বাঙালীর মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা


ঢাকা | Published: 2023-06-07 13:28:36 BdST | Updated: 2024-04-14 15:14:26 BdST

৬ দফা দাবি ছিলো বাংলাদেশের একটি অনবদ্য ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা, ছয় দফা দাবি ছিলো মুক্তিকামী বাঙালীর মুক্তির সনদ।

১৯৬৬ সালের ৫ এবং ৬ই ফেব্রুয়ারী লাহোরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ছয়টি দফা উপস্থাপন করেন; যা ঐতিহাসিক ছয় দফা নামে পরিচিত।

চৌ'ঠা ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের লাহোরে পৌছান। তারপরদিন ৫ই ফেব্রুয়ারী তিনি ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন।

ছয় দফা দাবি উপস্থাপনের কারণে ৬ই ফেব্রুয়ারী পশ্চিম পাকিস্তানের তৎকালীন দৈনিক সংবাদ মাধ্যমগুলি বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসাবে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টাই লিপ্ত হয়। ফলে বঙ্গবন্ধু নিজেই ৬ই ফেব্রুয়ারীর অনুষ্ঠিত সম্মেলন বর্জন করেন।

১৯৬৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা প্রস্তাব এবং দাবিসমূহ আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের রুপরেখা এবং কর্মসূচি সংগৃহীত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাজউদ্দিন আহমদের ভূমিকা সম্বলিত ছয় দফা কর্মসূচির একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।

১৮ই মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে;
"আমাদের বাঁচার দাবিঃ৬-দফা কর্মসূচি" শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়। ছয় দফা কর্মসূচীর ভিত্তি ছিলো ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব।
সংঙ্গত কারনেই ;২৩ শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখেই।

ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্যঃ
পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেলরাষ্ট্র, ছয় দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে এই ফেডারেলরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে।

পরবর্তীকালে এই ছয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালী জাতির স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং আন্দোলন জোরদার হয়। বাংলাদেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই ছয় দফা এবং এই দফাগুলিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসহযোগ আন্দোলন অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থবহ ছিলো; তাই ছয় দফা দাবিকে "ম্যাগনাকার্টা" অথবা বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

১৯৬৬ সালের ৭ই জুন ছয় দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া, শফিক, শামসুল হক, মুজিবুল হকসহ মোট ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ সিলেটের মনু মিয়া।
সেই থেকে ৭ই জুন বাংলাদেশে ঐতিহাসিক "ছয় দফা" দিবস পালিত হচ্ছে। আজ ঐতিহাসিক ৭ই জুন; ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস।

ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস সফল হোক, সার্থক হোক।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু; বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

লেখক: ফুয়াদ হাসান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা