গয়েশ্বর ও মিন্টুর গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ


স্টাফ করেসপনডেন্ট | Published: 2023-01-17 00:24:58 BdST | Updated: 2023-02-03 15:50:32 BdST

মুক্তিযুদ্ধকে বাই চান্স বলে কটূক্তি ও অবমাননার অপরাধে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র ও আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ ১৬ জানুয়ারি সোমবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আব্দুল আউয়াল মিন্টুর কুশপুত্তলিকাদাহ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এর সঞ্চালনায় উক্ত কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরোও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুল মুকিম সন্টু, জয়নুল আবেদীন রোজ, সহ-সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ সুজনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যে সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল বলেন, "দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও সংবিধান সম্পর্কে কটূক্তি করার অপরাধে বিএনপির কুলাঙ্গার গয়েশ্বর চন্দ্র ও আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সবসময় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও সংবিধানের প্রশ্নে আপোষহীন। এরা স্বাধীনতা বিরোধীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্যই মুক্তিযুদ্ধের ভুল ইতিহাস উপস্থাপন করেছে যা ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাজাকারের দোসর গয়েশ্বর ও মিন্টুর বক্তব্য সংবিধানের ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম তফসিল ও অনুচ্ছেদ ৪ক লঙ্ঘন হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবিরের এজেন্ট পাকিস্তানী দালালের কলঙ্ক বাংলাদেশ বইতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কোন কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এদেরকে যেখানে পাবে সেখানেই গণধোলাই দিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিবে।"

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, "বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কোন ষড়যন্ত্র হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান সম্পর্কে বাই চান্স ওয়েতে জন্ম নেয়া দল বিএনপির দুই কুলাঙ্গার গয়েশ্বর চন্দ্র ও মানবপাচারকারী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে চরমভাবে দেশের সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। রাষ্ট্রের উচিত ছিল অনেক আগেই এদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা। দুঃখের বিষয় এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্র নীরব ভূমিকা পালন করছে যা কখনোই এদেশের জনগণ মেনে নিবে না। দেশের সকল মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কিন্তু স্বাধীন মত প্রকাশের নামে দেশের সংবিধান লঙ্ঘন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কটূক্তি করলে তা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মানুষরা কখনোই মেনে নিবে না। বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কেউ বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না। সম্প্রতি বিএনপির এক কর্মসূচীতে কুলাঙ্গার গয়েশ্বর চন্দ্র কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধকে বাই চান্স বলে আখ্যা দেয়া ও বিদেশে হাজার কোটি কোটি টাকা পাচারকারী আব্দুল আউয়াল মিন্টু কর্তৃক সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলার হুমকি দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করা হয়েছে। অবৈধ সামরিক শাসক জিয়ার হাত ধরে অবৈধভাবে বাই চান্স ওয়েতে জন্ম নেয়া সন্ত্রাসী দল বিএনপির দুই কুলাঙ্গার গয়েশ্বর ও মিন্টুকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এদেরকে ধরে শক্ত হাতে প্রতিহত করে ওদের বাপ-দাদার দেশ পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হবে। কুলাঙ্গার গয়েশ্বর ও মিন্টুর রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্য বিএনপির দলীয় বক্তব্য কিনা সেটা দ্রুত জাতির সামনে পরিস্কার করতে হবে। অন্যথায় বিএনপির রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচী পালন করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।"

সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, "১৯৪৭ সাল থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালীদের সকল আন্দোলনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্ত ছিলেন, নেতৃত্বও দিয়েছেন। তাঁর প্রদত্ত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিলে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পেছনে তাঁর অবদানসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামাতের দোসররা স্বাধীনতার ঘোষণা বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রয়াস চালালে সুপ্রীমকোর্ট এই মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫ম তফসিলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, ৬ষ্ঠ তফসিল বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা, ৭ম তফসিলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং উক্ত দলিলসমূহ সংবিধানের অংশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। তাছাড়া সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির কুলাঙ্গার গয়েশ্বর ও মিন্টুর বক্তব্য লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধান পরিপন্থী ও ইতিহাসের সুস্পষ্ট বিকৃতি। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এরা জাতির নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে এদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।"

বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার বলেন, "রাজাকারের দোসর গয়েশ্বর ও মিন্টুর এধরণের ন্যাক্কারজনক বক্তব্যের জন্য দুইভাবেই শাস্তি হতে পারে। এক সংবিধান লঙ্ঘনের অপরাধে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জন্য তাকে আইসিটি আইনেও গ্রেফতার করা যেতে পারে। অথচ সরকার বা প্রশাসন এখনো কোন আইনগত পদক্ষেপ নেই। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এই ষড়যন্ত্র বরদাশত করবে না। বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী কোন অপশক্তির জায়গা হবে না। আমরা অবিলম্বে এদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।"

উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন রোজ বলেন, "মহান মুক্তিযুদ্ধকে কটূক্তি ও সংবিধান অবমাননার অপরাধে গয়েশ্বর চন্দ্র ও আবদুল আউয়াল মিন্টুকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। সরকারের কাছে আহবান, সংবিধান লঙ্ঘন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও কটূক্তি করার অপরাধে এই রাজাকারের দোসরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আরোও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে।"

প্রেস রিলিজ

//