পদ্মাসেতু : বাঙালির আত্মমর্যাদার বিজয়সৌধ!


Dhaka | Published: 2022-06-14 23:42:49 BdST | Updated: 2022-07-04 21:43:38 BdST

এক দশক পূর্বেও যা ছিলো নিছক ‘‘আষাঢ়ে গল্প’’; কিংবা, সুদূরপরাহত স্বপ্ন! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে আসন্ন আষাঢ় মাসে তা-ই হতে চলেছে কোটি বাঙালির স্বপ্নজয়ের অপরাজেয় বাস্তবতা! অর্থাৎ আগামী ২৫ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ; ১২ আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ তারিখে শুভ উদ্বোধন হতে চলেছে বাঙালি জাতির চির আরাধ্য স্বপ্নের প্রকল্প ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প’ । যা শুধুমাত্র একটি সেতুই নয় পদ্মাসেতু আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কাছে বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার বিজয়সৌধ স্বরূপ।

প্রসঙ্গত, দলমত নির্বিশেষে বাঙালি জাতির মনে রাখা উচিত যে, পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ খুব সহজ ছিলোনা! পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পথটি ছিলো বিএনপি জামায়াতের মদদপুষ্ট ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সুদ ব্যবসায়ি ড. ইউনুস গংদের দেশি-বিদেশি অজস্র ষড়যন্ত্রের বিষে ভারাক্রান্ত, ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার আর অপপ্রচারে বিদীর্ণ, বন্ধুর ও কন্টাকাকীর্ণ পথ! পরবর্তিতে কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংকেরই করা মামলার বিস্তারিত তদন্ত পরবর্তি প্রদত্ত রায়ে এসব নষ্ট রাজনীতির কদর্য চিত্র বিশ্ববাসির কাছে সুস্পষ্ট হয়। সত্য ও দেশপ্রেমের অবিনাশী মশাল হাতে সব ষড়যন্ত্রের দেয়াল বিদীর্ণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা শত সহস্র প্রতিবন্ধকতার গ্রেনেড বিছানো প্রতিকূল সেই পথে হাটার অদম্য দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন বলেই পদ্মাসেতু আজ দৃশ্যমান বাস্তবতা। আলোকিত আজ বাংলার প্রতিটি ঘর। যিনি ঘুচিয়ে দিয়েছেন নারী- পুরুষ আর গ্রাম্য-শহুরের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বকে। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার মহান স্থপতি মহাকালের মহানায়ক বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য জ্যেষ্ঠকন্যা কালজয়ী দার্শনিক, সফল সমাজ সংস্কারক ও প্রাগ্রসর রাজনীতিবিদ কোটি বাঙালির প্রাণের নেত্রী বিশ্বনেত্রী ক্রাউন জুয়েল দেশরত্ন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের ভয়াল ১৫ আগস্ট তারিখে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির চিরশত্রু কসাই ইয়াহিয়া ও কসাই টিক্কা খানদের কৃতদাস এদেশিয় গাদ্দারদের হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিলেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পিতা-মাতা তিন ভাই ও পরিবারের সকল সদস্যকে হারিয়ে প্রবাসে থাকায় সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বাঙালির স্বপ্নজয়ের প্রমিথিউস শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোটবোন শেখ রেহানা। সর্বহারা হয়ে দূরপ্রবাসে শত বঞ্চনা, নিষ্ঠুর অন্যায় ও অবিচারের গ্লানি নিয়ে পিতা হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে,নিজভূমে ফেরার বেদনার্ত আকুতি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছিলো আমাদের প্রাণের নেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর আদরের ছোটবোন শেখ রেহানাকে। পাকিস্তানি মদদপুষ্ট রক্তপিপাসু স্বৈরাচার শ্বাপদের হিংস্র থাবা থেকে বাঁচতে পিতা মুজিবের দুই কন্যাকে পরিচয় গোপন করে প্রবাসে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিলো। পিতা-মাতা, তিন ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাংস্কৃতিক উদ্যোক্তা ও ভিশনারি ক্রীড়া সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল ও তাঁর স্ত্রী জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এথলেট সুলতানা কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ জামাল ও তাঁর স্ত্রী রোজি জামাল এবং বড় আদরের ছোটভাই শেখ রাসেলসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন যিনি, তিনি শেখ হাসিনা। সব হারানোর চিরবেদনায় ভারাক্রান্ত শেখ হাসিনা ক্ষতবিক্ষত পাথরবিদ্ধ হৃদয় নিয়ে, সামরিক শ্বাপদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তারিখে ফিরে এসেছিলেন মহান পিতার পবিত্র রক্তস্নাত বাংলার মাটিতে। সেদিন বাংলার কোটি জনতা, বাংলার আকাশ বাতাস, আবহমান প্রতিবেশ অকৃত্রিম অনুরাগে আবাহন করেছিলো প্রাণের নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে। শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির সার্বিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামের সংশপ্তক হয়ে একাই লড়াই করে যাচ্ছেন জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের মহান লক্ষ্যের পথে। বাঙালি জাতির সামনে আজ স্বভাবশুদ্ধ হয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্নাত হয়ে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হবার সময় সমাসীন। ১৮ কোটি বাঙালিকে আজ দলমত নির্বিশেষে বাঙালির স্বপ্নজয়ের মহান প্রমিথিউস বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা’র পাশে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি জামাত চক্রের দেশি-বিদেশি বহুমুখী ষড়যন্ত্রপ্রকল্পকে পদদলিত করে শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করে চলেছেন বাঙালি জাতির স্বপ্নের প্রকল্প পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, ভুগর্ভস্থ কর্ণফুলী টানেল, স্যাটেলাইট, সারাদেশে দুইয়ের অধিক লেন বিশিষ্ট রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন নগরি কক্সবাজারকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা, সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিতকরণ, রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ অর্জন, নারী ও শিশু মৃত্যুহার রোধ, সেনিটেসন সুবিধা নিশ্চিতকরন, স্কুলশিক্ষার্থীদের ঝড়েপড়া রোধকল্পে বই ও বৃত্তিপ্রদানের পাশাপাশি নানামুখি সরকারি উদ্যোগ, দেশব্যাপি অসংখ্য বিশেষায়িত রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র (EPZ) নির্মাণ, ভারত ও মায়ানমার থেকে ন্যায্য সমুদ্রসীমার অধিকার আদায়, বহুকালের ছিটমহল সমস্যার সমাধান, ভারতের সাথে আন্তঃদেশিয় নদীসমূহের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের সামগ্রিক উদ্যোগ, পায়রা বন্দর, রূপপুরে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, ১টি বাড়ি ১টি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন, তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ও ভুমিহীন নাগরিকদের জন্য বিশ্বরেকর্ড সংখ্যক জমিসহ পাকাবাড়ি প্রদান প্রকল্পসহ বহুমুখী সব অভূতপূর্ব উন্নয়ন প্রকল্প।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে সচেতনভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, ১৯৭১ সালে নিরস্ত্র বাঙালি জাতির উপর গণহত্যা চালিয়ে এদেশকে শ্মশানে পরিণত করতে চেয়েছিলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের মদদপুষ্ট এদেশীয় গাদ্দারচক্র যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, আল বদর, আল শামস গোষ্ঠী(বর্তমান ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলাম)

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী জেনারেল ইয়াহিয়া খান গণমাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেছিলো যে, ‘আমাদের(পাকবাহিনীর) কোন বাঙালি মানুষ দরকার নেই, দরকার শুধু পূর্বপাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জমিটুকু।’(বাংলায় অনুবাদকৃত)

এছাড়াও, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখে মুক্তিবাহিনীর কাছে পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে ইয়াহিয়া খান তার আরেক বিবৃতিতে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে বলেছিলো যে, ‘এটা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাময়িক পরাজয়, অচিরেই এর প্রতিশোধ নেয়া হবে।’(অনুবাদকৃত)

নিরস্ত্র বাঙালি জাতির উপর গণহত্যার প্রধান নির্দেশদাতা কসাই জেনারেল ইয়াহিয়া খানের উপরোক্ত দুইটি বিবৃতি থেকেই বাঙালি জাতির প্রতি পাকিস্তানিদের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নির্দেশে বীর বাঙালি দামাল সন্তানেরা আধুনিক সমরাস্ত্রে সুসজ্জিত পাকবাহিনীকে প্রত্যাঘাত শুরু করলে পাকিস্তানি প্রশাসন উপলব্ধি করতে বাধ্য হয় যে তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত। পরাজয়ের গ্লানি আন্দাজ করতে পেরে এদেশে গণহত্যা পরিচালনায় পাকিস্তানি হানাদারদের নেতৃত্বদানকারী কসাই টিক্কা খান বাঙালি পুরুষদের গণহত্যা ও বাঙালি নারীদের গণধর্ষণ করে পাকিস্তানি বীজ রেখে যাওয়ার ঘৃণ্য পরকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। যাতে সেইসব পাকিস্তানি রক্তের বাহকেরা পরবর্তিকালে নিজেদের জিনগত স্বভাবের কারণে বাংলার মাটিতে থেকে নিজেদের মনে মগজে পাকিস্তানপ্রীতি বজায় রাখে! পাকিস্তানি হানাদার, যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের দোসর, বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির শত্রু বিএনপি জামায়াতের দালালরা প্রতিহিংসার বশবর্তি হয়ে ইতোপূর্বে বাঙালির স্বপ্নের প্রকল্প পদ্মাসেতুর পিলার লক্ষ্য করে বহুবার ভারী যানবাহন বহনকারী ফেরি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আঘাত করেছে। জাতীয় গণমাধ্যমের কল্যাণে সমগ্র জাতি যা ইতোপূর্বে প্রত্যক্ষ করেছেন।


বাংলাদেশের সচেতন জনগণ বহুকাল পূর্বেই অবগত হয়েছেন যে, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানের হীনউদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সুযোগ সুবিধার অপব্যবহার করে সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্টে সৃষ্টি হয়েছিলো বিএনপি নামক তথাকথিত রাজনৈতিক দলটি। মূলত ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট, ৩রা নভেম্বরে জাতীয় চার নেতাকে জেলখানায় নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ভেতর-বাইরের কুশিলবদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ইমেজ সংরক্ষণের বর্ম হিসেবে এই দলটিকে তৈরি করেছিলো মেজর জিয়াউর রহমান।

বিখ্যাত গ্যারিলা মুকিযোদ্ধা সিরু বাঙালি তাঁর লেখা ‘যুদ্ধের ময়দান থেকে মেজর জিয়ার পলায়ন’ বইতে উল্লেখ করেন, ‘‘ঠান্ডা মাথার খুনি মেজর জিয়া যুদ্ধচলাকালীন সময়ে যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো এবং সেসময় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানিদের অস্ত্র খালাসের পথ উন্মুক্ত করতে জিয়া নিজে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনগণের উপর গুলি ছুড়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলো।’’

এছাড়া, ১৯৭৫ পরবর্তী নিষ্ঠুর সময়ে চিরকালের জন্য এদেশের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর একসময়কার দুর্ধর্ষ গুপ্তচর অবৈধ জেনারেল জিয়ার আদেশে অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সামরিক বাহিনীর সদস্যকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকারীদের বিভিন্ন দূতাবাসে অবৈধভাবে চাকরি প্রদান করে পুরস্কৃত করেছিলো জিয়াউর রহমান। ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের আইনত বিচার প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে বিশ্বআইন অঙ্গনের ইতিহাসে ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে মুশতাক-জিয়া গংরা এবং তা বিশেষ আইন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে পবিত্র সংবিধানকে কলঙ্কিত করে খুনিজিয়া হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমান। সেই দিনটিতে হয়তো আইনের দেবি লেডি জাস্টিস অ্যাথিনা ও ন্যায় বিচারের প্রতীক থেমিস তাঁদের কালো কাপড়বাঁধা দু’চোখ অবমুক্ত করে অলক্ষ্যে অঝর অশ্রুধারায় সিক্ত হয়েছিলেন !

এরপর, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তারিখে সরকারি মদদে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজধানীর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু এভেন্যুতে ক্ষমতার চূড়ান্ত অমানবিক অপব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। সেদিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহার্য আর্জেস গ্রেনেডের আঘাতে হত্যা করা হয় মহিলা আওয়ামীলীগ সভানেত্রী আইভি রহমান সহ ২৪ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে। ২১ আগস্টের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী হামলায় পঙ্গুত্ববরণ করেন অসংখ্য আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা নিরীহ জনগণ। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করে একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা হামলা করে জনমানুষের মনে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিলো বিএনপি জামায়াত। পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে বাঙালি জাতিকে বৈশ্বিক লজ্জার মুখোমুখি দাড় করিয়েছিলো বাংলাদেশবিরোধী বিএনপি জামাতচক্র। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার পুত্র তারেক রহমান দ্বারা হাওয়াভবন ও খোয়াবভবন নামক শোষণতন্ত্র কায়েম করে এদেশকে লুটেপুটে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করার হীনউদ্দেশ্যে খাম্বা লিমিটেড কোং গঠন করা হয়েছিলো। সেসময় অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে রাষ্ট্রীয়ভাবে সারাদেশে তল্লাশি চালিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও আওয়ামীলীগ এর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করে খালেদা-নিযামী গং বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের নরঘাতক চক্র। ২০১৩ সালে বিএনপি জামাতের ধুতিয়াল মাহফুজ আনাম- ড.ইউনুস গংদের আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছিলো কোটি বাঙালির স্বপ্ন। বিশ্বব্যাংকের কাছে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে তারা বন্ধ করে দিয়েছিলো পদ্মাসেতু প্রকল্পে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ। কিন্তু মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রক্তের সুযোগ্য উত্তরাধিকার বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ক কোটি বাঙালির প্রাণের নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার একক দৃঢ়তায় আজ বাস্তবায়িত হয়েছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। আর এতেই প্রতিহিংসা ও পরশ্রীকাতরতায় জ্বলেপুড়ে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের দালাল বাঙালি জাতির চিরশত্রু বিএনপি জামাত চক্র। বাঙালি জাতিকে কিছুতেই যেনো সফল হতে দেবেনা পাকিস্তানের দোসর কসাই টিক্কা খানের রেখে যাওয়া অদ্ভূত এই মানবপ্রজাতি। তাই ওরা অব্যাহতভাবে বাংলার কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্পকে বাঁধাগ্রস্থ করেই ক্ষান্ত হয়নি! সর্বশেষ অপচেষ্টা হিসেবে নির্মাণাধীন পদ্মাসেতুর পিলারে অব্যাহতভাবে ফেরি দিয়ে আঘাত করতেও বাদ রাখেনি তারা! এদেশের তরুণ প্রজন্মের উচিত বিএনপি জামায়াত চক্রকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বর্জন করা! কেননা বিগত দিনগুলোতে আমরা দেখেছি যে তারা (বিএনপি জামাত) বাংলা ও বাঙালির কোনরূপ উন্নতি সহ্য করতে পারেননা! পদ্মাসেতু প্রকল্প ও করোনাকালে দ্রুত সময়ের মধ্যে কোভিড ১৯ ভ্যাক্সিন আমদানি করে দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখার মত ইতিবাচক উদ্যোগেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অযৌক্তিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া যেন তারই ইঙ্গিত বহন করে। তারই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে তারা এখন বাংলাদেশের সকল মেঘা প্রকল্পকে নস্যাৎ করতে বিভিন্নভাবে গুজব, প্রোপাগাণ্ডা ও অব্যাহতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বিশেষ করে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গসংগঠন ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহে বিশ্বাসঘাতকদের সহায়তায় অনুপ্রবেশকারি অন্যের জমি দখলকারী,ঋণখেলাপি ও মাদকব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকা এযুগের মুশতাকদের চিহ্নিত করে তাদের লাগাম টেনে ধরা সময়ের দাবি। কেননা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দলটি শ্যামল বাংলার পলিবিধৌত সোদামাটির উর্বর নির্যাস থেকে জন্ম নেয়া রাজনৈতিক দল। আওয়ামীলীগ, শ্যামল বাংলার ফসলের চাষীর রক্ত-শ্রম-ঘাম, লাখো পল্লীবালার আত্মত্যাগ, লাখো বীর শহীদ বাঙালি দামাল ছেলের বুকের তাজা রক্তের বলিদান, বাংলা মায়ের আজন্ম স্বাধীকার আদায়ের সুতীব্র প্রগাঢ় অনুভূতি থেকে বেড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল। এই দলের রাজনীতিকে দেশব্যাপি চাঙ্গা রাখতে কোন ধরনের হীনউদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারী অনুপ্রবেশকারীর প্রয়োজন নেই! আওয়ামীলীগের জন্য জীবনবাজী রাখা বাংলা মায়ের নির্লোভ পরহিতৈষী দামাল সন্তানরা এখন-ও বিলুপ্ত হয়ে যায়নি; যারা শুধুমাত্র সাংগঠনিক মূল্যায়ন ও প্রাপ্য সম্মানের কাঙাল । আওয়ামীলীগ’কে ধ্বংস করতে যারা দলীয় সুযোগ সুবিধার অপব্যবহার করে অনুপ্রবেশকারীদেরকে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরে অর্থ ও অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিনিময়ে পদায়ন করেছে তারাই মূলত এযুগের মুশতাকচক্র । এই মুশতাক চক্রকে অতিদ্রুত বিতাড়িত করে দলের ত্যাগী ও পিতা মুজিবের আদর্শিক দেশপ্রেমিক সন্তানদেরকে রাজনীতি অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া উচিত। সেজন্য জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পোড়খাওয়া আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তানদের মূল্যায়ন করার কোন বিকল্প নেই। সময়ের দাবি মিটিয়ে না চলতে পারলে বাংলার মাটিতে হাইব্রিড মুশতাকচক্রের ষড়যন্ত্রের নীল নকশা পুনরায় মঞ্চস্থ হবে। বাংলার মানুষকে পেছন থেকে টেনে ধরার পায়তারায় লিপ্ত পাকিস্তানের দালালচক্র এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বর্জন করার মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের মহান সংগ্রামকে সফল করা সম্ভব।

বাংলা ও বাঙালির চিরশত্রু পাকিস্তানের দোসরদের সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রাণের নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের এক অনবদ্য রোল মডেল, দেশের শিক্ষার হার বেড়েছে বহুগুণ, বছরের প্রথমদিনই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বরেকর্ড সংখ্যক নতুন পাঠ্যবই যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার অভূতপূর্ব অর্জন। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষার আলোয় আলোকিত। আজ শতভাগ বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছে মেট্রো শহর, প্রান্তিক গ্রাম থেকে শুরু করে সুদূর বিচ্ছিন্ন দ্বীপের গণমানুষ। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত বাংলার কোটি মানুষ এখন শিক্ষিত ও সচেতন হয়েছে । দেশ ও জাতির শত্রুরা এখন মিথ্যার বেসাতি খুলে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ক্ষমতার মোয়া আস্বাদনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বাংলাদেশবিরোধী শক্তি আর রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা, গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে অতিতের ন্যায় হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল করতে পারছেনা । তাই তাদের মদদপুষ্ট রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরের কতিপয় আমলা, চাকুরে, ব্যবসায়ীরা লুটপাট,ঋণখেলাপি, বিদেশে অর্থপাচার ও অবৈধ মজুদদারির মাধ্যমে শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারকে বিব্রত করার অশুভ-মিশনে নেমেছে। তাদের এই দেশবিরোধী প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে সাংস্কৃতিকভাবে জাগ্রত তারুণ্য ও দলের দুর্দিনের নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের কোন বিকল্প পথ নেই।

আলোর পথযাত্রী সচেতন শিক্ষিত নতুন প্রজন্মের প্রতি অনুরোধ, আপনারা বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের ইতিহাস এবং এদেশের সার্বিক বিকাশ/উন্নয়ন’কে বিঘ্নিতকারী এযুগের রাজাকারদের চিনে রাখুন, শেকড়সন্ধানি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাঙালি জাতির শত্রুদের চিহ্নিত করে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করুন।

পরিশেষে, জাতির পিতার অদম্য স্পর্ধার অমোঘ উচ্চারণকে প্রাণের অবলম্বন করে বলতে চাই, “শিক্ষিত সচেতন বীর বাঙালি ও তারুণ্যের অসীম প্রাণশক্তিতে বলিয়ান, অগ্রসরমান বাংলাদেশকে কেউ আর দাবায়া রাখতে পারবা না।”

লেখকঃঃ ইয়াসির আরাফাত তূর্য, সাংগঠনিক সম্পাদক-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ