রাবিতে বাড়ছে জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব


RU Correspondent | Published: 2024-02-24 13:06:36 BdST | Updated: 2024-04-22 06:14:45 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বেড়েই চলেছে জন্ডিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত একমাসে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্ডিস শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এসময় দৈনিক আক্রান্তের হার ৭-৮ জন। আর জন্ডিস আক্রান্তের দুই তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষার্থী থাকেন মেসে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব স্থান শনাক্ত করার জন্য আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকেন, সেই তথ্য সংরক্ষণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র। ০৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ কার্যদিবসের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এই ১১ দিনে ৪৬৩ জনের পরীক্ষা করে জন্ডিস শনাক্ত হয়েছে ৮৯ জনের। এর মধ্যে ৬৭ জন ছাত্রাবাসে এবং ২২ জন হলে থাকেন। এই হিসেবে জন্ডিস আক্রান্ত ৭৫ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে এবং প্রায় ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকেন।

তবে, গত সপ্তাহের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, হলে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আক্রান্তের হারও বেড়েছে। এসময় ৩৫৩ জনের পরীক্ষা করে ৬২ জনের জন্ডিস শনাক্ত হয়েছে। এদিকে জন্ডিস সংক্রমণরোধে গত ৭ ফেব্রুয়ারি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জীববিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা এবং ফার্মেসী বিভাগের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জন্ডিস সংক্রমণ রোধে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, ক্যাম্পাসে জন্ডিস সংক্রমণ রোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালানো, আবাসিক হল, ছাত্রাবাস এবং ক্যাম্পাসে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ইত্যাদি। এদিন একই বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে সভা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানানো হয়, ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে অধিকতর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরেও জন্ডিস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, জন্ডিসের জীবাণু মূলত অস্বাস্থ্যকর পানি ও খাবার থেকে ছড়ায়। আমরাও দেখেছি যে, জন্ডিস আক্রান্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে থাকে এবং তারা সেখানকার খাবার ও পানি খায়। তার মানে, ক্যাম্পাসের বাইরের খাবার ও পানি তুলনামূলক বেশি সমস্যাযুক্ত। এখানে শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্য হল ও বিভাগ থেকে লিফলেট বিতরণ করতে নির্দেশনা দিয়েছি। এখন হল ও বিভাগগুলোকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও আত্মসচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, আবার আমাদের হলের যেসব শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরের খাবার খায়, তাদেরও খেয়াল রাখতে হবে যে, সেই দোকানের খাবার ও পানি ভালো কিনা। আমরা সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তাদেরও অনুরোধ করেছি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। ওনারা একটা অভিযানও চালিয়েছেন। আমরা ফার্মেসি বিভাগের মাধ্যমে সচেতনতামূলক র‌্যালি এবং একটা সেমিনার করেছি। এখন, আত্মসচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

জন্ডিস প্রতিরোধের বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. তবিবুর রহমান শেখ বলেন, বিশুদ্ধ পানি পান করা, সঠিকভাবে রান্না করা এবং পরিচ্ছন্নভাবে পরিবেশিত স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। হেপাটাইটিস এ সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তাই, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করায় শ্রেয়। এটি প্রতিরোধ করার সবচেয়ে নিভরর্যোগ্য উপায় হলো টিকা গ্রহণ।