‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’র নেতৃত্বে আখতার-নাহিদ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | Published: 2023-10-04 23:26:24 BdST | Updated: 2024-05-25 14:40:07 BdST

অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জের ধরে পদত্যাগকারী একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি নামে নতুন একটি নির্দলীয় ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন কে আহ্বায়ক এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা মো. নাহিদ ইসলাম কে সদস্য সচিব করে সংগঠনের ২১ সদস্য বিশিষ্ট‌ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে ।একই সাথে আগামী ৩ মাসের জন্য ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ ৪ অক্টোবর (২০২৩) বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই ছাত্র সংগঠনটির নাম ঘোষণা করেন আয়োজকরা।

সংবাদ সম্মেলনটি সকাল এগারোটায় মধুর ক্যানটিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে আগে থেকেই ছাত্রলীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর অবস্থান করেমধুর ক্যান্টিনের টেবিল গুলো দখল নেন। এ সময় তারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানের পাশাপাশি নৌকা মার্কার সমর্থনে শ্লোগান দিতে থাকে। এই আধঘন্টা পর কারণে এটি ডাকসু ভবনের সামনে করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান নাহিদ ইসলাম। এতে বলা হয়, ‘সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের মনে হয়েছে যে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন ছাত্ররাজনীতি দরকার, যা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে; একটি নির্দলীয় নতুন ছাত্রসংগঠন, যার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত ও সচেতন একটি রাজনৈতিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব’।

সংগঠনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন আখতার হোসেন। সংগঠনের মূলনীতি: ‘শিক্ষা, শক্তি ও মুক্তি’।

গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১। শিক্ষা ব্যবস্থায় পুনর্গঠন: চিন্তা বিনির্মাণ, জাতীয় চৈতন্য নির্মাণ, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য সংগঠন কাজ করবে।

২। রাজনৈতিক ব্যক্তি, পরিসর ও সংস্কৃতি নির্মাণ: দেশের রাজনৈতিক পরিসর ও সংস্কৃতি অকার্যকর হয়ে পরেছে যার ফলস্বরূপ দেশে নেমে এসেছে রাজনৈতিক দুঃশাসন আর ক্ষমতার স্বৈরাচারি ব্যবহার। রাজনৈতিক পরিসর ও সংস্কৃতি নির্মাণের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও নেতৃত্ব তৈরিতে কাজ করবে।

৩। শিক্ষার্থী কল্যাণ: ছাত্রসংগঠন হিসেবে সর্বদা ছাত্র কল্যাণমুখী চিন্তা এবং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, আর্থিক, সামাজিক ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করবে।

৪। ছাত্র-নাগরিক রাজনীতি নির্মাণ: নাগরিক সমাজের সাথে ছাত্রসমাজের রাজনৈতিক সংযোগ স্থাপন করা। নাগরিক ও ছাত্রসমাজের স্বার্থ ও মুক্তি চিন্তার অভিন্নতা ও পারস্পরিকতাকে সংরক্ষণ করবে।

৫। রাষ্ট্র-রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন: সভ্যতাগত রাষ্ট্র বিনির্মান, সমন্বয়সুখী জাতীয়তাবাদের প্রসার ও জাতীয় সংহতি রক্ষা করা, রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী তৈরি করা, কম্যুনিটি কেন্দ্রীক চিন্তা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা, জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার গণতন্ত্রায়ণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র-রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনে ছাত্র সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগঠন কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির প্রথম আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন লেখক তুহিন খান। ২১ সদস্যের এই কমিটি আহ্বায়ক আখতার হোসেন, সদস্যসচিব নাহিদ ইসলাম।পরে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৩৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন আখতার। 

এতে আহ্বায়ক হয়েছেন আসিফ মাহমুদ, সদস্যসচিব আবু বাকের মজুমদার।

আত্মপ্রকাশের ক্যাম্পাসে স্বাগত মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে কলাভবনের শ্যাডো অতিক্রম করে কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশ দিয়ে টিএসসিতে শেষ হয়।

গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির নবঘোষিত কেন্দ্রীয়  আহ্বায়ক , ভিপি নুরুল হকের একসময়ের সহযোগী আখতার হোসেন বিগত ডাকসু নির্বাচনে সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের ছাত্র ছিলেন। অপরদিকে সদস্যসচিব  ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক কর্মী মো. নাহিদ ইসলাম বিগত ডাকসু নির্বাচনে সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের ছাত্র ছিলেন।

নব ঘোষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়ক

আসিফ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির অভিযোগ তুলে আসিফসহ ছাত্র অধিকারের একদল নেতা-কর্মী কয়েক মাস আগে সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন।পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগ করেন আখতার হোসেন।