পদ্মা সেতুর ষড়যন্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগনেতা সৈকতের ব্যঙ্গাত্মক নাটক


Dhaka | Published: 2022-06-23 21:49:15 BdST | Updated: 2022-08-14 16:14:14 BdST

পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করে ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যঙ্গ করে রঙ্গরসাত্মক গীতিনাট্য পরিবেশন হবে রাজধানীতে। আগামীকাল শুক্রবার রাজধানীর ৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ নাটক পরিবেশন করবেন ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের দল। দেশের খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষদের তাদের অর্জিত সফলতার খবর দেওয়া এবং উদযাপনের আহ্বান করাসহ বিরোধিতাকারীদের ব্যঙ্গ করে এ গীতি নাট্য পরিবেশন করা হবে।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এই নদীগুলো একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়েছে অপরদিকে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগকে বিচ্ছিন্ন করেছে। এই বিচ্ছিন্নতার সংযুক্তি ঘটাতে নদীর বুকে নির্মিত হয়েছে অনেক সেতু। দক্ষিণবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ছিল প্রমত্তা পদ্মার বুকে একটি কাঙ্ক্ষিত সেতু। দক্ষিণ বঙ্গের কয়েক কোটি মানুষ প্রমত্তা পদ্মার ভুক্তভোগী। বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে নদীপথের যাত্রা। আবহাওয়া খারাপ থাকলে যতোই প্রয়োজন থাকুক, যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রিয়জনের মৃত্যুতেও এক পলক দেখতে যাওয়ার সুযোগ নেই। ঘাটে আটকে থেকে সময়মতো চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন বহু রোগী, ফ্লাইট মিস করেছেন বহু বিদেশগামী। এমন অসংখ্য বাস্তব গল্পের সাক্ষী দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। এজন্যই পদ্মা সেতুটা অনেকের কাছে কেবল কংক্রিটের সেতু হলেও দক্ষিণবঙ্গের কয়েক কোটি মানুষের কাছে এটি একটি স্বপ্ন, আবেগ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের অপেক্ষা শেষে স্বপ্নপূরণ।

পদ্মায় সেতু নির্মাণ ছিল এক কারিগরী মহাচ্যালেঞ্জ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যখন সেই চ্যালেঞ্জকে জয় করেই পদ্মার বুকে সেতু করার সিদ্ধান্ত নেয় তখন সেতুর বিশাল অর্থায়ন নিয়ে শুরু হয় যত যল্পনা-কল্পনা৷ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে কাল্পনিক ও মিথ্যা অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক থেকে শুরু করে বাকি বিনিয়োগকারীরা সরে গেলেও হার না মানা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা এবং প্রত্যয়ে এই সেতুর কাজ শুরু হয় দেশীয় অর্থায়নেই৷ তারই সাহসীকতার ফলশ্রুতিতে আজ পদ্মার বুকে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে আমাদের প্রাণের পদ্মা সেতু৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে এদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চাকাকে অধিকতর সচল রাখতে বিরামহীন কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করে চলেছেন। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তিনি সম্ভাব্য সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছেন; সুনিপুণ দক্ষতার সঙ্গে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন দেশের ইতিহাসে তেমনি এক অবিস্মরণীয় অর্জন, যা আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি-যোগাযোগ ব্যবস্থা-জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবং নগরায়নে রাখবে অনন্য ভূমিকা৷

বাংলার স্বাধীনতার বিপক্ষে যেমন ছিলো একদল অশুভ শক্তি এবং তাদের অপরাজনীতি, সেই অশুভ শক্তির তৎপরতা স্বাধীনতার এই পঞ্চাশোর্ধ্ব সময়েও থামেনি৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইস্পাত কঠিন দৃঢ় মনোবল আর প্রত্যয়ের কারণে যখন ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হলো সেতুর কাজ, এরপরও চলতে থাকলো অপশক্তিদের একের পর এক গুজবের ষড়যন্ত্র। সেতু জোড়া দিতে মানুষের মাথা লাগবে থেকে শুরু করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে হেলিকপ্টার কেনা পর্যন্ত গুজবের বেসাতি চলেছে সেতু হয়ে যাওয়ায় অন্তর্জ্বালায় ভুগতে থাকাদের। এই শুভক্ষণে অশুভ শক্তিকে আমরা রুখে দিতে চাই আমাদের শিল্পমনা প্রাণ দিয়ে৷

সকল ষড়যন্ত্র, গুজব রুখে দিয়ে স্বপ্ন, সাহস, অহমিকার পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে আগামী ২৫ তারিখে। দেশের এই উৎসবমুখর অর্জনে একটি দেশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে চাচ্ছি যার মাধ্যমে বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের কাছে এই উৎসবের বার্তা নিয়ে যেতে চাই৷ গ্রীক বিদ্রুপাত্মক নাটকের আদলে আমাদের দেশীয় লোকজ ধারায় তুলে ধরবো পদ্মাসেতু কেন্দ্রীক তথ্যভিত্তিক রঙ্গরসাত্মক গীতিনাট্য৷ পুরো পরিবেশনা জুড়ে থাকছে পদ্মা সেতু নিয়ে সকল স্বচ্ছ তথ্য, এর পেছনের ষড়যন্ত্রের কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপসমূহ এবং সর্বশেষ ২৫ জুন এর উদ্বোধন সংক্রান্ত বার্তা৷

আগামী ২৪ জুন শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকার জনবহুল বিভিন্ন এলাকায় এটি ধারাবাহিকভাবে পরিবেশিত হবে। এই পরিবেশনার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের খেটে খাওয়া প্রান্তীয় মানুষদেরকে তাদের অর্জিত সফলতার খবর দেয়া এবং উদযাপনের আহ্বান করা। সকল বাঁধা, চ্যালেঞ্জ ডিঙিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্মিত এ সেতু যে আমাদের সকল নাগরিকের একটি অর্জন, গৌরব সেটিকে তুলে ধরা, প্রচার করাই এই পরিবেশনার মূল নির্যাস। এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনে থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক সংস্কৃতিমনা শিক্ষার্থী৷


সময়সূচি

সকাল ১০টা - কারওয়ান বাজার (সিএ ভবনের পাশের রাস্তা)

সকাল ১১টা - যাত্রাবাড়ী (জনপথ মোড়)

দুপুর ১২টা - কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন

বিকাল ৪টা - কার্জন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিকাল ৫টা- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার

বিকাল ৬টা- টিএসসি (রাজু ভাস্কর্য)