বইমেলায় আরিফ মঈনুদ্দীনের 'ডিজিটাল ফরেনসিক এন্ড ইনভেস্টিগেশন'


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | Published: 2023-02-19 08:38:55 BdST | Updated: 2024-03-04 07:03:49 BdST

বইমেলায় এসেছে আরিফ মঈনুদ্দীন এর 'ডিজিটাল ফরেনসিক এন্ড ইনভেস্টিগেশন' বই ।দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পাদন এবং ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস সমাজের সর্বত্র ব্যবহার হচ্ছে। এই ডিভাইসগুলির মধ্যে রয়েছে ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, ডিজিটাল ক্যামেরা এবং অন্যান্য গেজেটস। এইসব ডিজিটাল ডিভাইস বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের জন্য এবং অন্য লোকেদের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হয়।

দুর্ভাগ্যবশত, সাইবার অপরাধীরা অপরাধ করার জন্য এইসব ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে থাকে। কারণ এই ডিভাইসগুলি মানুষকে নামে বেনামে অপরাধ করতে সহযোগিতা করে। এইসব ডিভাইস সমূহের কিভাবে ফরেনসিক করে আলামত খুঁজে বের করতে হয় তা অনেকই জানেন না। অপরাধ করার পর অপরাধীর সেই ডিভাইস কিভাবে ফরেনসিক করবেন কিভাবে অপরাধ সংক্রান্ত আলামত খুঁজবেন তা নিয়ে বইটি লিখেছেন ডিকোডস ল্যাব লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন।।

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন এর ৩য় বই "ডিজিটাল ফরেনসিক এন্ড ইনভেস্টিগেশন" বইটি প্রকাশিত হয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অদম্য প্রকাশ থেকে। বইমেলায় স্টল নাম্বার ৪৪৫. এছাড়া বইটি অনলাইনে রকমারি তেও পাওয়া যাচ্ছে।শনিবার বিকেল ৪ টায় অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ প্রাঙ্গণে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
যারা সাইবার অপরাধ তদন্ত বিষয়ক কাজ করেন এবং এই বিষয়ে জানতে ও পড়তে আগ্রহী বইটি তাদের জন্য গুরুত্ব বহন করবে।

এর আগে এই লেখকের আরও দুইটি বই বের হয়েছে। সাইবার হ্যাকিং এন্ড ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি । 

কে এই আরিফ মঈনুদ্দীন 

স্কুল ও কলেজে মানবিক বিভাগে পড়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস ও মাস্টার্স অব আর্টস ডিগ্রি নিই ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে। সবাই যখন বিসিএসের পড়া নিয়ে ব্যস্ত, আমি দেখলাম, আমি গণিতে কিছুটা দুর্বল। বিকল্প হিসেবে মার্চেন্ডাইজিং ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ খুঁজি। কম্পিউটার ব্যবহার করতে গিয়ে তখন হ্যাকিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

কম্পিউটারবিজ্ঞান বা প্রযুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে না পড়ার কারণে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমার যেহেতু পাটিগণিতে দুর্বলতা ছিল, তাই অনেক কিছু প্রথমে বুঝতাম না। পিএইচপি আর প্রোগ্রামিং ভাষা শেখার সময় দেখলাম, এখানে গণিতের অনেক কিছু যুক্ত। না বুঝলেও ধীরে ধীরে সময় দিয়েছি শেখার জন্য।

ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ফান্ডের আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে এক বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের সুযোগ নিই। ক্যারিয়ার শুরু করি ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে, একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে। পরে তথ্যনিরাপত্তা নিয়ে নানা বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার মাধ্যমে শেখা শুরু করি। বাংলাদেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্যনিরাপত্তা নিয়ে প্রশিক্ষকের কাজ করেছি। আমি এখন নতুন প্রজন্মের তরুণদের সাইবার সিকিউরিটিতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ নিয়ে ডিকোডস ল্যাব লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেছি। এ ছাড়া অনলাইনভিত্তিক ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি, নাম সাইবারস্কিলবিডি ডটকম। এখান থেকে সহজে ও কম খরচে যে কেউ কোর্স করে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবেন।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল ফরেনসিকের ওপর সিলেবাস প্রণয়ন ও মানদণ্ড নির্ধারণ কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছি। শুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজের সময় অনেকেই একটু অবাক হতেন। মানবিক থেকে পড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে পারব কি না, এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন। বড় বড় কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে আমি নিজেকে প্রমাণ করেছি।

সূত্র প্রথম আলো 

 

//