শাবির বাসে ‘বাদুড়ঝোলা’ হয়ে যাতায়াত করেন শিক্ষার্থীরা


Desk report | Published: 2023-03-10 00:43:18 BdST | Updated: 2023-10-05 04:29:31 BdST

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসের সংখ্যা কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। আসনের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়েই চলাচল করছে বাসগুলো। প্রতিনিয়তই যেন ‘বাদুড়ঝোলা’ হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় শিক্ষার্থীদের। তবে এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে জানা যায়, চালকের সংখ্যা কম থাকায় পর্যাপ্ত বাস নির্দিষ্ট রুটে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির কারণে বাসের সংখ্যা কমানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

 

এদিকে পর্যাপ্ত বাস না থাকায় নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েই গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে ভোগান্তি কমাতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভোগান্তি কমাতে পরিবহন প্রশাসক বরাবর একটি প্রস্তাবনাও পেশ করা হয়েছে। এতে যেসব রুটে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বেশি সেসব রুটে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়- চাহিদানুযায়ী বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের বাসে নাইওরপুল, লাক্কাতুরা এবং টিলাগড় রুটে ন্যূনতম ১টি এবং মদিনা মার্কেট পর্যন্ত আরও ২টি থেকে ৩টি বাস বাড়ানো প্রয়োজন। এতে করে বিকেল ৫টা ১০ এর বাসে শিক্ষার্থীদের চাপ কমবে।

এছাড়াও বিকেল ৫টা ১০মিনিটে শহরের নাইওরপুল, লাক্কাতুরা এবং টিলাগড় রুটে অন্তত ২টি করে বাস বাড়ানো প্রয়োজন এবং সে সময়ে মদিনা মার্কেট পর্যন্ত আরো ২টি থেকে ৩টি বাস বাড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাসের সংখ্যা কম হলে সাময়িক সময়ের জন্য বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। এছাড়াও রাত ৮টা ১০ মিনিটের বাসে শিক্ষার্থীদের চাহিদা বেশি হওয়ায় সেখানে মোট ৩টি বাস চালু করার কথা বলছেন তারা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার। এর প্রায় অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। কিন্তু এই বিশাল শিক্ষার্থীদের বিপরীতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রছাত্রী পরিবহনের জন্য বাসের সংখ্যা মাত্র ৮টি।

ক্যাম্পাস থেকে শহরে যাতায়াতে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে মোট বাসের সংখ্যা ৪টি এবং বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের মোট বাসের সংখ্যা ৮টি চলার কথা থাকলেও দেখা যায় সে সময়ে প্রায়ই সে অনুযায়ী বাস চলছে না। বিভিন্ন রুটে বাস কম চলায় দাঁড়িয়ে, বাসের গেটে ঝুলে ঝুলে ঝুঁকি নিয়েই গন্তব্যে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও রাত ৮টা ১০ মিনিটে ক্যাম্পাস থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে বাস ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই সময়ে মাত্র ১টি বাস ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাস থেকে শহরে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

বাসে ভোগান্তির কথা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নিষাদ নাঈম বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বাস মাত্র ১০ থেকে ১১টি। এর মধ্যে একটি বাস নষ্ট হয়ে পড়ে আছেঅ আবার ড্রাইভার সংকটে আরও দুটি বাস চলছে না। এমনিতেই আমাদের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাসের সংখ্যা অপ্রতুল। এদিকে যেন প্রশাসনের কোনো মনযোগ নেই। আমরা অতি দ্রুত বাস সংকটের সমাধান চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী রহমত উল্লাহ বলেন, আমাদের যাতায়াতের জন্য বাস অনেক কম। প্রতিদিনই আমাদের বাসের দরজায় বাদুড়ঝোলা হয়ে যাতায়াত করতে হয়। বাসে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দাঁড়ানোর জায়গাও থাকে না। এছাড়া বাসে জায়গা না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে করে আমাদের অর্থ ও সময় দুই-ই নষ্ট হচ্ছে।

এছাড়াও বাসের ড্রাইভার এবং হেলপাররা প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন অনেক শিক্ষার্থী। তারা ঠিক স্থানে শিক্ষার্থী নামানো এবং মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের বাসে তোলেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, লোকবল কম হওয়ায় সব গাড়ি একসঙ্গে চলছে না। আমি নিজেও ব্যাপারটা খেয়াল করেছি। এর মধ্যে একটি বাস নষ্ট। তাছাড়া ড্রাইভার নিয়োগের জন্য যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির কারণে বাস কমানো হয়েছিল। তবে সেটার সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায় সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

//