মৃত পাখির মমি তবুও যেন জীবিত


Shoeb Shuvro | Published: 2024-02-27 15:45:56 BdST | Updated: 2024-04-22 05:41:59 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দিনব্যাপী পাখি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ‘পাখি প্রকৃতির অংশ ও আনন্দের সঙ্গী, তাদের বাঁচতে দিন’ স্লোগানে সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এ মেলা শুরু হয়। বার্ড কনজারভেশন ক্লাবের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ ও ভ্যালেন্ট টেক লিমিটেডের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়।

মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে মৃত পাখির ‘মমি’। শুকনো গাছের ডালে বসিয়ে সেগুলো সাজানো হয়েছে টেবিলের ওপর। এক পলক দেখে বোঝার উপায় নেই যে পাখিগুলো জীবিত নাকি মৃত। তুর্কিবাজ, টিয়া, লক্ষ্মীপেঁচা, গরিয়াল মাছরাঙা, পাতি তিলি হাঁস, ডোরা কাঠবিড়ালি, কোয়েল, পাঁতি কাক, নিশি বক, বালি হাঁস, চোখাচোখি, সাতভাই, নিশিবক, খয়রা চখাচখি ও ছোট পানকৌরিসহ রয়েছে ১৮টি মৃত পাখির মমি। এগুলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মেমোরিয়াল জাদুঘর’ থেকে আনা।

আয়োজকরা জানান, ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখিমেলার আয়োজন করা হয়। আগে সেটি শুধু আলোকচিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গত বছর থেকে মৃত পাখির মমি প্রদর্শন করা শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে ক্যামেরায় ধারণ করা ৬০টিরও বেশি ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে এবারের মেলায়। সাধারণত পাখি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও তাদের প্রতি মানুষের যেন ভালোবাসা জেগে ওঠে, সেই লক্ষ্যে এই পাখিমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া পাখি মেলার মূল আকর্ষণ ছিল স্কুলের বাচ্চাদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ক্যাম্পাসের আশেপাশের বিভিন্ন স্কুলের নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। লম্বা সাদা কাগজে তারা ফুটিয়ে তুলে টিয়া, মাছরাঙা, বক, শালিক, ময়নাসহ বিভিন্ন পাখির ছবি। প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। পাখি দেখার প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলায় বিভিন্ন পাখির শতাধিক ফটোফ্রেম এবং স্টাফিং করা ৩০টি পাখি দেখানো হচ্ছে। মূলত পাখি সম্পর্কে জানানো এবং পরিবেশে পাখির গুরুত্ব তুলে ধরতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের মধ্যে পাখির চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।

বার্ড কনজারভেশন ক্লাবের সদস্য ও রাজী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ডিজিএম হাসনাত রনি বলেন, প্রকৃতি থেকে পাখি কমে যাচ্ছে। শিশুরা পাখি চিনতে পারছে না, পাখি সম্পর্কে জানতে পারছে না তাই পাখি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাখি, তাদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পাঁচটি টিম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যারা যত বেশি পাখি চিনতে পারবে তাদের মধ্যে পুরস্কার দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদুর রহমান ফাহিম বলেন, পাখিগুলো দেখে বুঝার উপায় নেই যে এগুলো আসলেই মমি হয়ে সাজানো। এমন অনেক পাখি রয়েছে যেগুলোর নামও আগে জানতাম না। মেলায় বিলুপ্তপ্রায় পাখিগুলোকে মমি হিসেবে উপস্থাপন করায় পাখি রক্ষায় আমাদের সচেতনতা বাড়বে। নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ উদ্যোগ, আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই।

মেলার সার্বিক আয়োজনের ব্যাপারে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও মেলায় আয়োজকদের একজন ড. সালেহ রেজা বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে পাখি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা ২০১০ সালে বার্ড কনজারভেশন ক্লাব প্রতিষ্ঠা করি। তারপর থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন পাখির ছবি দিয়ে আলোকচিত্রী প্রদর্শনী করে থাকতাম। গত দুই বছর ধরে এমন মেলার আয়োজন করে আসছি। এতে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যে আমরা পাখির রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।