোর প্রস্তাব দেন। পরে খাবারের দাম কমানো হলে ক্যান্টিন মালিক ছাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা শুরু করেন।

এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী সুলতানা আফরিন টুম্পা বলেন, ‌‘এর আগে দুই হল থেকে বিতারিত কালুর ক্যান্টিনকে আমাদের হলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিন এতটাই অপরিষ্কার থাকে যে, বসে খাবার খাওয়ার মতো পরিবেশ নেই। ক্যান্টিনের বিষয়ে বেশ কয়েকবার শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেও কোনও লাভ হয়নি। আমাদের কোনও সমস্যাতেই কখনও প্রাধ্যক্ষ সামনে আসেননি। তাকে কখনও আমাদের প্রয়োজনে হলে পাওয়া যায় না।’

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রাবণী আক্তার বলেন, ‘নতুন নিয়োগ পাওয়া ক্যান্টিন মালিকের মেয়ে সুইটির আচরণ খুবই খারাপ। তিনি তুই-তুকারি করে কথা বলেন। এছাড়া হলের সংস্কার কাজে দীর্ঘসূত্রিতার জন্য শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রাধ্যক্ষকে আমরা হলে পাই না।’

হলের ওয়ার্ডেন ও পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দাবিগুলো সম্পর্কে আমরা কিছুদিন আগে অবগত হয়েছি। শুধু তিন মাসের জন্য হলের নতুন ক্যান্টিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর ক্যান্টিন কর্মচারীর খারাপ আচরণের কথা আজই জানানো হয়েছে।’

রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণ হবে এমন সিদ্ধান্তই আমরা নেবো। আশা করি শিক্ষার্থীরাও তাদের ভালোটাই বুঝবে।’ এরপর তার আশ্বাসে হলে ফিরে যান ছাত্রীরা।

উল্লেখ্য, পচা খাবার পরিবেশন করার অভিযোগে কালুর ক্যান্টিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হল ও ফজিলাতুন্নেছা হলের ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়।