আলো হয়ে ফিরে এলেন আলোর দিশারী


ঢাকা | Published: 2023-05-17 17:45:00 BdST | Updated: 2024-06-16 12:22:43 BdST

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট রচিত হয় বাঙালী জাতির জন্য বিষাদময় হৃদয়বিদারক ও রক্তক্ষরণের ইতিহাস। এইদিনে স্বপরিবারে নির্মম হত্যার শিকার হলেন বাঙলী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব! তখন জাতীয় অস্তিত্বের সংকটে সমগ্র বাঙালী; মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার সাথে জার্মান থাকার সুবাদে স্বজন হারানোর শোক নিয়ে বেচেঁ রইলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। দুই বোনের কাছে চিরচেনা মানুষগুলো তখন নিমিষেই অপরিচিত হয়ে উঠলো। মহা সংকটের অথৈ সাগরে তখন পিতামাতা হারা দুই কন্যা!!

সেই সংকটের ভিতরেই ছোট বোন শেখ রেহানা; স্বামী ওয়াজেদ মিয়া এবং দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে শুরু করলেন সংগ্রামী জীবন শেখ হাসিনা। অনেক সংগ্রাম ত্যাগ ও প্রতীক্ষার পরে ২৪শে আগষ্ট এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে দিল্লীর পালাম বিমানবন্দর এসে পৌছান তিনি। সেখানকার প্রায় র্নিবাসিত কষ্টসাধ্য জীবনের ছয়টি বছর পার করে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে আজকের এই দিনে শেখ হাসিনা ফিরে আসেন তার প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশে। সকল বাধা ও ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিঁড়ে সেদিনের সেই গগণ বিদারী মেঘের গর্জন, ঝড়-ঝাঞ্ঝা ও বিক্ষুব্ধ প্রকৃতি যেনো গর্জে উঠেছিল বঙ্গকন্যার আগমনে। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লী থেকে কলকাতা হয়ে সেদিন ঢাকার কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বঙ্গকন্যাকে নিয়ে।

সেইদিন সমগ্র বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনতার ঢল নামে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের পথে বঙ্গকন্যাকে এক নজর দেখার জন্য ! বঙ্গকন্যার আগমনে সেইদিন সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী লাখো কণ্ঠের শ্লোগানে গর্জে ওঠে গোটা বিমানবন্দর এলাকা।

১৯৮১ সালের এইদিনে দেশে ফিরে আসেন আজকের প্রধানমন্ত্রী আধুনিক বাংলার রুপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে বিমানবন্দরে লাখো জনতার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলার মানুষের মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।” সেই থেকেই পথচলা শুরু ভাগ্যহত বাঙালীর মুক্তপথের আলোকবর্তিকা হয়ে।

৪২ বছর পূর্বে আজকের এইদিনে নিজমাটিতে পা রেখে বঙ্গবন্ধু তন্বয়া স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর হয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, “আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ছোটভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই।”

আপনার হাসিতে হেসে উঠুক প্রিয় স্বদেশ; প্রিয় বাংলাদেশ। আপনার দীর্ঘয়ু কামনা করি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলা বিনির্মাণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে।

জয় বাংলা; জয় বঙ্গবন্ধু।
জয়ী হোক আমাদের আশার বাতিঘর।

লেখক: ফুয়াদ হাসান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা