রাবিতে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন


RU Correspondent | Published: 2023-03-13 23:49:45 BdST | Updated: 2024-04-14 14:04:31 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অভ্যন্তরে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে মাইকিং করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের চলাচলের ক্ষেত্রেও দেখাতে হবে আইডি কার্ড। সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার।

এ সময় তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে। আজ ক্যাম্পাসে মাইকিং করে বহিরাগত প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। সন্ধ্যার পর থেকে কোনো বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের চলাচলের ক্ষেত্রেও তাদের আইডি কার্ড দেখাতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে আইডি কার্ড সঙ্গে নিয়ে চলাচল করার পরামর্শ দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত গেট থাকার এমন সমস্যাগুলো সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা গেটের সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।

গতকালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও আগুন জ্বালিয়ে রেললাইন অবরোধের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, প্রথমে আমার শিক্ষার্থীরা অবরোধ করলেও পরে আর তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পরে বহিরাগতরা এসে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। ফলে আন্দোলন বড় আকার ধারণ করে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছিলাম। এখন কমিটির আরও দুজন সদস্য বাড়িয়েছি। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি সব বিষয় খুঁটিয়ে দেখবে এবং প্রতিবেদন জমা দেবে। আমরা ইতোমধ্যে অজ্ঞাতনামা ৫০০ জনের নামে মামলা করেছি।

অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা যারা ক্যাম্পাসের বাহিরে অবস্থান করছেন তাদের নিরাপত্তার জন্য মেস মালিক সভাপতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করবো। তারা যেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা রয়েছে। তারা যেকোনো জায়গায় ভিডিও ধারণ করতে পারেন। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

এর আগে গত শনিবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় বাসের সিটে নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জের ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে শতাধিক শিক্ষার্থী এখনো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি আছেন।