আটক ৫৪ শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে হাইকোর্ট অভিমুখে মিছিল


ঢাকা | Published: 2021-05-31 16:23:49 BdST | Updated: 2021-06-23 04:42:21 BdST

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদ করে ছাত্ররা ন্যায্য কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘আটককৃত ৫৪ জন শিক্ষার্থীই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’

সোমবার (৩১ মে) দুপুরে শাহবাগে ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিকবৃন্দ’র ব্যানারে ভারতের মোদির বাংলাদেশে আগমনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ মিছিল ও তার পরবর্তী সময়ে আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘পৃথিবীতে দুটি জালিম সরকার আছে। একটি হলো- নেতানিয়াহুর ইসরায়েল, অন্যটি নরেন্দ্র মোদির ভারত । তাই যখন নরেন্দ্র মোদি (বাংলাদেশে) এসেছে তখন ছাত্ররা প্রতিবাদ করে ন্যায্য কাজ করেছে। আটক ৫৪ জনসহ ছাত্ররাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তারাই উন্নত ভবিষ্যৎ দেখাতে পারে। নিজের স্বার্থেই আমি তাদের আন্দোলনে আসি।’

তিনি বলেন, ‘পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েলের নাম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না উনি কী রকম ভুল করছেন। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, জাতিকে একত্রিতভাবে উন্নতির পথে আসতে। প্রধানমন্ত্রীকে আমি অনেক বার বলেছি, সবাইকে ডাকেন, একত্রিত করেন কিন্তু উনি ডাকেননি। তিনি সত্যকে ভয় পান।’

আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘একটা জাতিকে ধ্বংস করতে তার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা প্রয়োজন। দয়া করে এটি করবেন না। দরকার হলে শিক্ষার্থীরা দুই বা তিন শিফটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাবে। তারপরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিন, না হলে জাতি সিকিমে পরিণত হবে। আর তার জন্য দায়ী হবেন আপনি।’

গত ২৫ মার্চ মোদিবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে গ্রেফতার হয়েছেন ইসমাইল হোসেন। সমাবেশে এসেছেন তার মা জাহানার ইমাম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ছোট মানুষ। সবাই মিছিল করে। মিছিল করা অপরাধ না। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমার ছেলের সামনে ফাইনাল পরীক্ষা, তাকে মুক্তি দেন।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এটি জালিম সরকার। মানবতার প্রতি তাদের কোনো কর্ণপাত নেই। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের ভালোবাসা নেই। দেশে সব চলে কিন্তু তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে আজকের এই সমাবেশে অনেক শিক্ষার্থী থাকতো। তাদের স্লোগানে সরকারের গদি কেঁপে যেত। তাই তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। আমাদের সব দাবি সরকারের কানে জোর করে ঢুকিয়ে দিতে হবে। যাতে মাথার যন্ত্রণায় তারা দাবি মানতে বাধ্য হয়।’

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মান্না বলেন, ‘সরকার পতনের বৃহত্তর আন্দোলন ছাড়া আমাদের অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবো না। চলেন সবাই একসাথে রাজপথে নামি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান বলেন, ‘হাসিনার পতন ছাড়া উপায় নেই। তরুণদের নেতৃত্বেই এই আন্দোলন করতে হবে। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি। আন্দোলন করতে গিয়ে যদি আমরা বৃদ্ধরা পিঠে গুলি খাই, আমাদের লাশ ফেলে দিয়ে চলে যাবেন। তারপরও এই আন্দোলন জারি রাখবেন।’

রাষ্ট্র চিন্তার সদস্য রাখাল রাহা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক মোদি আসাতে সেদিন যারা প্রতিবাদ করেছেন তারা সঠিক কাজ করেছেন। আর তাদের যারা নির্যাতন করেছে তাদেরকে মানুষ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনেনি। সুতরাং এই সরকার উৎখাত না করা পর্যন্ত জুলুম চলতে থাকবে। এই সরকারকে উৎখাত করেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করতে হবে।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দল না। যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা ছাত্র। আপনারা যারা রাজনৈতিক দল করেন আপনাদের এই ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ। ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে আমরা আগামীতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। সরকার এই ৫৪ শিক্ষার্থীদের যতদিন মুক্তি না দেবে ততদিন আমরা রাজপথে থাকবো।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (বীর প্রতীক) বলেন, ‘আমরা এখন তারুণ্যকে নিয়ে বাংলাদেশকে মুক্ত রাখার আন্দোলন করছি। ৭১ সালেও আমরা এজন্য যুদ্ধ করেছি।’

ছাত্র যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে আপনারা দৌঁড়াবেন, আমি হাঁটবো, আপনারা সামনে যাবেন, আমি পাশে থাকবো, পেছনে থাকবো না। সরকারকে অনুরোধ, ৫৪ শিক্ষার্থীদের জামিন দেয়ার ব্যবস্থা করুন। আমরা কারও দয়া মায়া চাচ্ছি না। আইনকে তার গতিতে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘মোদির বিরোধিতা করার পরিপূর্ণ অধিকার এ দেশের জনগণের আছে। এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। এ সরকার আলেম ওলামা ছাত্রদের ওপর নির্যাতন করছেন। বাংলার মানুষ আপনাদের ছাড়বে না। একদিন তারাই আপনাদের গলায় গামছা বেঁধে গদি থেকে নামাবে। সেদিনের অপেক্ষায় থাকুন।’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘আপনাদের দাবির প্রতি আমরা একাত্মতা পোষণ করছি। দাওয়াত দিলে সামনেও আমরা আপনাদের প্রোগ্রামে আসবো। সকলে মিলে এই সরকারকে উৎখাত করতে হবে।’

সমাবেশে ছাত্র, যুব, শ্রমিক অধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের সামনে অবস্থান নেয়।’