চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন


CU Correspondent | Published: 2023-06-03 14:44:58 BdST | Updated: 2024-07-20 18:22:53 BdST

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও প্রক্টর অফিসে তালা দেওয়ার ঘটনায় ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২ জুন) উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার।

তিনি বলেন, বুধবার রাতে ঢাকা হোটেলে খাবার টেবিলে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় শাখা ছাত্রলীগের দুটি উপগ্রুপ সিক্সটি নাইন ও সিএফসি। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আলাওল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, সদস্য হিসেবে শাহ আমানত হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক নির্মল কুমার শাহা ও সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর হাসান মোহাম্মদ রোমান।

রাতের ঘটনার মিমাংসা না হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে আব্দুর বর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দানেশ মিয়া, সদস্য হিসেবে শাহ জালাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ও সদস্য সচিব হিসেবে সহকারী প্রক্টর মোর্শেদুল আলমকে রাখা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের সংঘর্ষ চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস এবং প্রক্টর অফিসে তালা দেয় একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন জাদুঘর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বশির আহাম্মদ, সদস্য প্রীতিলতা হলের প্রাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য সচিব গোপনীয় শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ ফজলুল করিমকে রাখা হয়েছে।

প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবেন। প্রতিবেদন সাপেক্ষে আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (৩১ মে) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হোটেলে খাবার খেতে গিয়ে দুই পক্ষের দুই কর্মীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার জেরে সেদিন রাতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় সিএফসির কর্মীরা শাহ আমানত হল ও সিক্সটি নাইনের কর্মীরা শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নেন। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হন চবি পুলিশ ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মিজানুর রহমান। প্রায় দেড় ঘণ্টা সংঘর্ষের পর রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে।

এর জেরেই বৃহস্পতিবার দুপুর একটা থেকে পুনরায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূরুল আজীম শিকদারও আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে জানিয়েছেন। এ সময় প্রক্টর ও পুলিশের সামনেই উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের রামদা, কিরিচ, রড, লাঠিসোঁটাসহ নানা দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় প্রক্টরিয়াল বডিকে। পরবর্তীতে র‍্যাব ও পুলিশের বিশেষ ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সেদিন মধ্যরাতে শাহজালাল হল এবং শাহ আমানত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ তল্লাশি চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র (লাঠি,স্ট্যাম্প,হকিস্টিক এবং রামদা) উদ্ধার করা হয়।