চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগের ফোনালাপ ফাঁস


CU Correspondent | Published: 2022-08-07 12:15:51 BdST | Updated: 2022-10-05 18:10:21 BdST

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত মানিক চন্দ্র দাশের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রশাসন। শনিবার (০৬ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলাটি করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রহুল আমিন সবুজ। তিনি বলেন, মানিক চন্দ্র দাশের বিরুদ্ধে প্রতারণা আইনে মামলা করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি।

 

মামলার কপিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত নিজেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সেকশন অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে রেজিস্ট্রার, হিসাব নিয়ামক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে উচ্চমান সহকারী ও উপাচার্য দপ্তরে পিয়ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মাদারীপুরের শিবচরের খাড়াকান্দি এলাকার রাজিব ফরাজীর কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা, মাকসুদুল সালেহীন ও সোহেল খানের থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত মানিক চন্দ্র দাস ওই ব্যক্তিদের চাকরি দিতে না পারায় বিভিন্ন অজুহাতে আত্মসাৎ করা টাকা আজ-কাল দেবে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এর মধ্যে অভিযুক্তের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি শনিবার (০৬ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান এবং সুনাম দারুনভাবে ক্ষুণ্ন হয়।

অভিযুক্তের স্ত্রী মানিক চন্দ্র দাস স্বনামধন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সহকারী হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সেকশন অফিসার পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান এবং ঐতিহ্যের কথা না ভেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতারণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে কাজে লাগিয়ে অসুদুপায় অবলম্বন করে টাকা আত্মসাৎ করে।

 

এরই মধ্যে ফোনালাপ ফাঁস ও কর্মচারী নিয়োগে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। কমিটিতে আমানত হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নির্মল কুমার সাহাকে আহ্বায়ক, সহকারী প্রক্টর মো. আহসানুল কবীর, ডেপুটি রেজিস্ট্রার রশীদুল হায়দার জাবেদকে সদস্য ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ ফজলুল করিমকে সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে।

কমিটিকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার।

এর আগে গত ৩ মার্চ ফার্সি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত তিনটি অডিও ফাঁস হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণি পদে ১২ লাখ, চতুর্থ শ্রেণি পদে ৮ লাখ, অফিসার পদে ১৫ লাখ ও শিক্ষক নিয়োগে ১৬ লাখ টাকার ওপরে লেনদেন হয় বলে অডিও ক্লিপগুলোতে ওঠে আসে। এ ঘটনায় ৭ জুলাই উপাচার্যের সাবেক পিএস খালেদ মিসবাহুল মোকর রবীনকে পদাবনতি ও কর্মচারী আহমেদ হোসেনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।